সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

জানুয়ারি, ২০১৮ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

ঝরাপাতা

মেয়েটির নাম নীলাঞ্জনা নয় , তবু নীলাঞ্জনা বলেই ডাকতাম। কলেজে ফাস্ট ইয়ারে খুব একটা ক্লাস করি নি , শুধু মাঝে মাঝে এসে ঢু মেরে যেতাম নামটাকে হাজিরা খাতায় টিকিয়ে রাখার জন্য । সত্যি বলতে কি , আমি আমার ক্লাসমেটদেরও খুব একটা চিনতাম না , বা তারাও আমাকে চিনত না । আর কিভাবেই বা চিনবে ? আমি যে ক্লাসই করতাম না! অবশ্য কিছুই করার ছিল না । S.S.C. পরীক্ষার বেশ কিছুদিন আগে বাবা পরপারে পাড়ি জমান আর যাবার সময় মা আর ছোট্ট বোন টিনাকে আমার ঘাড়ে রেখে যান । তারপর থেকেই শুরু হয়েছিল বিবর্ণপ্রায় রাজপথটিতে আমার অন্য রকম জিবন সংগ্রাম । S.S.C. পরীক্ষা দিয়েই একটা জবে ঢুকে যাই , পাশাপাশি পড়লেখার ঘানি টানার সিদ্ধান্ত নেই । জিবনটা অন্যরকম হয়ে গেলো। যাগগে , সেদিকটা আর নাই মাড়াই। সেকেন্ড ইয়ারে উঠে কড়া সিদ্ধান্ত নিলাম যে , নিয়মিত ক্লাস করব , চাকুরিকে বিদায় দিলাম । পাড়ায় দুটো টিউশনি জোগাড় করে ফেললাম । দিনক্ষণের কথা মনে নেই । একদিন হুড়মুড় করে ক্লাসে ঢুকে পড়লাম , বসে গেলাম একবারে সামনেই। একটা ছেলে এসে জামেলা পাকাতে চাইল। ঘুষি মেরে নাকটা ফাটিয়ে দিতে ইচ্ছে হলো , এ প্রজাতির কিছু ছেলেপেলে কেন যেন ক্লাসের সামনে...

এক কাপ কফি

জ্বরটা মরুসাইমুমের মতো হটাত ঝড়বেগে এলো , কিছুক্ষণ আমাকে ঘোরের মধ্যে রেখে আবার ছেড়ে চলে গেলো । প্রথমদিনটায় ৭ - ৮ বার মাথায় পানি ঢালার পরও যখন বডিটেম্পারেচার কোনভাবেই ১০২ - ১০৩ ডিগ্রীর এর নিচে নামছিলো না , তখন ভেবে নিয়েছিলাম যে , আয়ুবাবুজী এবার আমাকে আলবিদা জানাতে সমস্ত আয়োজন পাকাপোক্ত করেই এসেছে । তবে , আজ সন্ধ্যা থেকে খানিকটা সুস্থবোধ করছি । সপ্তম সেমিস্টারের কাফিনে সর্বশেষ পেরেকটি কালকে ঠুকে দেয়ার পালা। ক্লাস কো-অরডিনেটর মহোদয়ের ভাইভা ও এস্যাইনমেন্ট সাবমিশনের ডেডলাইন সংবলিত মহামূল্যবান পোস্টখানি চোখের সামনে ট্র্যাফিক সিগন্যালের লাল বাতি জ্বালিয়ে দিলো। হুম, আজ রাতের মধ্যেই এস্যাইনমেন্ট সম্পূর্ণ করতে হবে, সুতরাং রাতজাগা পাখিদের বেসুরো কর্কশ গানের মজলিশে আমাকেই আজ নির্বাক শ্রোতা বনে থাকতে হবে। কোন উপায়ন্তর নেই!!! কিন্তু এস্যাইনমেন্ট এর নাম ঝপতে ঝপতেই ঘুম চলে এলো। পৌনে এক ঘণ্টার মাথায় শরীফ আমার হাল-হাকীকত দেখতে আসায় অলক্ষুণে ঘুমটা কেটে গেলো। বুঝলাম কফি না খেলে চলবে না। হলের দোকান থেকে কফি নিয়ে বারান্দায় এসে দাঁড়ালাম। দৃষ্টি সামনে প্রসারিত হলো। সামনে হলের মেঘনা ও যমুনা ব্লকের সুবিন্যা...