সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

মে, ২০২১ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

কেন নির্ঘুমতা!!

 গুটি গুটি পায়ে দুয়ারে এলো রাত্রি গাছের দীর্ঘ ছায়ায় রং মিলিয়ে, স্তব্ধ নগর তখন চাঁদিনী পোহায় অগোছালো চিকুর ঘাড়ে এলিয়ে। মত্ত নৈশব্দ ভোলায় দিনকে চোখে দেয় ঘুমের পরশ বুলিয়ে, নিশির ছোয়া লাগে পাপড়ি পাতায়, জাগে প্রিয়ার চাহনি; অভিমানী মুখ ফুলিয়ে। আমায় ডাকে তখন হলুদ জোনাকীদল বেদনার জলে মন ডোবাতে, নষ্ট  তপন মোছে সুখের কুয়াশা কষ্টের নীল রঙ্গে রাঙ্গাতে। বাতায়নে দেখি পুবের আকাশ; সেতারা খুলেনি তার দোর, আঁধারের মায়াজাল জগৎ জুড়ে অমানিশার প্রমত্ত ঘোর। নিরবে বহে সময়, দীঘল তটিনী  অদ্ভুত স্বাদ তার নোনাজল, হৃদয়ে দোল খায় চেপে রাখা কথা ঝরে ফুল, নিয়তির হিজল। ত্রিকাল এখানে হয় একারকার অতীত, ভবিষ্য আর বর্তমান; হারানো সুর বাজে গহীন বনে কাল জুড়ে মগ্ন দ্রোহের জয়গান। কি চাহ রজনী?  কেন অমন মায়াবী তোমার ঘোর?? কেন চোখে ঢালো নির্ঘুমতা! হৃদয়কে হরন কর মোর!!

ভুলে যেও আমায়!!

 ভুলে যেও আমায়  ভেবে থাকো যদিশুধুই একটি ঝরা পাতা, মনে রেখো আমায় যদি ভেবে থাকো একটি স্মৃতির খেরো খাতা। আমি এক আজন্ম পথিক জিবন পথের বাঁকগুলোই আমার ঘর, গন্তব্য যার নেই জানা স্বপ্নগুলো যেন মরীচিকা কিংবা বালুচর। পথে পথে কতজনকে চিনি বন্ধন গড়ে কত আপনজন, হারায় আবার কত চেনামুখ চিড়ে যায় সহস্র- শত বন্ধন। তবু পথ চলতে হয় কাল-মহাকালের কক্ষপথে, বারেক ফিরে তাকিয়ো যদি দেখা হয় কভু জিবনের পথে।

জীবনের অণুগল্প

 সন্ধ্যেয় যখন খিদে পেল তখন ম্যানি ব্যাগ থাতড়ে দেখি আছে মাত্র পাঁচ টাকার একটি নোট। আবাক হলাম, সত্যিই কি আর টাকা নেই পকেটে। ম্যানিব্যাগের চিপাগুলো সব খুঁজলাম। না, ম্যানিব্যাগ আমাকে হতাশ করে নি, কারন, এক চিপায় পাঁচ টাকার একটা আধুলি খুজে পেলাম। যাক, অবশেষে আজ রাত আর কাল সকালের জন্য এই দশ টাকাকেই বাজেট হিসেবে ঘোষনা করলাম। কিন্তু দশ টাকায় এমন কি পাওয়া যাবে যে দু'বেলা চালিয়ে যাওয়া যায়? ন, এমন তো কিছুই মিলবে না। তাহলে উপায়? মনে পড়ল, পুরোনো ব্যাংকটাতে কিছু টাকা সঞ্চিত থাকতে পারে। শূণ্য বডিস্প্রের টিনের কৌটা দিয়ে বানানো ব্যাংকটা কেটে মাত্র চারটি টাকা পেলাম। ভাগ্য আমাকে সত্যি হতাশ করলো। যাক, সর্বমোট চৌদ্দ টাকা নিয়ে হলের দোকানে গেলাম এই টাকায় হয়ত মুড়ি ২৫০ গ্রাম পাওয়া যেতে পারে এই আশায়। কিন্তু দিকানীও হতাশ করলো। জানালো সে খোলা মুড়ি বিক্রি করে না। ছোট পাউ রুটির প্যাকেটটার দিকে নজর গেলো। জানালো দাম ১২ টাকা। যাক, এবার জ্বিবে জল এলো। দাম চুকাতে পকেটে হাত দিলাম। গুণে টাকা দিতে গিয়ে চক্ষু চড়াক গাছ হয়ে গেলো। যে আধুলিটাকে পাঁচ টাকা মনে হয়েছিলো সেটি আসলে ২টাকার আধূলি। কি অদ্ভুত আমার ভাগ্য! যাক, দোকানিকে...

চেনা শহরে অচেনা আগন্তুক হয়ে

 এই চেনা শহরটি একদিন অচেনা হয়ে যাবে, কখনো ভাবি নি। মনে হয় নি কখনো, এই নগরীতে আমার পদচারনাগুলো একটি পথের কবিতা হয়ে উঠবে; কিংবা হয়ে উঠবে অবেলায় আনমনে মনে পড়া কিছু বিক্ষিপ্ত স্মৃতির গল্প। ক'টি বৎসরই বা গেল? মাত্র তিন-তিনটি . . . . এরি মধ্য ঘটে যায়নি কোন লাল পতাকার রুশ বিপ্লব, অাছড়ে পড়েনি কোন রণতরী কনস্টান্টিনোপলের পোতাশ্রয়ে। অথচ. . . . . সেই আমি আজ; এই নগরীর বুকে যেন একজন অচেনা আগন্তুক! চকবাজারের মোড়টি এখনো স্পষ্ট মানস্পটে, স্মৃতির পাতায় এখনো ঝকঝকে রাহাত্তার পুল, চট্টেশ্বরী, আন্দরকিল্লা, লালখান বাজার। জিবনের শ্লোগানে কোন এক সময় কেপেঁছিলো অনিরুদ্ধ চট্টলার রাজপথ! বিকেল কেটে সন্ধায় গড়িয়েছিলো কর্ণফুলীর তটে আড্ডার আসর! আজ তবু আমি এই নগরীতে একজন অচেনা আগন্তুক!!!

দ্রোহ

 যে নদীর জল নেই যে নদীর কুল নেই আছে শুধু উত্তাল বিক্ষুদ্ধ আনিতকার ঢেউ, ক্ষণে ক্ষণে আছড়ে পড়ে      আর পোতাশ্রয়  কাঁপে ঝড়- ঝাঞ্চায়।  সে হলো আমার বক্ষ! সে হলো আমার হৃদয়!!     বিশ্ব মানচিত্র আজ রক্তে ভেঁজা মানবতার পলেস্তারা খসে মৃত্যু উঁকি দেয় মেঘের ঝাপটায় উড়ে যায় সুখ-নিয়তি, বন্য উগ্র শেয়াল তছনছ করে দেয় শান্তির নিবিড় জনপদ।। নরখাদকেরা খাবলে খায় নবজাতকের মাংস; সদ্য যে জন্ম নিয়েছে অথচ কানে আযান হয় নি এখনো! মানবতার ধর্ষকরা মেতে উঠে ঘৃণ্য উল্লাসে; স্বাধীন ভূ-খন্ডের সার্বভৌমত্ব হরণ তাদের কাছে নিতান্তই বিনোদনের উপকরণ। মম পাতাকা আদিম হয়ে যায় দুঃখের পায়রা নামে উঠোনে জগৎ- বৈষম্যে দ্রোহ চাপে ক্রোধানল ঝরে নয়নে। তবু স্বপ্ন দেখি একদিন উপনিবেশবাদ উপড়ে পড়বে স্বাধীন সভ্যতার ঝড়ে, মুক্তি পাবে মানবতা সাজবে বিশ্ব নবীন বরে।  

ধূসরের সাথে বসবাস

 আধেক জিবন কেটেছে ধূলোয় বাকিটা কি যাবে ধূসরে? আঁধারমুখোর ঘোমটা তলে কেন দুঃখ সাজাও, আপন পসরে। যা কিছু ছিলো মায়ার ডুবে গেছে তিমিরে, চেনা স্বর অচেনা হয়েছে হারিয়ে গেছে ভীড়ে। একদা নিরন্নে যা ছিলো অন্ন অদ্য অবেলায় তা হলো বিপন্ন। পথের ধূলোকে কেনে বন্ধু ভাবো অথচ সফর ফুরালেই গল্প শেষ, স্মৃতি পুড়িয়ে গড়ো অরণ্য বহ্নি ছাইটুকুই শেষ মিলে বেশ।

