টল-টলে জলে নদী কুলু কুলু! উপরে মুখপোড়া চিল অনবরত চক্কর দিয়ে যায়, জলের অগভীর কোনে কোনো রুপোলী মাছ সূর্য-কিরণে গা চকচক করে উঠলে অমনি তাকে ছো মেরে নিয়ে খাবে বলে। দিনভর বিশাল নদীর অথৈ জলের মিছিলে ছুটে চলে অগনিত লঞ্চ-স্টীমার, বালু তোলা জাহাজ আর মাছ ধরা নৌকা। সমস্ত দিন জুড়ে জলের নিরন্তর সন্তরণে নদীর ক্লান্তি নেই; শ্রান্তি নেই অজস্র জন-যানবাহন বইবার, তবে খিদে পেলেই রাক্ষুসে গোগ্রাসে গিলে নেয় কূলবর্তী অভাগা কোন জনপদ। আর রাত্রী যখন নামে! তখন নদী তার যাপিত জীবনের সমস্ত অভিমান পুড়িয়ে কেঁদে উঠে। বড্ড করুণ তার কান্নার সুর, ঠিক সদ্য বিধবা রমনীর কান্নার মতো; যার একটানা হু হু কান্নায় গাছের পাতারাও শামিল হয় করুণ কাঁদনে। অতঃপর রাত যত গভীর হয় কান্নার অনুরণন তত তীব্রতর হয় ক্ষণে ক্ষণে।। নদীর নাম মেঘনা। আর মেঘনার নিষুতি রাতের সেই কান্না শুনতে পাওয়া যায় কূল ছাড়িয়ে দুই মাইল দুরের ছিম ছাম ছোট বাড়িটি থেকেও। অন্তহীন কান্নার রহস্য ভেদে ভিন্ন-অভিন্ন নানা কৌতূহলী প্রশ্নের জন্ম দেয় শিশুজনের মনে। সন্ধ্যায় চাঁদোয়ার নিচে উঠানে পাতা শীতলপাটিতে শুয়ে নানুর গলা জড়িয়ে রুপকথার গল্প শুনতে শুনতে হতচ্ছাড়া একটি শিশু অবলীলায় জ...