সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

জুলাই, ২০১৯ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

মেইল ট্রেনে এক চাঁদনী রাতে

রাতের নিরবতাকে খন্ডন করে ট্রেন ছুটে চলছে তার চিরায়ত ছন্দনাসিক ঝক-ঝকা-ঝক শব্দ তুলে, শহর-বন্দর-নগরীর প্রান্ত ঘেষে। ঢাকার মেঘলা আকাশ পেরিয়ে এসেছি বহু আগেই। এদিকটার আকাশ নীলে ভরা, মেঘমুক্ত। কবির আলপনায় চিত্রপটটাকে আকঁতে গেলে বলতে হয়: "নিলক্ষা আকাশ নীল, হাজার হাজার তারা ঐ নীলে অগণিত আর নিচে গ্রাম, গঞ্জ, হাট, জনপদ, লোকালয় আছে ঊনসত্তর হাজার। ধবলদুধের মতো জ্যোৎস্না তার ঢালিতেছে চাঁদ-পূর্ণিমার।"     (কবিতা:নুরুলদীনের কথা মনে পড়ে)   জিবনে অনেক কিছুই পারি আবার অনেক কিছুই পারি না। না পারার মধ্যে যে ব্যাপারটি খুব মনে লাগে, তা হলো গাইতে না পারা। স্বর খুব বাজে হওয়ায় কখনো লোকসম্মুখে গাই না, পাছে লোকেরা কাক সাথে আমার সাদৃশ্যতা খেঁজে ফেরে। আজ সারা রাত ঘুম হবে না। তাই এমূহুর্তে ট্রেনের দরজায় দাড়িয়ে আছি। পছন্দের  কিছু গান অজান্তেই গেয়ে উঠছি। কারন, এখানে প্রকৃতি ব্যতীত আমার আর মানুষ্য শ্রোতা নেই, যে আমার গান শুনে বিরক্ত হবে অথবা বিনোদিত হয়ে দাত কেলিয়ে হাসবে। তদুপরি গানগুলোও মুখনিসৃত হওয়ার পূর্বেই ট্রেনের ঝক-ঝকা-ঝক শব্দের ভীড়ে হারিয়ে যাবে। সুতারং মন খুলে বারবার গাইছি সনু...

ডাকঘর স্মৃতি!

মামাদের সবক'টাই বিদেশ থাকতো। ছোটবেলায় যখন নানু বাড়ি ছিলাম, তখন মোবাইল ফোন খুব একটা সহজলভ্য হয়ে উঠে নি, আজকের মতো ইমো-ভাইভারে কানেক্ট করলেই অপর প্রান্ত থেকে ফেস ভেসে উঠতো না। ফলে ডাকই যোগাযোগের একমাত্র ব্যবস্থা। হপ্তাআন্তে সাইকেল চালিয়ে চিঠিভর্তী ঝোলা নিয়ে খাকি পোষাকের রানার বাড়ি আসতো, নতুন চিঠি হাতে তুলে দিতো আর আনন্দে সবার মন ভরে যেতো। কখনো রানার আসায় গ্যাপ দিলে ছোট মামারা পোষ্ট অফিসে খোঁজ নিতে যেতেন। অবশ্য ছোট মামার নিত্য কাজই ছিলো মাদ্রাসায় যাওয়ার পথে চিঠি পোষ্ট করা বা নতুন চিঠির খোঁজ নেয়া। হালকা আকাশি খামের সেই চিঠি উড়ে আসতো দুর-পরবাস থেকে, তাতে সাঁটানো থাকতো নানান সুন্দর ডাকটিকেট, তা নিয়ে কাড়াকাড়ি পড়ে যেতো। জমানো ডাকটিকেট নিয়েই একসময় রচনা লিখতাম "my hobby"। মাঝে মাঝে হলদে খামের চিঠিও আসতো বর্গাকার সাইজের। হলদে খাম এলেই বুঝতাম, বাবা দিয়েছে। বড় হতে হতে  আমরা পড়ে যাই সেলফোন আর নেটিজেন প্রজন্মে, সুতরাং চিঠি লেখার সুযোগ খুব কমই মিলেছে। মনে পড়ে প্রথম (এবং সম্ভবত একমাত্র)  চিঠিটি লিখেছিলাম নানুর কাছেই। স্কুলে তখন চিঠি লেখা শিখাচ্ছিলো, বাবা হলদে খাম এনে দিয়ে বলেছিলেন ...

দিন ফুরানোর গল্প

দিন ফুরানোর গল্প বলা শুরু হলো। আজ ছিলো অনার্স জীবনের শেষ মিড টার্ম। পরীক্ষাটি নিয়ে বলার মতো বিশেষ  কিছু নেই, তবে গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত খুব কামনা করছিলাম পরীক্ষাটি যেন ক্যান্সেল হয়, যাতে ডাকাতিয়া\"র নৌবিহারে ও ইলিশভোজনে যেতে পারি, পরে কপালে আর ইলিশ ভোজন জুটলো না, জুটলো সাদা কাগজ। এবার বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের ১ম বর্ষে মিড ও আজকের সর্বশেষ মিডের একটা তুলনামূলক দৃশ্যপট তুলে ধরবো। ১ম বর্ষের মিড: স্যার যা পড়িয়েছেন ছেলেরা তার প্রায় প্রত্যেকটা টপিক ২/৩ বার করে নোট করে নিয়েছে। বড় ভাইদের কাছ থেকে প্রাপ্ত নোট আর গুগুল দুনিয়া কাপিয়ে লদ্ধ করা জ্ঞান তখন খাতা উপচে পড়ছে। পরীক্ষা হলে ঢুকার আগে দেখা গেলো, একদল মেধাবী জটলা থেকে দুরে দুরে অবস্থান করছে যদি আমার নোট কেউ পেয়ে যায়! আর কিছু কিছু বিদ্ধানকে ঘিরে বেশ কিছু জটলা বেধেছে, বিদ্ধান মশাই সবাই বলছেন "হ্যাঁ, এই পয়েন্টটা আসতে পারে। এটাকে এভাবে এভাবে লিখো।" কাটায় কাটায় পরীক্ষার ঘন্টা বাজতেই সবাই লেকচার-নোট সব ফেলে কালিমা-দুরুদ পড়তে পড়তে হল রুমে ঢুকলো। তীব্র উত্তেজনাকর  দেড়ঘন্টা পরীক্ষা শেষ হতে হতে সবাই  ঘর্মাক্ত হয়ে যায়। বের হয়ে এবার অন্য প্রলয় শ...

অপরিচিত পরিচিতা

অতঃপর সেই আমি আজ আবার চকবাজারের শাহেনশাহ মার্কেটের মোড়ে দাড়িয়ে, প্রায় তিন তিনটি বৎসর পর। কপালটা নেহাত খারাপই বলতে হয়, আর না হয়, এই তপ্ত প্রহরে বেহুদাই কেউ স্মৃতিমন্থন করতে বের হয়? সকাল ১০ টা বাজে, কিন্তু তাতেই রোদের যে তেজ! কাপালের ঘামসব কপোল চুয়ে ঝরছে, ঠিক যেভাবে অশ্রু গড়িয়ে পড়ে। বন্দরনগরী চট্টলার ব্যস্ততম এই মোড়টা আজো অনান্য দিনের মতই জনাকীর্ণ। ওদিকে চট্টগ্রাম কলেজ- মহসিন কলেজ এর ছাত্রীরা সাদা এপ্রোনটা স্টাইলবশত গায়ে না জড়িয়ে ঘাড়ে করে ঝুলিয়ে বেড়াচ্ছে, তাদের সিল্কি চুলগুলোতে সূর্যের কিরন লেগে কালছে-রুপালীভাবে চকচক করছে। ডানদিকে উঁকি দিচ্ছে অলিখাঁ মসজিদের পুরোনো মনুমেন্ট আদলে তৈরী সুরম্য গম্বুজ তিনটি। আর এদিকে লালচাঁদ রোড থেকে  পিপড়ার লাইনের মতো বেরুচ্ছে কোচিংগামী আনুজদের ঝাঁক।মোড়ের উপর ক্ষণিকের জন্য দাড়িয়ে থাকা মাহিন্দ্রাগুলো “মার্কেট, মার্কেট...আন্দরকিল্লা…আন্দরকিল্লা” বলে ডেকে ডেকে যাত্রী আকর্ষণ করার চেষ্টা করছে। রোদের তিব্রতা থেকে বাঁচতে শাহেনশাহ মার্কেটের নিচতলার বইয়ের দোকানগুলোর সামনে দাঁড়ালাম।সামনের মোড়ের দিকে তাকালাম। চোখ বাড়িয়ে দেখতে লাগলাম নগরীর হাঁকডাক আর ছুটে চলা ম...