সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

মার্চ, ২০১৯ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

ধর্ষণ ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি

ক্যাম্পাসে হাটতে ঘুরতে যে দেওয়াললিখনটি খুব দৃষ্টি কাড়ে তা হলো "hang the rapist" সমাজে ধর্ষণ অপরাধটি যেমন নৃশংস এবং মহামরী আকার ধারন করেছে তাতে ধর্ষকদের শাস্তি একমাত্র ফাসি বা মৃত্যুদন্ডই হওয়া উচিত। কিন্তু সর্বদা মনে এই প্রশ্নটিও জাগে ক'টা ধর্ষককে ধরে শুধু ফাসিতে ঝুলিয়ে দিলেই কি ধর্ষণ নামক পিচাশটা লেজ গুটিয়ে সমাজ থেকে পালাবে? অর্থাৎ হঠাৎ মহামারীরুপে ছড়িয়ে পড়া ধর্ষণের রাশ দ্রুত টেনে ধরতে এবং ধর্ষণকে সমাজ থেকে পুরোপুরি কার্যকরীভাবে নিশ্চিহ্ন করতে আমাদের কি আরো pros-cons measures নেয়া উচিত নয়? তাছাড়া বিলম্বিত বিচারের যে সংস্কৃতি বাংলাদেশে শেকড় গেড়ে বসেছে, তাতে কি ধর্ষণ আসলেই দুর করা সম্ভব? #বাংলাদেশের আইনে ধর্ষণ সঙ্গায়ন: সাধারণভাবে ধর্ষণ বলতে আমরা বুঝি জোরপূর্বক কোন নারীর সাথে যৌন সহবাস করা। কিন্তু আমাদের এই ধারণা পুরোপুরিভাবে ‘ধর্ষণ’কে সংজ্ঞায়িত করে না। বাংলাদেশী দন্ডবিধির ১৮৬০ (১৮৬০ সালের আইন XLV) ধারা ৩৭৫  অনুসারে- একজন পুরুষকে ‘ধর্ষণকারী’ হিসেবে গণ্য করা হবে যদি নিচের যেকোনো একটি পরিস্থিতিতে তিনি যৌন সম্পর্কে যান- প্রথমত, মেয়ের ইচ্ছার বিরুদ্ধে দ্বিতীয়ত, মেয়ের অনুমতি...

অপ্সরা

অনিরুদ্ধ মহাকাল! আমি বলছি এক প্রিয়দর্শিনীর কথা সে ছিল এক অপ্সরা ; কিংবা হঠাৎ থমকে দাড়ানো কোনো মেঘবালিকা নয়তোবা মর্তলোকে নাইতে নেমে পথভোলা কোন এক ডানাকাটা পরী। এলোকেশি ছিলো ঘনকালো চুল খোঁপায় তার মুখ গুজে ছিলো একটি বেলি ফুল। সে কথা কয় হৈমন্তী সুরের লয়ে; সে ছুটে বেড়ায় চৈতালী হাওয়ার তালে... রুপোলী নুপুর পায়ে সুরেলা ছন্দ তুলে। তার শ্যামা দেহ যেন বর্ণ-তমাল, কুচ কালো নয়নতারা যেন ময়ুরাক্ষীর ঢল। প্রীয়দর্শিনী সে অজান্তা লীলাবালি; সে প্রিয়া মোর! ভালোবাসার অপ্সরা !!

নগরে হালের দিন

ল্যাপিতে জমে থাকে টিভি শো- কোরিয়ান ড্রামা আর মুভি দেদারসে, এলোপাথাড়ি পড়ে থাকে উপন্যাস ছ'কয়টা ইংলিশ নোভেল আর বঙ্কিম-জন কিটসে। রাতের চাঁদনীরা কেড়ে নেয় ঘুম তাই ঘুম ভাঙ্গে দুপরের তপ্ত পরশে; ঠিক বারোটায়!! কখনো ঘুম ভাঙ্গে কারো ফোনকলে "আসিস কোথায়? ক্লাস তো শুরু!" "বলিস কি!! প্রক্সিটা দিয়ে দিস; আসি কি করে, এখনো তো ঘুমাচ্ছি গুরু!" মেসের বুয়া নেই গত দুই দিন নাতনির নাকি পেটে পীড়ে, কয় হালি নাতনী পুষে কে জানে? কে রাখে খবর এতো ব্যস্ততার ভীড়ে। রাস্তার মোড়ে বাবুল মামার স্টল কেক-চায়ের ব্রেকফাস্টটা এখানেই মেলে তবে ঠিক দুপুরে!! সন্ধ্যে ঘামালে টিউশন! "বাবু! হোমওয়ার্কটা করছো? জোরসে পড়ো, যেন আন্টি না পায় ঠাহরে. দাও! কয়টি সিন-আনসিন দেই দাগিয়ে.." দরজা ঠেলে আন্টির প্রবেশ আসে চায়ের ট্রেটা হাতে বাগিয়ে "কেমন পড়ছে আমার বাবুটা? এবার প্লাস পাবে তো! সকলেকে তাগিয়ে?" "কি যে বলেন না! আলবৎ পাবে তবে মাইনেটা দিয়েন একটু বাড়িয়ে;" " চা-টা হেব্বি হয়েছে যেন মা-ই দিয়েছেন বানিয়ে।" রাস্তায় বেরুতেই মায়ের ফোন বাজে "কি রে! কিছু খে...

খেরোখাতায় পাতানো স্মৃতি

জাগরুক হয়ে থাকুক স্মৃতিগুলো পুরোনো, অমলিন কথা আর দিনগুলো হারানো। কালের পুরাণ বাজে নষ্টালজিয়া গানে, ভরা জল কড়া নাড়ে বেদনাহত প্রাণে। দিন আসে দিন যায় কালের স্রোতধারায়, জেগে থাকে প্রিয় কথা অমলিন খেরোখাতায়।

গোটা চারেক জিজ্ঞেসা

থরে থরে বিসিএস বইয়ে টেবিলটা সাজানো হাতে টেক্সট বুক-স্লাইড ----      সবগুলো লাইন তার বিচিত্র কালিতে কাটা, লাল-নীল রঙ্গের সে কালির খেলায় এঁকেছ সহজলভ্য ভবিষৎতের গল্পটা;    এই পড়ন্ত বিকেলেও তাই        বইখুলে পড়ছো বসে একা। দুদিন পরে হাই সিজির সার্টিফিকেটটা গলায় ঝুলিয়ে ভিক্ষেয় নামবে  "গভমেন্ট অফিসের ওই বড় কেরানীর পদে   নিয়ে নিন না আমায়!" তারপর-----  একখান সুশ্রী বৌ, দু-চারটে সুঠাম দেহী বাচ্ছা আর বৃদ্ধকালে পাঁকা দাড়ির মাল্লাস, সিভির ক্যারিয়ার অভজেক্টিভস আর ফিউচার প্লানিং এর ফাঁকে জিবনটা এভাবেই খাল্লাস। কিন্তু!  কি করেছো জিবনে? কখনো কি রাত্রি জেগে চেয়ে দেখছো আকাশ পানে? কয়টি তারা সেখানে আলোকদিয়া হয়ে জ্বলে উঠে, জলসানো চাঁদটির পাশে; ঘুমন্ত নিরব মহানগরীর কিনারে! কি করেছো জিবনে! কখনো কি লোকোট্রেনে ছড়ে ছুটে গিয়েছিলে নিরুদ্দেশে? শহর-বন্দর-গ্রামের প্রান্ত ছুয়ে যে ট্রেনটি ছুটে যায় তার দরজায় দু'খান পা ছড়িয়ে বসে বাদাম খেতে খেতে উপলব্দী করছিলে কখনো? আন্তনগর এই ট্রেনটির মতোই মহাকাল কতো দ্রুত চলছে!  গতকালের...

অবেলার আহবান

যদি নীল খামের কথাগুলো হঠাৎ থমকে দাড়ায়, ডায়েরীতে চেপে রাখতে ইচ্ছে করে না বেলা গোধূলীর গল্প; তবে চলে এসো প্রিয় এসো এই মতিহারে!! আজ সপে দিই নিজেকে বেলা অবেলার গানে.. অতীতকে জিবন্ত করে তুলি হলদে বরণের চায়ে, খুঁজে ফিরি অধরা খেয়াপাতা উষ্ণ ধোঁয়ার গায়ে। তারুন্যের ভরা উচ্ছাস, প্রিয়াহারার দীর্ঘ নি:শ্বাস; অবলোহিত স্বপ্ন-আলো, হতাশার ধূসর ধুলো; একাকার হয়ে উঠুক সব গল্প এই আড্ডা বিহঙ্গ তানে।

The Role of Police Force in the Liberation War of Bangladesh.

It was around 11:30 pm, a convoy of Pakistani army stopped in front of first barricade in Shantinagar, A Pakistani solder footed down and headed toward the barricade, suddenly a bullet came from the behalf of Razarbug and stocked in his head and he passed away. So, the gunfight started between them. In the meantime, a voice command spread over wireless from Razarbug Police Line to all police stations of Bangladesh “ base for all station of east Pakistan police, keep listening, watch, we are already attacked by the ঝak army. Try to save yourself, over” It was the first bullet thrown and first resistance against Pakintani occupation army from behalf of Bangladesh, which was held by Bangladesh Police. The word “liberation” becomes our word from when Sheikh Mujib proclaimed in his historic speech of 7th March, "Our struggle is for our freedom. Our struggle is for our independence. We shell give Bangla rid of Pakistan. But to achieve the actual taste of liberation and independence...

গ্রন্থসমালোচনাঃ "আনা ফ্রাঙ্কের ডায়েরি"

Q-card টা হাতে পেলাম। কিন্তু টপিকটা পছন্দ হলো না। এলোমেলো ভাবে এদিক সেদিক তাকালাম। ম্যাম বললেন: "কি মিষ্টার! এদিক ওদিক তাকাচ্ছেন কেন? এরপর কিন্তু আপনারই পালা। so, get prepared."  টপিকটা ছিল "এমন একটি  বই সম্পর্কে বলুল, যা আপনার জিবনে গভীর প্রভাব বিস্তার করেছে।" টপিকটা খুব সহজ কিন্তু আমার জিবনে প্রভাব বিস্তারকারী এমন কোন বই অদৌ ছিল কিনা জানি না। মিথ্যা বলা আমার অভ্যেসে নেই, তো কি করে এত অল্প সময়ে একটি গল্প বানিয়ে বলা যায় তা নিয়ে সংকটে পড়ে গেলাম। ম্যামকে বললাম: "মিস. টপিকটা কি পরিবর্তন করে দেয়া যায় না? ম্যাম জোর দিয়ে বললেন: জ্বি না! এই টপিক নিয়েই বলতে হবে।" দারুণ অসহায় বনে গেলাম। অগত্যা ভাবতে শুরু করলাম। সত্যি কি আমার জিবনে এমন কোন বই ছিলো না? স্মৃতির পাতাগুলো উল্টাতে লাগলাম। অবশেষে পেয়ে গেলাম। হ্যাঁ, আমার জিবনে এমন একটি বই ছিলো, যা আমার হৃদয়কে নাড়া দিয়েছেল। আমাকে কাদিয়েছিল বইটি। "জিবনের লক্ষ্য" রচনা থেকে যেদিন "লেখক হতে চাই " লাইনটা কেটে "BCS ক্যডার হতে চাই" লাইনটা প্রতিস্থাপন করে দিলাম, সেদিন থেকেই কেন্দ্রী...

ডাকাতিয়ার কান্না

গ্রামটির নাম একলাশপুর। চারদিকে সবুজের সমারোহ, কাচা-পাকা ঘরবাড়ি, সর্পিল মাটির রাস্তা আর দুধারে সারি সারি সুপার ও আম-কাঠালের বাগান। তবে মাঝে মাঝে ছোট-বড়, খন্ড-অখন্ড ফসলি জমি। বারমাসই হরেক রকমের চাষাবাদ চলে তাতে। এখানকার আষাঢ়- শ্রাবন এলে যেমন চাষানীরা ধান ভানে আর গীত গায় তেমনি শীতে তোলা আলু নিয়ে তারা ঘরের উঘির তল গুলো ভরায়। গায়ের মধ্যভাগ দিয়ে বয়ে চলেছে একটি নদী। গাঁয়ের পূবপাশ দিয়ে ঢুকে কোথাও ক্ষেতের পাশ দিয়ে ধনুকের মাতো বাকিয়ে কোথাও আবার গঞ্জের হাতাইলে কুনি ভাঙ্গা দিয়ে অনেকটা সাপের চলার ভঙ্গিতে একেবেকে ঠিক মধ্যভাগ দিয়ে গ্রামটির মানচিত্রকে চিড়ে বয়ে গেছে উত্তর-পশ্চিমে। হয়তো গিয়ে মিশেছে দুরের বড় কোন নদীতে। নিশ্চল শান্ত একটা নদী। নেই প্রবল স্রোত, ভাঙ্গে না দু'ধার, ডোবায় না কারো ফসলি জমি কিংবা বাড়ি-ঘর। নেহায়েত ভদ্র গোছের একটা নদী। লোকে বলে "মরা গাঙ্গ"।তবে হ্যা, একদিন এ নদীর ভরা যৌবন ও জল-কুল ছিল।তার ছিল খরস্রোতা মেঘনার মতো উত্তাল ঢেউ, জোস্না- অমাবস্যায় জোয়ার ভাটা, ছিল বর্ষা এলো দু'কুল চাপিয়ে খেত-খামার ঢুবিয়ে হু হু করে ছুটে চলা অথৈ জলরাশি। এবাড়ি ওব...

আশামণি

বশির স্যারের ‘পাবলিক ফিন্যান্স’ ক্লাসটা করে ডাকসুর সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম। আধঘণ্টা পর সাড়ে বারটায় একটা বাস আছে। কিন্তু মিস করব।  কারন আজ নীরাকে স্যরি বলতেই হবে। জানুটা বেশ ক’দিন ধরে রেগে টং হয়ে আছে। রিলেশন প্রায় ব্রেকআপ হওয়ার পথে। একটাই তার অভিযোগ "আমি নাকি এখন আর তাকে আগের মতো ভালবাসি না। আমি আশামণিকে নিয়ে খুব ব্যস্ত হয়ে গেছি। আমার জীবনে যখন আশামণিই সব তখন আর তার কি দরকার।” সেদিন ফোনে খুব কাঁদল, বিদায় নিতে চাইল আমার জিবনের অধ্যায় থেকে। তাই অনেক বলে কয়ে তাকে ফেরালাম। তবে সে শর্ত জুড়ে দিলো আজ ক্লাসের পর ডাকসুর সামনে দেখা করতে হবে এবং মিতা, শান্তা সবার সামনে স্যরি বলতে হবে। তাহলেই সে রিলেশন কন্টিনিউ করবে। হয়ত মহারানী যা বলবেন তাই হবে। ঠায় দাড়িয়ে আছি। ওদিকে আবার আশামণির জন্যও খুব টেনশন হচ্ছিল। কী করছে আমার আম্মুটা? স্কুল থেকে কি ফিরলো? খানিক পরে দেখা গেলো আমার মহারাণী আসছেন। একপাশে তার উজিরে আযম মিতা আর অন্যপাশে সেনাপতি শান্তা। নীরা সোজা এসেই আমার মুখের উপর কথা ঝাড়লো “স্যরি বলো!” “স্যরি” “একবার নয় তিনবার বলো!" অগত্যা দ্বিতীয় বার বলতে যাব ঠিক তখনই সেলফো...

মেঘের ভেলা

নীল আকাশের জলে ভাসিয়ে দিলাম হাজারো মেঘের ভেলা, চাঁদ-তারাদের তাই দিলেম ছুটি বন্ধ আজিকের খেলা। মেঘে মেঘে ছেয়ে গেছে আজ দশ দিগন্তের কোল, অঝর ধারায় পড়ছে ঝরে বৃষ্টিধারার জল। থেমে থেমে হটাৎ নাচছে বিজলী আগুননুপুর পরে, কাক ভেজা পথিক থমকে দাড়িয়ে কাঁপছে থরথরে। তবু গগনজুড়ে চলবেই আজ আলোআঁধারির খেলা, মেঘ মেঘাদের লুকোচুরিতে কাটবে এই বেলা।

গ্রন্থ-পর্যালোচনা "অনুবর্তন"

গ্রন্থ-পর্যালোচনা: বইয়ের নাম: অনুবর্তন লেখক: বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় আজ থেকে প্রায় শতবর্ষ পূর্বেও এই উপমহাদেশে টিউশনের অস্তিত্ব ছিলো ব্যাপারটা বিভূূতিভূষণের অনুবর্তন উপন্যাসটা পড়েই জানতে পারলাম। অবাক করার মতো ব্যাপারটি হলো বর্তমান সময়ের মতো তখনো ছিলো টিউশনে টিচার-গার্জিয়ান বৈরী সম্পর্ক, কথায় কথায় টিচার পাল্টে ফেলার হুমকি, পরীক্ষার সময়ে স্টুডেন্টকে বাড়তি একবেলা করে পড়ানোর অযৌক্তিক আবদার, বেতন-নাস্তা ইত্যাদি নিয়ে খোঁটা দেয়ার প্রবনতা এবং স্টুডেন্টের অর্ধশিক্ষিত কোন নিকটাত্মীয় কর্তৃক স্টুডেন্টকে কিভাবে পড়াতে হবে সে ব্যাপারে টিচারকে অমূল্যবান টিপস বাতলে দেয়ার হাস্যকর ঘটনা ইত্যাদি। অনুবর্তন উপন্যাসটির কাহিনী বিনির্মাণ ঘটে কলকাতার ওয়েলেসলি স্ট্রিটের পিটার লেনের একটি স্কুলকে নিয়ে। স্কুলটির হেডটিচার ছিলেন লর্ড ক্লার্কওয়েল নামক একজন বিলেতি, যিনি ছিলেন বর্তমান সময়ের বিভিন্ন প্রাইমারী স্কুল বা কিন্ডারগার্টেনের হেডমাস্টারদের মতোই অত্যন্ত কঠোর এবং উগ্র ডিসিপ্লিন্ড একজন প্রধান শিক্ষক; টিচাররা সর্বদা তার বাতলানো নিয়ম-কানুন না মেনে চললে শোকজ, নোটিস কিংবা চাকরিচ্যুত করার হুমকিতে তটস্থ থাকতো। স...