মেয়েটির নাম নীলাঞ্জনা নয় , তবু নীলাঞ্জনা বলেই ডাকতাম। কলেজে ফাস্ট ইয়ারে খুব একটা ক্লাস করি নি , শুধু মাঝে মাঝে এসে ঢু মেরে যেতাম নামটাকে হাজিরা খাতায় টিকিয়ে রাখার জন্য । সত্যি বলতে কি , আমি আমার ক্লাসমেটদেরও খুব একটা চিনতাম না , বা তারাও আমাকে চিনত না । আর কিভাবেই বা চিনবে ? আমি যে ক্লাসই করতাম না! অবশ্য কিছুই করার ছিল না । S.S.C. পরীক্ষার বেশ কিছুদিন আগে বাবা পরপারে পাড়ি জমান আর যাবার সময় মা আর ছোট্ট বোন টিনাকে আমার ঘাড়ে রেখে যান । তারপর থেকেই শুরু হয়েছিল বিবর্ণপ্রায় রাজপথটিতে আমার অন্য রকম জিবন সংগ্রাম । S.S.C. পরীক্ষা দিয়েই একটা জবে ঢুকে যাই , পাশাপাশি পড়লেখার ঘানি টানার সিদ্ধান্ত নেই । জিবনটা অন্যরকম হয়ে গেলো। যাগগে , সেদিকটা আর নাই মাড়াই। সেকেন্ড ইয়ারে উঠে কড়া সিদ্ধান্ত নিলাম যে , নিয়মিত ক্লাস করব , চাকুরিকে বিদায় দিলাম । পাড়ায় দুটো টিউশনি জোগাড় করে ফেললাম । দিনক্ষণের কথা মনে নেই । একদিন হুড়মুড় করে ক্লাসে ঢুকে পড়লাম , বসে গেলাম একবারে সামনেই। একটা ছেলে এসে জামেলা পাকাতে চাইল। ঘুষি মেরে নাকটা ফাটিয়ে দিতে ইচ্ছে হলো , এ প্রজাতির কিছু ছেলেপেলে কেন যেন ক্লাসের সামনে...