অতঃপর সেই আমি আজ আবার চকবাজারের শাহেনশাহ মার্কেটের মোড়ে দাড়িয়ে, প্রায় তিন তিনটি বৎসর পর। কপালটা নেহাত খারাপই বলতে হয়, আর না হয়, এই তপ্ত প্রহরে বেহুদাই কেউ স্মৃতিমন্থন করতে বের হয়? সকাল ১০ টা বাজে, কিন্তু তাতেই রোদের যে তেজ! কাপালের ঘামসব কপোল চুয়ে ঝরছে, ঠিক যেভাবে অশ্রু গড়িয়ে পড়ে।
বন্দরনগরী চট্টলার ব্যস্ততম এই মোড়টা আজো অনান্য দিনের মতই জনাকীর্ণ। ওদিকে চট্টগ্রাম কলেজ- মহসিন কলেজ এর ছাত্রীরা সাদা এপ্রোনটা স্টাইলবশত গায়ে না জড়িয়ে ঘাড়ে করে ঝুলিয়ে বেড়াচ্ছে, তাদের সিল্কি চুলগুলোতে সূর্যের কিরন লেগে কালছে-রুপালীভাবে চকচক করছে। ডানদিকে উঁকি দিচ্ছে অলিখাঁ মসজিদের পুরোনো মনুমেন্ট আদলে তৈরী সুরম্য গম্বুজ তিনটি। আর এদিকে লালচাঁদ রোড থেকে পিপড়ার লাইনের মতো বেরুচ্ছে কোচিংগামী আনুজদের ঝাঁক।মোড়ের উপর ক্ষণিকের জন্য দাড়িয়ে থাকা মাহিন্দ্রাগুলো “মার্কেট, মার্কেট...আন্দরকিল্লা…আন্দরকিল্লা” বলে ডেকে ডেকে যাত্রী আকর্ষণ করার চেষ্টা করছে।
রোদের তিব্রতা থেকে বাঁচতে শাহেনশাহ মার্কেটের নিচতলার বইয়ের দোকানগুলোর সামনে দাঁড়ালাম।সামনের মোড়ের দিকে তাকালাম। চোখ বাড়িয়ে দেখতে লাগলাম নগরীর হাঁকডাক আর ছুটে চলা মানুষগুলোর ব্যস্ততা কিন্তু স্মৃতির ঝাপি থেকে অতীতকে খুঁজে বের করে মেলাতে লাগলাম সেই চকবাজার আর আজকের চকবাজারকে।একটুও বদল হয়নি মোড়টার, কমেনি কিংবা বাড়ে নি এর অনাদী ব্যস্ততা। তিন বৎসর আগে যেমন ছিলো আজো তেমনি আছে। মাত্র তিনটি বৎসরে কতোটুকুইবা বদলাবে? তবে হ্যাঁ, বদলে গেছে মানুষগুলো, বদলে গেছে পথের পথিকগুলো। কোথাও নেই আগের সেই চেনা মুখগুলো। কালের গল্পে সবাই যেন ফেরারী হয়ে গেছে কফি হাঊজের আড্ডার সেই গল্পের মতো, অথচ এই মোড়টি রয়ে গেছে তার পুরোনো ধারাপাতে । “সেই সাতজন নেই আজ টেবিলটা তবু আছে,
সাতটা পেয়ালা আজও খালি নেই,
একই সে বাগানে আজ এসেছে নতুন কুঁড়ি শুধু
সেই সেদিনের মালী নেই।”
এসএসসি পরীক্ষার সময় থেকে চকবাজার আমার পরিচিত হতে শুরু করে। প্রবাহে আকাদেমিক কোচিং, FM Method এ ইংলিশ কোর্স, আজীম স্যারের TOFEL, ফোকাসে ভার্সিটি কোচিং সবমিলিয়ে চকবাজার আসাটা তখন আমার নিত্যদিনের রুটিনমাফিক কাজ ছিলো। সকাল ১০ টা করে কাঁধে কোচিং এর ব্যাগ ঝুলিয়ে বাসা থেকে বের হতাম। বহদ্দারহাট এসে কচ্ছপের কল্লার মতো রাইডারগুলোতে উঠে স্ট্যান্ড ধরে বাঁদরের মতে