রাতের নিরবতাকে খন্ডন করে ট্রেন ছুটে চলছে তার চিরায়ত ছন্দনাসিক ঝক-ঝকা-ঝক শব্দ তুলে, শহর-বন্দর-নগরীর প্রান্ত ঘেষে। ঢাকার মেঘলা আকাশ পেরিয়ে এসেছি বহু আগেই। এদিকটার আকাশ নীলে ভরা, মেঘমুক্ত। কবির আলপনায় চিত্রপটটাকে আকঁতে গেলে বলতে হয়: "নিলক্ষা আকাশ নীল, হাজার হাজার তারা ঐ নীলে অগণিত আর নিচে গ্রাম, গঞ্জ, হাট, জনপদ, লোকালয় আছে ঊনসত্তর হাজার। ধবলদুধের মতো জ্যোৎস্না তার ঢালিতেছে চাঁদ-পূর্ণিমার।" (কবিতা:নুরুলদীনের কথা মনে পড়ে) জিবনে অনেক কিছুই পারি আবার অনেক কিছুই পারি না। না পারার মধ্যে যে ব্যাপারটি খুব মনে লাগে, তা হলো গাইতে না পারা। স্বর খুব বাজে হওয়ায় কখনো লোকসম্মুখে গাই না, পাছে লোকেরা কাক সাথে আমার সাদৃশ্যতা খেঁজে ফেরে। আজ সারা রাত ঘুম হবে না। তাই এমূহুর্তে ট্রেনের দরজায় দাড়িয়ে আছি। পছন্দের কিছু গান অজান্তেই গেয়ে উঠছি। কারন, এখানে প্রকৃতি ব্যতীত আমার আর মানুষ্য শ্রোতা নেই, যে আমার গান শুনে বিরক্ত হবে অথবা বিনোদিত হয়ে দাত কেলিয়ে হাসবে। তদুপরি গানগুলোও মুখনিসৃত হওয়ার পূর্বেই ট্রেনের ঝক-ঝকা-ঝক শব্দের ভীড়ে হারিয়ে যাবে। সুতারং মন খুলে বারবার গাইছি সনু...