দিন হারালে কেন কাঁদি

 পুরোনো স্মৃতির গন্ধ শুঁকে অতীতকে টেনে আনা নিত্য আমার কাজ। দিনগুলো কেন হেলায় হারালো, ধূলোয় কেন মিশে গেল আমার পদচিহ্নগুলো! তাই খুঁজে পেতে চেষ্টা করি। অতীতের সাথে আলাপন বড্ড মধুর তবে আবার বেদনাদায়কও বটে। ধরুন ফুলার রোডটা দিয়েই হাঁটছি, আজ থেকে চার-চারটে বছর আগে এমন দিনটাতে কার যেন এখানে এসেছিলাম, কোন বন্ধুটির সাথে যেন রাতজাগা পাখি হয়ে গান ধরেছিলাম "এমন যদি হতো, আমি পাখির মতো..." পুরোনোরা জলজ্যান্ত হয়ে ফেরে বর্তমানের আলাপনে। ভিসি চত্তরে বসে আকাশের দিকে তাকিয়ে মেঘের ছুটোছুটি দেখি; এখুনি যেন মেঘ ধরে যাবে আকাশে, তবে বৃষ্টি হবে হবে বলে আর হয় না, অথচ ভার্সিটি ১ম বর্ষে এমন দিনে বন্ধুদের সাথে দল বেধে ভিজে ছিলাম। তরপর অনেক বৃষ্টি দেখে ভেজার সখ জেগেছিলো, কিন্তু ততদিনে কোল্ড এনার্জি ধরে যাওয়ার আর বৃষ্টিতে ভেজার সাহস করি নি, অথচ দিনগুলো ঠিকই চলে গেলো! সোশ্যাল সাইন্স চত্তর এখন পরোটাই ফাঁকা, ফাঁকা সর্বদা জনাকীর্ণ থাকা সেন্ট্রাল লাইব্রেরিটাও। এই লাইব্রেরি! এই শ্যাডো! কত্তো বন্ধু! কত্তো বিকেল! কত্তো গল্প অতীত হয়েছে এখানে! দিনগুলো এভাবেই হারিয়ে যাবে জানতে পারলে সেই বন্ধুদের সাথে সীট দেয়ানেয়া ইত্...

পুরোনো শহরের খসে পড়া পলেস্তারা

 পুরোনো শহরটাতে এসো না আর, স্মৃতির উদ্ধত ঢেউ তোমায় ভাসিয়ে নেবে। সমুদ্র সিংহলের চাপা গর্জন আর কালের ত্রাহি রব এখানে নিবাস গেড়ে আছে অনাদি বসম্ত ধরে। মলিন খেরোখাতাটা খুলো না ফের, হস্তস্পর্শে শব্দগুলো জেগে উঠবে। প্রেয়সি হারানোর অব্যক্ত ব্যাথা, আড্ডামুখর বিকেলের প্রিয় কথা, বন্ধুর চাহনিতে অট্টহাসিটা.. ফিরে পেতে চাইবে তার যৌবন তরঙ্গ। সময় নিরবধি বইছে, বহুক; তুমি তো উজান পথিক! অস্তালয়ে চলছে দিনের পিদুম পশ্চাতে জাগে অথৈ জল হারনো বেলা ভেবে কেঁদো না তবু জলধিতে তার নেই তল।

পাখিটির নাম "বৌ কথা কও"

 ঢাকায় পাখির ডাক বলেতে কাকের কার্কশ কা-কা কিংবা চড়ুইয়ের কিচির-মিচির শব্দ শোনা যায়, এর বাহিরে কদাচিৎ ভোরে দোয়েলের শিস মেলে ভাগ্যজোরে। কিন্তু গ্রামে এলে শোনা যায় হাজারো পাখির হাজারো রকম কুঞ্জন; দোয়েলের শিস, শালিকের ডাক, বাসন্তি কোকিলের কুহু কুহু, ঘুঘুর পানসে কান্না, হুতোম পেচার ভৌতিক চাপা স্বরসহ নাম জানা -অজানা অসংখ্য পাখির ডাক। তবে এসব কিছুর মধ্যে ব্যতিক্রম লাগে "বৌ কথা কও" পাখিটির ডাক। মানুষ্য কান্নার মতো করুন একটি স্বরে ডাকে এই পাখিটি। শহুরে আবহে, ঢাকায়-চট্টগ্রাম বা অন্য কোথাও এই পাখিটির ডাক খুব একটা শুনতে পাই না, কিন্তু আমাদের গ্রামে রোজই শুনতে পাওয়া যায়। ছোটবলায় এই পাখিটির ডাক নিয়ে খুব কৌতুহল ছিলো। খুব কান পেতে শুনতাম "কেমন করে ডাকে পাখিটি" এবং স্বর মেলানোর চেষ্টা করতাম। প্রথমটায় মনে হতো "হোকো তোকো" কিন্তু পরে মনে হতো, না অন্য কিছু বলছে। অন্যদের কাছে জানতে চাইলাম। বুড়োরা কেউ বললো পাখিটি "হক কথা কও" বলে ডাকে , ছেলেরা বললো "বৌ কথা কও" বলে ডাকে পাখটি, কারন তার বৌ হারিয়ে গিয়েছে। স্বরটা মেলালাম, হ্যাঁ, সত্যি তো! স্বরটা মিলে গেছে.. মনে হচ্...

অহেতুক বিকেল!

তেপান্তর ছাড়িয়ে দুরের সেতু নিচে অজস্র জলের কলতান, আরো বহুদুরে মেঘে ঘেরা কালো আকাশ, আর সন্ধ্যার মৌন আহ্বান। অপ্রসন্ন রিক্ত গোধূলী ছন্দহীন হয়ে নামে ধূসর পদ্য, গেয়ে যায় যখন পথের প্যাঁচালী কক্ষপথচ্যুত হয় জিবন-গদ্য। নিয়তিরা যেন অবাঞ্চিত প্রজ্ঞাপন স্বপ্নরা থেকে যায় অধরা, হাতছানী দেয় তবু নতুন গল্প জাগে বেঁচে থাকার প্রয়োল্লাস; বাঁধনহারা।

নস্টালজিয়া

 জাগরুক হয়ে থাকুক স্মৃতিগুলো পুরোনো, অমলিন কথা আর দিনগুলো হারানো। চেনা স্বর প্রিয় মুখ প্রাণ-আত্মার বন্ধন, না হোক আগোচর; বিরহের ক্রন্দন। মনে পড়ে শত কথা উদাসী এই বিকেলে, হারানো বেলা আবেলা আর প্রিয়সখা সকলে। কালের পুরাণ বাজে নষ্টালজিয়া গানে, ভরা জল কড়া নাড়ে বেদনাহত প্রাণে। দিন আসে দিন হারায় কালের নিরন্তর ধারায়, জেগে থাকে প্রিয় কথা অমলিন খেরোখাতায়।

ছবিঃ দ্বন্দ্ব

 অদ্ভুত তোমার প্রসূত কবিতা না মেলে অন্ত্যমিল না মেলে ছন্দ, খসড়া কাগজে কালি ছড়িয়ে পড়ে শব্দ প্রতিশব্দে লাগে দ্বন্দ।

একদিন প্রেমদূত হয়ে..

   বিসিএস রিটেন পড়ছি; কিন্তু কি ছাইপাস পড়ছি তা ঠাহর না পেলেও গা গিটগিট করে উঠলে টের পাই চা পানের সময় হয়ে গিয়েছে। এক দুপুরে চা পানের জন্য জিয়া হলে গেলাম। সেখানে হালিমের সাথে দেখা। হালিম প্রতিষ্ঠানের ছোটভাই; দেখাও হলো অনেক দিন পর, তাই সহসাই অতীত-বর্তমান আবর্তের গল্প জমে উঠলো। হালিম হঠাৎ বলে উঠলো "ভাই! রায়হানের রিলেশনটা তো পাক্কা হয়ে গেলো শেষে"। "কোন রায়হান?" প্রশ্ন তুলে পরিচিত বেশ কয়েকটা রায়হানের মধ্যে তাকে চিহ্নিত করার চেষ্টা করলাম।  "ভুলে গেলেন? হালিশহরের রায়হান। বছর দুয়েক আগে ঈদের দিনে আপনি, শফিক আর রায়হান মিলে একট আপুর বাড়িতে দাওয়াত খেতে গিয়েছিলেন ফতেয়াবাদ। রায়হান তো আপনার কথা খুব বলে"  গল্পের প্রজ্ঞান বলে দিতেই বাকিটুকুর পাঠোদ্ধার করতে আর দেরী হলো না।  বছর দুয়েক আগের ঈদুল ফিতরের কথা। বাসায় সিদ্ধান্ত হলো এই ঈদে গ্রামের বাড়ি চাঁদপুর যাচ্ছি না, চট্টগ্রামেই করছি। সাথে আমার সিদ্ধান্তটাও পাকা করলাম "ঈদের দুই দিন লম্বা ঘুম দিচ্ছি, কারন আত্মীয়-কুটুম  কেউ কোথাও নেই এই শহরে।" ঈদের দিন নামাযের পর অর্ধ- যুগের সহপাঠী শফিক ফোন দিয়ে জানালো বিকেলে বাসায় আসছে ...

মনজিল কতো দুর?

 শেষ মোহাফেজখানাটা পেছনে ফেলেছি বহু আগেই! এখন পথ চলছি নিরন্তর। উপরে মেঘ-ছায়া- রোদ্দুর দাগ কাটছে আর নিচে নিক্কণ ধ্বনি তুলছে পাথুরে মাটিতে সওয়ারী পদতলে পাথর ভেঙে টকরো হয়ে যাওয়ার শব্দ। বড্ড দুর্গম পথ! নেই কোন মাইলপোস্ট, না কোন  নিশান। দিন-কাল কতো পেরোচ্ছি তা জানার সাধ্যি নেই; প্রতিটি রজনী শেষে অরুণোদয়কে সাক্ষী রেখে শপথ নিই নতুন দিনটি গুজরানোর , কাল গোনাটার সম্বল এটাই।  মনজিল কতো দুর? 

আমার সবুজ গাঁ

  সূর্য পোড়া তপ্ত আকাশ নিচে এক টুকরো ভুখন্ড, গগনে উড়ে মেঘের ভেলা দল বেঁধে খন্ড খন্ড। ভোরে ঘুম ভাঙ্গে তকবিরে সায়াহ্ন নামে কুয়াশায়, সহস্র বঙ্গজনের বসবাস দিন কাটে আশা নিরাশায়। চার দিকে ক্ষেত-বাগান কালচে সবুজের অরণ্য পুইয়ের মাচায় শীস দেয় পাখি উকি দেয় শেয়াল বন্য। তবে এ অরণ্যে আলো নেই আছে জোনাকির ছায়া, প্রিয়ার চোখের জোস্না নেই আছে মাতৃত্বের পরম মায়া। হলুদ বরণ নদী নেই আছে সবুজ-নীলের কুঞ্জ, ত্রিযমার হাতে আঁধার নেই চাঁদিনী-ধবল রাত্রির গঞ্জ। আমার প্রিয় ছোট্ট গাঁ চির সবুজের অরণ্য, রূপসী বঙ্গের আশীর্বাদে হয়েছে চির ধন্য।

যদি আমার হতি!

 অবিরল জলের মতো তরল তোমার মন সে জলে পদ্ম ভাসায় নানান-হরেক জন তবু হৃদয় মাঝারে ঢেউ জাগায় আকুল মিনতি "অমন মীনাক্ষী আর ঠোঁটজোড়; ইস! যদি আমার হতি!!" তুই যদি হতি মোর দুঃখের স্বজন লুকিয়ে রাখা চিরকুটে; বিরহী ক্রন্দন। হৃদয়ের আয়নায় ঢেকে রাখা মুখ ভাবনায় মেলে ধরা সুখের অসুখ। তবে আকাশ থেকে মেঘ ছিড়ে; পরিয়ে দিতাম তোর পদযুগলে, রূপোর নুপুর হতো তারা, বজ্র বাজিত তোর চলনে। তুই যদি হতি মোর রক্তকরবী, গগনের নিকুঞ্জে ফোটা মঞ্জরী। তবে নীলিমার নীল কেড়ে,রোদের ছায়ায়, বুনে দিতাম নীল শাড়ি, হাতের ছোয়ায়। তুই হইতি নীলাঞ্জনা,  মোর কুঞ্জবনে।।

তোমার বহমান শৈশব

 একালে তোমার শৈশবে আমি আজি ধন্য অথচ শ্রীহীন নিয়তি আমাকে করেছে বন্য নিরবে বহিয়া যায় ঢেউহীন ফোরাতের জল কি জানি কী হবে জিবনে? ভেবে পাই না বল। বছর কুড়ি পরে যদি কভু পুরোনো খাতা খুলে  চোখে পড়ে আজিকের ছবিখানি; নিতান্ত মনের ভুলে সেদিনও নেত্রদ্বয় কইবে কথা- জড় জিবনের দুঃখের অপলাপ কাহাকে বলে জলন্ত অঙ্গার চেপে হৃদয়ে কেনে হাসি ফোটে নয়ন কোণে, কেনে নিদ্রা নিভে যায় রজনী দ্বিপ্রহরে। একদিন; যেদিন বড় হইবে বুঝিবে সুখ-দুঃখ-ব্যাথা, তবে একদিন; কুড়াইয়ো গহীন কালের পাতা; খুঁজে ফিরে মলিন খাতা। তথন অতীতে ঝাপি হতে উঁকি দিবো এই আমি, মলিন বদনে অর্ধমৃত হাসি; আর আমার কোলজুড়ে তোমার চিরসবুজ শৈশব।