চ্যাংদোলা হয়ে ঝুলে যেতাম। সিটে বসে যাওয়ার সৌভাগ্যটি কদাচিৎ মিলতো। চকবাজারের মোড়টা তখন চেনা মুখে ভরপুর ছিলো। এই কোচিংয়ের ফ্রেন্ড, ঐ কোচিং এর ব্যাচমেইট আরও কতো কি! অনেক সময় দ্রুত পাশ কাটিয়ে চলে যেতাম আড্ডায় দীর্ঘ সময় নষ্ট হয়ে যাওয়ার ভয়ে। আজ তিনটে বৎসর পর সেই মোড়টিতে দাড়িয়ে এদিক সেদিক তাকিয়ে চেনা মুখগুলোকে খুঁজছি, কিন্তু দৃষ্টির প্রসারতা যতটুকুই যাচ্ছে তাতে কোথাও নেই তারা, দেখা মিলছে শুধু ঘর্মাক্ত ললাটের আচেনা সব মুখ, যারা এসেছে জীবিকার টানে কিংবা স্বপ্নরঙ্গিন জিবনগল্পে প্রজাপতির মতো ডানা মেলে।
একেবারেই যে বেহুদা এসেছি তা কিন্তু নয়। গতকাল রাতে সেই এসএসসি সময়কার একাডেমিক কোচিং এর এক ঘনিষ্ঠ ব্যাচম্যাটের কাকতালীয় ফোন পেয়ে। চট্টগ্রামে এসেছি শুনে বল্ললো “বহুবছর দেখা নেই। চল! কাল তাহলে দেখা করি। চকবাজারে, সকাল ১০ টায়”। “হুমম! চল” বলে উত্তরে সায় দিয়েছিলাম। সময়ের কাঁটা গুনে গুনে ঠিক ১০ টায় চলে এলাম। মেপে এক ঘণ্টা দাড়িয়ে আছি। কিন্তু কোথাও তার দেখা নেই। গতকাল যে নাম্বারটা থেকে ফোন দিয়েছিলো সেটি অপরিচিত নম্বার ছিলো। সেভ করা হয় নি। ভেবেছিলাম পুরনো নাম্বারটাতে ফোন দিলেই পাব। কিন্তু না সেই নাম্বারটি বন্ধ। পুরনো কয়েক বন্ধুকে ফোন দিলাম। কিন্তু হতাশ হতে হলো। প্রায় সবকটি নাম্বার হয় বন্ধ নাহয় সুললিত নারী কণ্ঠে “আপনি যে নাম্বারটিতে কল দিয়েছেন, তা এই মুহূর্তে সংযোগ দেয়া সম্ভব নয়” কথাটিই ঘুরে ফিরে শুনিয়ে দিচ্ছে। কারন সময়ের সাথে সাথে হয়ত তাদের নাম্বারগুলোও বদলে গেছে আর আমার কন্টাক্ট লিস্টে তাদের নতুন নাম্বারটি নেই।
ঘণ্টা দেড়েক পর বোধ হলো তার আসার কোন সম্ভাবনা নেই, তখন ফেরার জন্য পা বাড়ালাম।বাসে ছড়লাম, তবে সিট নেই। পুরনো দিনগুলোর মতো স্ট্যান্ড ধরে বাঁদরের মতে চ্যাংদোলা হয়ে ঝুলে পড়লাম, পার্থক্য শুধু এটিই যে আজ কাঁধে কোচিংয়ের নীল ব্যাগটা ঝোলানো নেই। হটাৎ ডান দিকের সিটে বসে থাকা বাচ্ছা কোলে করা নারীর চোখ দুটোর দিকে চোখ যেতেই নজর আটকে গেলো। কাক কালো চোখের মনিজোড়া আর পাপড়িজোড়ায় কাজলের সরু রেখা টান!! মনে হলো এই কাজলরেখা চোখদুটো আমার বড্ড চেনা। সহসা মনে পড়ে গেলো। মুখ বাড়িয়ে বললাম “ হাই, তারিন। কেমন আছো?” ঘটনার আকস্মিকতায় সে ভকড়ে গেল, ঠিক যেভাবে মধ্যবিত্ত পরিবারের রক্ষণশীল নারীরা হটাৎ অপিরিচিত করো সামনে পড়লে ভকড়ে যায়। “চিনতে পার নি? আমি নাকীব। তোমার ক্লাসমেট ছিলাম” “ও হ্যাঁ, তুমি কেমন আসো?” জবাব এলো। তার কন্ঠে চেনা চেনা ভাবটা ফুটে উঠল। নবম-দশম শ্রেণীর কথা খুব মনে পড়ে গেলো। গায়ের রঙ কৃষ্ণ হলেও মেয়েটির কাজলরেখায় টানা কুচকুচে চোখদুটো অন্য রকম একটি মায়া লুকিয়ে ছিলো, আমার ভীষণ ভালো লাগত তার কাজলরেখা চোখ দুটো। ক্লাসে প্রায় ওর চোখদুটোর দিকে তাকিয়ে থাকতাম। সে ও প্রায় আমার দিকে তাকিয়ে থাকত। কিন্তু ভালো লাগাটা ঐ পর্যন্তই ছিলো, নানা কারনে তা আর ভালোবাসায় রুপ নেয় নি। সে তার পাশের যুবকটির সাথে পরিচয় করিয়ে দিলো তার স্বামী আর কোলেরটি তার সন্তান।যুবকটির সাথেও “হাই হ্যালো” হলো। কথা বলতে বলতে বাস বহদ্দারহাট পৌছে গেল এবং একসাথেই নামলাম, এবার তার প্রস্থানের পালা। সে ফেরার পথে পা বাড়াল সে পথটা ধরে, যেদিকে বহদ্দারহাঁট হতে কক্সবাজারমুখী পথটা সিটি কর্পরেশনের অর্থায়নে নির্মিত আতিকায় ক্লক টাওয়ারটাকে সাপের মতো কুন্ডুলী পাকিয়ে বেঁকে গেছে, আর আমি ফিরে চললাম তার ঠিক উল্টো দিকের পথটি ধরে, আমার গন্তব্যে। পথে পথে মনে পড়ল সময়ের আবর্তনে নগরীর চেনা মুখ গুলোর হারিয়ে যাওয়ার কথা, কালচক্রে পথ ও পথিকের গন্তব্য ভিন্ন হয়ে যাওয়ার কথা; আর মনে পড়ল সময়ের অগোচরে অপরিচিতা হয়ে যাওয়া পরিচিত একটি মেয়ের কথা।
বন্দরনগরী চট্টলার ব্যস্ততম এই মোড়টা আজো অনান্য দিনের মতই জনাকীর্ণ। ওদিকে চট্টগ্রাম কলেজ- মহসিন কলেজ এর ছাত্রীরা সাদা এপ্রোনটা স্টাইলবশত গায়ে না জড়িয়ে ঘাড়ে করে ঝুলিয়ে বেড়াচ্ছে, তাদের সিল্কি চুলগুলোতে সূর্যের কিরন লেগে কালছে-রুপালীভাবে চকচক করছে। ডানদিকে উঁকি দিচ্ছে অলিখাঁ মসজিদের পুরোনো মনুমেন্ট আদলে তৈরী সুরম্য গম্বুজ তিনটি। আর এদিকে লালচাঁদ রোড থেকে পিপড়ার লাইনের মতো বেরুচ্ছে কোচিংগামী আনুজদের ঝাঁক।মোড়ের উপর ক্ষণিকের জন্য দাড়িয়ে থাকা মাহিন্দ্রাগুলো “মার্কেট, মার্কেট...আন্দরকিল্লা…আন্দরকিল্লা” বলে ডেকে ডেকে যাত্রী আকর্ষণ করার চেষ্টা করছে।
রোদের তিব্রতা থেকে বাঁচতে শাহেনশাহ মার্কেটের নিচতলার বইয়ের দোকানগুলোর সামনে দাঁড়ালাম।সামনের মোড়ের দিকে তাকালাম। চোখ বাড়িয়ে দেখতে লাগলাম নগরীর হাঁকডাক আর ছুটে চলা মানুষগুলোর ব্যস্ততা কিন্তু স্মৃতির ঝাপি থেকে অতীতকে খুঁজে বের করে মেলাতে লাগলাম সেই চকবাজার আর আজকের চকবাজারকে।একটুও বদল হয়নি মোড়টার, কমেনি কিংবা বাড়ে নি এর অনাদী ব্যস্ততা। তিন বৎসর আগে যেমন ছিলো আজো তেমনি আছে। মাত্র তিনটি বৎসরে কতোটুকুইবা বদলাবে? তবে হ্যাঁ, বদলে গেছে মানুষগুলো, বদলে গেছে পথের পথিকগুলো। কোথাও নেই আগের সেই চেনা মুখগুলো। কালের গল্পে সবাই যেন ফেরারী হয়ে গেছে কফি হাঊজের আড্ডার সেই গল্পের মতো, অথচ এই মোড়টি রয়ে গেছে তার পুরোনো ধারাপাতে । “সেই সাতজন নেই আজ টেবিলটা তবু আছে,
সাতটা পেয়ালা আজও খালি নেই,
একই সে বাগানে আজ এসেছে নতুন কুঁড়ি শুধু
সেই সেদিনের মালী নেই।”
এসএসসি পরীক্ষার সময় থেকে চকবাজার আমার পরিচিত হতে শুরু করে। প্রবাহে আকাদেমিক কোচিং, FM Method এ ইংলিশ কোর্স, আজীম স্যারের TOFEL, ফোকাসে ভার্সিটি কোচিং সবমিলিয়ে চকবাজার আসাটা তখন আমার নিত্যদিনের রুটিনমাফিক কাজ ছিলো। সকাল ১০ টা করে কাঁধে কোচিং এর ব্যাগ ঝুলিয়ে বাসা থেকে বের হতাম। বহদ্দারহাট এসে কচ্ছপের কল্লার মতো রাইডারগুলোতে উঠে স্ট্যান্ড ধরে বাঁদরের মতে চ্যাংদোলা হয়ে ঝুলে যেতাম। সিটে বসে যাওয়ার সৌভাগ্যটি কদাচিৎ মিলতো। চকবাজারের মোড়টা তখন চেনা মুখে ভরপুর ছিলো। এই কোচিংয়ের ফ্রেন্ড, ঐ কোচিং এর ব্যাচমেইট আরও কতো কি! অনেক সময় দ্রুত পাশ কাটিয়ে চলে যেতাম আড্ডায় দীর্ঘ সময় নষ্ট হয়ে যাওয়ার ভয়ে। আজ তিনটে বৎসর পর সেই মোড়টিতে দাড়িয়ে এদিক সেদিক তাকিয়ে চেনা মুখগুলোকে খুঁজছি, কিন্তু দৃষ্টির প্রসারতা যতটুকুই যাচ্ছে তাতে কোথাও নেই তারা, দেখা মিলছে শুধু ঘর্মাক্ত ললাটের আচেনা সব মুখ, যারা এসেছে জীবিকার টানে কিংবা স্বপ্নরঙ্গিন জিবনগল্পে প্রজাপতির মতো ডানা মেলে।
একেবারেই যে বেহুদা এসেছি তা কিন্তু নয়। গতকাল রাতে সেই এসএসসি সময়কার একাডেমিক কোচিং এর এক ঘনিষ্ঠ ব্যাচম্যাটের কাকতালীয় ফোন পেয়ে। চট্টগ্রামে এসেছি শুনে বল্ললো “বহুবছর দেখা নেই। চল! কাল তাহলে দেখা করি। চকবাজারে, সকাল ১০ টায়”। “হুমম! চল” বলে উত্তরে সায় দিয়েছিলাম। সময়ের কাঁটা গুনে গুনে ঠিক ১০ টায় চলে এলাম। মেপে এক ঘণ্টা দাড়িয়ে আছি। কিন্তু কোথাও তার দেখা নেই। গতকাল যে নাম্বারটা থেকে ফোন দিয়েছিলো সেটি অপরিচিত নম্বার ছিলো। সেভ করা হয় নি। ভেবেছিলাম পুরনো নাম্বারটাতে ফোন দিলেই পাব। কিন্তু না সেই নাম্বারটি বন্ধ। পুরনো কয়েক বন্ধুকে ফোন দিলাম। কিন্তু হতাশ হতে হলো। প্রায় সবকটি নাম্বার হয় বন্ধ নাহয় সুললিত নারী কণ্ঠে “আপনি যে নাম্বারটিতে কল দিয়েছেন, তা এই মুহূর্তে সংযোগ দেয়া সম্ভব নয়” কথাটিই ঘুরে ফিরে শুনিয়ে দিচ্ছে। কারন সময়ের সাথে সাথে হয়ত তাদের নাম্বারগুলোও বদলে গেছে আর আমার কন্টাক্ট লিস্টে তাদের নতুন নাম্বারটি নেই।
ঘণ্টা দেড়েক পর বোধ হলো তার আসার কোন সম্ভাবনা নেই, তখন ফেরার জন্য পা বাড়ালাম।বাসে ছড়লাম, তবে সিট নেই। পুরনো দিনগুলোর মতো স্ট্যান্ড ধরে বাঁদরের মতে চ্যাংদোলা হয়ে ঝুলে পড়লাম, পার্থক্য শুধু এটিই যে আজ কাঁধে কোচিংয়ের নীল ব্যাগটা ঝোলানো নেই। হটাৎ ডান দিকের সিটে বসে থাকা বাচ্ছা কোলে করা নারীর চোখ দুটোর দিকে চোখ যেতেই নজর আটকে গেলো। কাক কালো চোখের মনিজোড়া আর পাপড়িজোড়ায় কাজলের সরু রেখা টান!! মনে হলো এই কাজলরেখা চোখদুটো আমার বড্ড চেনা। সহসা মনে পড়ে গেলো। মুখ বাড়িয়ে বললাম “ হাই, তারিন। কেমন আছো?” ঘটনার আকস্মিকতায় সে ভকড়ে গেল, ঠিক যেভাবে মধ্যবিত্ত পরিবারের রক্ষণশীল নারীরা হটাৎ অপিরিচিত করো সামনে পড়লে ভকড়ে যায়। “চিনতে পার নি? আমি নাকীব। তোমার ক্লাসমেট ছিলাম” “ও হ্যাঁ, তুমি কেমন আসো?” জবাব এলো। তার কন্ঠে চেনা চেনা ভাবটা ফুটে উঠল। নবম-দশম শ্রেণীর কথা খুব মনে পড়ে গেলো। গায়ের রঙ কৃষ্ণ হলেও মেয়েটির কাজলরেখায় টানা কুচকুচে চোখদুটো অন্য রকম একটি মায়া লুকিয়ে ছিলো, আমার ভীষণ ভালো লাগত তার কাজলরেখা চোখ দুটো। ক্লাসে প্রায় ওর চোখদুটোর দিকে তাকিয়ে থাকতাম। সে ও প্রায় আমার দিকে তাকিয়ে থাকত। কিন্তু ভালো লাগাটা ঐ পর্যন্তই ছিলো, নানা কারনে তা আর ভালোবাসায় রুপ নেয় নি। সে তার পাশের যুবকটির সাথে পরিচয় করিয়ে দিলো তার স্বামী আর কোলেরটি তার সন্তান।যুবকটির সাথেও “হাই হ্যালো” হলো। কথা বলতে বলতে বাস বহদ্দারহাট পৌছে গেল এবং একসাথেই নামলাম, এবার তার প্রস্থানের পালা। সে ফেরার পথে পা বাড়াল সে পথটা ধরে, যেদিকে বহদ্দারহাঁট হতে কক্সবাজারমুখী পথটা সিটি কর্পরেশনের অর্থায়নে নির্মিত আতিকায় ক্লক টাওয়ারটাকে সাপের মতো কুন্ডুলী পাকিয়ে বেঁকে গেছে, আর আমি ফিরে চললাম তার ঠিক উল্টো দিকের পথটি ধরে, আমার গন্তব্যে। পথে পথে মনে পড়ল সময়ের আবর্তনে নগরীর চেনা মুখ গুলোর হারিয়ে যাওয়ার কথা, কালচক্রে পথ ও পথিকের গন্তব্য ভিন্ন হয়ে যাওয়ার কথা; আর মনে পড়ল সময়ের অগোচরে অপরিচিতা হয়ে যাওয়া পরিচিত একটি মেয়ের কথা।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন