Q-card টা হাতে পেলাম। কিন্তু টপিকটা পছন্দ হলো না। এলোমেলো ভাবে এদিক সেদিক তাকালাম। ম্যাম বললেন: "কি মিষ্টার! এদিক ওদিক তাকাচ্ছেন কেন? এরপর কিন্তু আপনারই পালা। so, get prepared." টপিকটা ছিল "এমন একটি বই সম্পর্কে বলুল, যা আপনার জিবনে গভীর প্রভাব বিস্তার করেছে।" টপিকটা খুব সহজ কিন্তু আমার জিবনে প্রভাব বিস্তারকারী এমন কোন বই অদৌ ছিল কিনা জানি না। মিথ্যা বলা আমার অভ্যেসে নেই, তো কি করে এত অল্প সময়ে একটি গল্প বানিয়ে বলা যায় তা নিয়ে সংকটে পড়ে গেলাম। ম্যামকে বললাম: "মিস. টপিকটা কি পরিবর্তন করে দেয়া যায় না? ম্যাম জোর দিয়ে বললেন: জ্বি না! এই টপিক নিয়েই বলতে হবে।" দারুণ অসহায় বনে গেলাম। অগত্যা ভাবতে শুরু করলাম। সত্যি কি আমার জিবনে এমন কোন বই ছিলো না? স্মৃতির পাতাগুলো উল্টাতে লাগলাম। অবশেষে পেয়ে গেলাম।
হ্যাঁ, আমার জিবনে এমন একটি বই ছিলো, যা আমার হৃদয়কে নাড়া দিয়েছেল। আমাকে কাদিয়েছিল বইটি।
"জিবনের লক্ষ্য" রচনা থেকে যেদিন "লেখক হতে চাই " লাইনটা কেটে "BCS ক্যডার হতে চাই" লাইনটা প্রতিস্থাপন করে দিলাম, সেদিন থেকেই কেন্দ্রীয় লাইব্রেরীতে নিজের একখান ঢেরা বানিয়ে নিলাম। সকাল-বিকাল শুধু বিসিএস আর বিসিএস। চরম বিরক্তি চলে এলো। হন্য হয়ে কোন একটা উপায় খুজছিলাম। কোন এক বিকেলে ফেসবুকে ঢু মারতে গিয়ে দেখলাম LFCA IELTS center
এ ফ্রি IELTS করার সুযোগ। অফারটা লুফে নিলাম। প্রথম চারটি ক্লাস খুব ভালো লাগলো। ইনসট্রাক্টরগুলো খুব ভালো ছিলো। কিন্তু তারপররে ক্লাসগুলো খুব কাবজাব টাইপের মনে হলো। আজকের পর আর যাব না চিন্তা করে সেদিন ক্লাসে গেলাম। জানতে পারলাম আজ Afsana Salam ম্যাম ক্লাস নিবেন। ব্যাপারটা দারুন লাগলো। তার ক্লাসগুলো খুব ভালো লাগে। উপস্থাপনা অত্যন্ত চমত্কার। ইতিপূর্বে তার দুটি ক্লাস করেই আমি ইম্প্রেসড। আসলে ব্যাপারটা হচ্ছে, যে আমি পাচ-ছয় জন লোকের সামনে দাড়িয়ে কথা বলতে গেলে "ক"কে খ বলে ফেলি, তার পক্ষে কারো ভালো উপস্থাপনায় সহজেই ইম্প্রেসডটাই রিয়াল ফ্যাক্ট।
আজ spoken এর ক্লাস। ম্যাম দু-চারটি কথা বলেই সবার হাতে হাতে q-card ধরিয়ে দিলেন। টপিকটা পাল্টাতে চেয়েও পারলাম না। অত:পর কালের ধূসরিত অঙ্গনে পড়ে থাকা ধূলোমলিন স্মৃতির পাতা থেকে অবশেষে খুজতে গিয়ে পেলাম একটি বই যা আমার জিবনে অত্যন্ত গভীরভাবে ছায়াপাত করেছিল। বইটি আমাকে কাদিয়েও ছিলো ভীষনভাবে।
"আনা ফ্রাঙ্কের ডায়েরি" নাম বইটির। আনা ফ্রাঙ্ক নিজই লিখেছিল বইটি। ২য় বিশ্ব যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে বইটি লেখা। বইতো নয়, এটি ছিল আনা ফ্রাঙ্কের দৈনন্দিন জিবনের ডায়ে
রি। হিটলার ও তার নৎসি বাহিনী তখন ইহুদীদরর উপর নির্যাতনের স্ট্রিম তোলার চালাচ্ছিল। একে একে সব ইহুদী পাড়া-নগরী ধ্বংশ্ব করে দিচ্ছিল। শহর-গ্রাম সব তন্ন তন্ন করে খুজে ইহুদীদের ধরে নিয়ে যাচ্ছিল তার গ্যাস চেম্বার ও বন্দিশালায়। মানুষগুলোকে অন্ন বস্ত্রহীন করে জিবন্ত কাঙ্কাল অথবা ওষধ প্রয়োগে গিনিপগ করে রাখছিল। কিংবা মানবদাস হিসেবে ব্যবহার করে এবং বিষাক্ত গ্যাস প্রয়োগে ধুকে ধুকে মারছিলো তাদের। স্বজাতির এমন বিপদে নিজেদের বাচাঁতে অন্যদশটি ইহুদী পরিবারের মতো আনা ফ্রাঙ্কের পরিবারও আশ্রয় নিলো পরিত্যাক্ত একটি বাড়ির গোপন কুঠিতে। লুকিয়ে থাকল প্রায় দেড়িটি বৎসর। অত:পর একদিন নৎসিরা হানা দিলো তাদের গোপন ঢেরায়। অত:পর...................। এই দীর্ঘ দেড় বৎসর সময়টি তাদের কাটেছে বর্ননাতীত নানান ঘটনা ও উথান-পতনের মধ্য দিয়ে। সদ্য কিশোরী আনা ফ্রাঙ্ক তখন তার প্রিয় ডায়েরিকেই পেয়ছিল একান্ত আপন জিবন্তপ্রায় সঙ্গীরুপে। "নিকি" তার প্রিয় ডায়েরির নাম। যাতে অবরুদ্ধ জিবনের প্রত্যাহিক জিবনের কথা, ঘটে যাওয়া নানান ঘটনা লিখে রেখে গিয়েছিলো। সত্যি অত্যন্ত অবাক হতে হয়। আমাদের দেশে ১২-১৩ বৎসরের ছেলেমেয়েরা এখনও যেখানে ডরিমন নিয়ে ব্যস্ত থাকে সেখানে আনা ফ্রাঙ্ক নামের মাত্র তের বৎসরের মেয়েটি তার প্রাত্যহিক ডায়েরিতে কি সুনিপুনভাবে ফুটিয়ে তুলেছে তৎকালীন সমাজ ও বিশ্ব রাজনীতির বাস্তবচিত্র, তার সুচিন্তিত ভাবনাগুলি ও দৈনন্দিন জিবনের ঘটনাবলীকে।বইটি যখন পড়ছিলাম তখন মনে হচ্ছিল যেন এই আমি ফিরে গেছি শতাব্দী পুরোনো সেই কালের পটে।
আনা ফ্রাঙ্ক আজ বেচেঁ নেই। নৎসিদের হাতে একদিন বন্দি হয়ে চরম নির্যাতনের শিকার হয়ে পরাপারে পাড়ি জমিয়েছিলো গোটা পরিবারসহ। সে হয়ত আজ ধরাপৃষ্ঠে বেঁচে নেই, কিন্ত বেঁচে আছে কালের পাতায়। বড় হয়ে লেখক হওয়ার স্বপ্ন দেখত সে, বড় হয়ে আর উঠা হয় নি তার, কিন্ত তার লেখক হওয়ার স্বপ্নটা ঠিকই পূরন করেদিয়েছিল তার আদরের নিকি। তাইতো এতোগুলো বৎসর পরও তার ডায়েরি পড়ে সবাই কাদে, কল্পনার জগতে খুঁজে বেড়ায় সেই আনা ফ্রাঙ্ককে।
হ্যাঁ, আমার জিবনে এমন একটি বই ছিলো, যা আমার হৃদয়কে নাড়া দিয়েছেল। আমাকে কাদিয়েছিল বইটি।
"জিবনের লক্ষ্য" রচনা থেকে যেদিন "লেখক হতে চাই " লাইনটা কেটে "BCS ক্যডার হতে চাই" লাইনটা প্রতিস্থাপন করে দিলাম, সেদিন থেকেই কেন্দ্রীয় লাইব্রেরীতে নিজের একখান ঢেরা বানিয়ে নিলাম। সকাল-বিকাল শুধু বিসিএস আর বিসিএস। চরম বিরক্তি চলে এলো। হন্য হয়ে কোন একটা উপায় খুজছিলাম। কোন এক বিকেলে ফেসবুকে ঢু মারতে গিয়ে দেখলাম LFCA IELTS center
এ ফ্রি IELTS করার সুযোগ। অফারটা লুফে নিলাম। প্রথম চারটি ক্লাস খুব ভালো লাগলো। ইনসট্রাক্টরগুলো খুব ভালো ছিলো। কিন্তু তারপররে ক্লাসগুলো খুব কাবজাব টাইপের মনে হলো। আজকের পর আর যাব না চিন্তা করে সেদিন ক্লাসে গেলাম। জানতে পারলাম আজ Afsana Salam ম্যাম ক্লাস নিবেন। ব্যাপারটা দারুন লাগলো। তার ক্লাসগুলো খুব ভালো লাগে। উপস্থাপনা অত্যন্ত চমত্কার। ইতিপূর্বে তার দুটি ক্লাস করেই আমি ইম্প্রেসড। আসলে ব্যাপারটা হচ্ছে, যে আমি পাচ-ছয় জন লোকের সামনে দাড়িয়ে কথা বলতে গেলে "ক"কে খ বলে ফেলি, তার পক্ষে কারো ভালো উপস্থাপনায় সহজেই ইম্প্রেসডটাই রিয়াল ফ্যাক্ট।
আজ spoken এর ক্লাস। ম্যাম দু-চারটি কথা বলেই সবার হাতে হাতে q-card ধরিয়ে দিলেন। টপিকটা পাল্টাতে চেয়েও পারলাম না। অত:পর কালের ধূসরিত অঙ্গনে পড়ে থাকা ধূলোমলিন স্মৃতির পাতা থেকে অবশেষে খুজতে গিয়ে পেলাম একটি বই যা আমার জিবনে অত্যন্ত গভীরভাবে ছায়াপাত করেছিল। বইটি আমাকে কাদিয়েও ছিলো ভীষনভাবে।
"আনা ফ্রাঙ্কের ডায়েরি" নাম বইটির। আনা ফ্রাঙ্ক নিজই লিখেছিল বইটি। ২য় বিশ্ব যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে বইটি লেখা। বইতো নয়, এটি ছিল আনা ফ্রাঙ্কের দৈনন্দিন জিবনের ডায়ে
রি। হিটলার ও তার নৎসি বাহিনী তখন ইহুদীদরর উপর নির্যাতনের স্ট্রিম তোলার চালাচ্ছিল। একে একে সব ইহুদী পাড়া-নগরী ধ্বংশ্ব করে দিচ্ছিল। শহর-গ্রাম সব তন্ন তন্ন করে খুজে ইহুদীদের ধরে নিয়ে যাচ্ছিল তার গ্যাস চেম্বার ও বন্দিশালায়। মানুষগুলোকে অন্ন বস্ত্রহীন করে জিবন্ত কাঙ্কাল অথবা ওষধ প্রয়োগে গিনিপগ করে রাখছিল। কিংবা মানবদাস হিসেবে ব্যবহার করে এবং বিষাক্ত গ্যাস প্রয়োগে ধুকে ধুকে মারছিলো তাদের। স্বজাতির এমন বিপদে নিজেদের বাচাঁতে অন্যদশটি ইহুদী পরিবারের মতো আনা ফ্রাঙ্কের পরিবারও আশ্রয় নিলো পরিত্যাক্ত একটি বাড়ির গোপন কুঠিতে। লুকিয়ে থাকল প্রায় দেড়িটি বৎসর। অত:পর একদিন নৎসিরা হানা দিলো তাদের গোপন ঢেরায়। অত:পর...................। এই দীর্ঘ দেড় বৎসর সময়টি তাদের কাটেছে বর্ননাতীত নানান ঘটনা ও উথান-পতনের মধ্য দিয়ে। সদ্য কিশোরী আনা ফ্রাঙ্ক তখন তার প্রিয় ডায়েরিকেই পেয়ছিল একান্ত আপন জিবন্তপ্রায় সঙ্গীরুপে। "নিকি" তার প্রিয় ডায়েরির নাম। যাতে অবরুদ্ধ জিবনের প্রত্যাহিক জিবনের কথা, ঘটে যাওয়া নানান ঘটনা লিখে রেখে গিয়েছিলো। সত্যি অত্যন্ত অবাক হতে হয়। আমাদের দেশে ১২-১৩ বৎসরের ছেলেমেয়েরা এখনও যেখানে ডরিমন নিয়ে ব্যস্ত থাকে সেখানে আনা ফ্রাঙ্ক নামের মাত্র তের বৎসরের মেয়েটি তার প্রাত্যহিক ডায়েরিতে কি সুনিপুনভাবে ফুটিয়ে তুলেছে তৎকালীন সমাজ ও বিশ্ব রাজনীতির বাস্তবচিত্র, তার সুচিন্তিত ভাবনাগুলি ও দৈনন্দিন জিবনের ঘটনাবলীকে।বইটি যখন পড়ছিলাম তখন মনে হচ্ছিল যেন এই আমি ফিরে গেছি শতাব্দী পুরোনো সেই কালের পটে।
আনা ফ্রাঙ্ক আজ বেচেঁ নেই। নৎসিদের হাতে একদিন বন্দি হয়ে চরম নির্যাতনের শিকার হয়ে পরাপারে পাড়ি জমিয়েছিলো গোটা পরিবারসহ। সে হয়ত আজ ধরাপৃষ্ঠে বেঁচে নেই, কিন্ত বেঁচে আছে কালের পাতায়। বড় হয়ে লেখক হওয়ার স্বপ্ন দেখত সে, বড় হয়ে আর উঠা হয় নি তার, কিন্ত তার লেখক হওয়ার স্বপ্নটা ঠিকই পূরন করেদিয়েছিল তার আদরের নিকি। তাইতো এতোগুলো বৎসর পরও তার ডায়েরি পড়ে সবাই কাদে, কল্পনার জগতে খুঁজে বেড়ায় সেই আনা ফ্রাঙ্ককে।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন