পুরোনো স্মৃতির গন্ধ শুঁকে অতীতকে টেনে আনা নিত্য আমার কাজ। দিনগুলো কেন হেলায় হারালো, ধূলোয় কেন মিশে গেল আমার পদচিহ্নগুলো! তাই খুঁজে পেতে চেষ্টা করি। অতীতের সাথে আলাপন বড্ড মধুর তবে আবার বেদনাদায়কও বটে। ধরুন ফুলার রোডটা দিয়েই হাঁটছি, আজ থেকে চার-চারটে বছর আগে এমন দিনটাতে কার যেন এখানে এসেছিলাম, কোন বন্ধুটির সাথে যেন রাতজাগা পাখি হয়ে গান ধরেছিলাম "এমন যদি হতো, আমি পাখির মতো..." পুরোনোরা জলজ্যান্ত হয়ে ফেরে বর্তমানের আলাপনে। ভিসি চত্তরে বসে আকাশের দিকে তাকিয়ে মেঘের ছুটোছুটি দেখি; এখুনি যেন মেঘ ধরে যাবে আকাশে, তবে বৃষ্টি হবে হবে বলে আর হয় না, অথচ ভার্সিটি ১ম বর্ষে এমন দিনে বন্ধুদের সাথে দল বেধে ভিজে ছিলাম। তরপর অনেক বৃষ্টি দেখে ভেজার সখ জেগেছিলো, কিন্তু ততদিনে কোল্ড এনার্জি ধরে যাওয়ার আর বৃষ্টিতে ভেজার সাহস করি নি, অথচ দিনগুলো ঠিকই চলে গেলো! সোশ্যাল সাইন্স চত্তর এখন পরোটাই ফাঁকা, ফাঁকা সর্বদা জনাকীর্ণ থাকা সেন্ট্রাল লাইব্রেরিটাও।
এই লাইব্রেরি! এই শ্যাডো! কত্তো বন্ধু! কত্তো বিকেল! কত্তো গল্প অতীত হয়েছে এখানে! দিনগুলো এভাবেই হারিয়ে যাবে জানতে পারলে সেই বন্ধুদের সাথে সীট দেয়ানেয়া ইত্যাদি নিয়ে লুকোচুরি না খেলে আরো কটাদিন জমিয়ে আড্ডা দিতাম, চা খেতাম দল বেঁধে, আরো কিছু রাত জেগে ঘুরে দেখতাম রাতের ক্যাম্পাসটাকে অন্য আলো সে কতোটা মধুর দেখায়। কে যেন সোস্যাল সাইন্স চত্তরের ফুডকোর্ট হতো দই ফুসকা খাইয়েছিলো! চরম লেগেছিলো সেই দই-ফুসকা! আজো মাঝে মাঝে খেতে আসি, তবে হারানো সেই দিনটাতে বসে ফুসকার বাটির সুন্দর একটা ছবি তুলে তারপর তিন-চার জনে এক প্লেট ভাগাভাগি করেই খেতে ইচ্ছে করে, আজকাল একবাটি দই-ফুসকা একাই সাবাড় করি, কিন্তু সেই স্বাদটি আর খুঁজে পাই না। ক্যাপাসের দিনগুলো বড্ড এলোমেলো কাটিয়েছিলাম, উল্লেখ করার মতো, স্মৃতি চারন করার মতো গল্প খুব কম আছে ঝুড়িতে, তাই কিছু মিছেমিছি গল্পও কখনো বাড়িয়ে বলে পুরে দেই গল্পে, একবারে বেহুদাই একটা লাইন ঢুকিয়ে দেই কবিতার মাঝখানে, শুধু অন্ত্যমিল মেলানোর জন্য। মাঝে মাঝে নিজের ব্যাপারেও খুব বাড়িয়ে বলি," এটা পারি, সেটা পারতাম!" জাস্ট নিজেকে সান্তনা দেয়ার জন্য, আর বাস্তবতা হলো সবই তর্জন-গর্জন সার।
পুরোনো বন্ধুদের কাউকে মাঝে মাঝেই তীব্র জ্বালাতন করে ক্যাম্পাসে নিয়ে আসি, জলন্ত আকাশ থেকে সূর্যটা নেমে গেলে ক্যাম্পাসটা এক রাউন্ড দেই, কথায় কথায় আবারো অতীতের সাথে আলাপন! অথচ বড্ড অবাক হই, তার বা তাদের সাথে গল্পই করার মতো টপিকই নেই আমার হাতে। অনেক পরে গিয়ে মেশা হয়েছিলো তাদের সাথে, তত দিনে দিনের আলোরা ফিকে হয়ে গিয়েছিলো, সায়াহ্ন নেমে এসেছিলো কালের পাতায়। ভবিষ্যতকে এখনো কল্পনায় আনতে পারি নি, "আজ থেকে দুই-চারটা বছর পরে কেমন থাকবো! কোথায় থাকবো? কি করবো?" অথচ বেহুদাই স্মৃতিকাতরতায় বিরক্ত হয়ে নিজেকে নিজেই শুধাইঃ
"থাক না এসব কথা,কেন এ – সব কথা ,
এর চেয়ে অনেক ভালো চুপ করে থাকা ।"
আবার কখনো উল্টোটাও ভেবে বসি
"মাঝে মাঝে ভাবি, তোমার কাছেই ফিরে যাই,
কিন্তু তোমার মুখ কেন মনে পড়ে না!"
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন