সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

জুন, ২০২৪ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

রূপসী সোনার গাঁও আমার প্রিয়া

আমার প্রিয়া হারিয়ে গেছে উষ্কখুষ্ক চুল সবুজ তাঁর শাড়ির আঁচল, জুইঁ-চামেলী দুল। আকাশ তাঁর নীলাভ চক্ষু, মেঘের জোঁস্নাধারায় সর্প নদী গড়িয়ে চলে ছলৎছল অবিরল ধারায়। মেঠো পথ হালকা মেখলা, ধূঁসর পথের ছায়, কে বা হারালো পথের মাঝে হয়ে অনন্যোপায়। জলকে চলে খানিক দাড়ায়, সর্ষে পাড়ে ফুল সারা দেহ হরিদ্র বর্ণে হয়েছে ব্যাকুল। জলপাই গাছের লালিমা পাতায় মুক্ত সিঁদুর হাসে, রাতুল ঠোঁটে ঈষৎ হেসে হেয়ালী ছলনায় ডাকে। চপলা খালের নোলক পড়ে ভাসে ডিঙ্গি নাও প্রিয়া আমার সারা বাংলার রূপসী সোনার গাঁও।

ইসরাফ ও রিয়া: বাঙ্গালি মুসলিম সমাজের দুটি ব্যাধি।

পনের লক্ষ টাকায় একটি খাসি কিনেছেন এক কিশোর। বিক্রেতার ভাষ্যমতে, এর বাহিরেও তিনি ৩৮, লক্ষ টাকার গরু কিনেছেন এ বছর কোরবানি উপলক্ষে। অসমর্থিত সুত্র বলছে, গতো বছরও তিনি প্রায় ৬০, লক্ষ টাকা খরচ করেছেন কুরবানিতে। ক্রেতার পারিবারিক পরিচয় সম্পর্কে সত্য তথ্য পাওয়া যায় নি, ফলে পরিবারের আয়ে উৎস কি বা উপার্জন রাষ্ট্রীয় মানদন্ডে বৈধ কিংবা ধর্মীয় মানদন্ডে হালাল কিনা তাও যাচাই করা যায় নি (সুত্র: বিবিসি বাংলা)। তবে যেখানে মাত্র ১৫-৩০ হাজার টাকায় একটি ভালো মানের খাসি পাওয়া সম্ভব, সেখানে ১৫ লক্ষ টাকায় খাসি কেনাটা সবারই দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। ধর্মে দুটি বিশেষ পরিভাষা রয়েছে। ১. ইসরাফ ২. রিয়া। ইসরাফ হলো "যতটুকু প্রয়োজন ঠিক তার বাহিরে গিয়ে অপ্রয়োজনে ব্যাপক অর্থ ব্যায় তথা অপচয় করা।" কুরআনে সুরা আরাফের ৩১ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেন, 'তোমরা আহার করো ও পান করো; কিন্তু অপচ্যয় করবে না। নিশ্চয়ই আল্লাহ অপচয়কারীকে পছন্দ করেন না। ' ইসলাম মানুষের আর্থ-সামাজিক অবস্থামকে বিবেচনায় নেয়। ফলে, যে ব্যাক্তি বা পরিবারের আয় সীমা নিন্ম, তাঁদেরকে মানদন্ড ধরে যার আয়ের পরিধি বেশি তার ক্রয়সীমাকে ইসরাফ বল...

কুরবানীর মহিমা!

কাটিলো জিবন খোদার সনে, বার্ধক্য এলো হেন সন্তানের মুখে "বাবা" ডাকের সৌভাগ্য হয়নি এখনো। কষ্ট চেপে খোদায় দ্বারে অশ্রু ঝরে অঝোরে "সন্তান যদি দিতে খোদা, এই জিবন উষরে! আমার পরে যে ধরিবে হাল, নবুয়তের জিম্মাহ নৎচে আবার পথ হারাবে একেশ্বরবাদী এই উম্মাহ" খোদার দ্বারে মিনতি করেন ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ সারা-হাজেরার করুন রোদনে টলিলেন রহিম-আল্লাহ। বৃদ্ধ বয়সে হাজেরার কোলে এলো রাজপুত্র! ইব্রাহিম নবী শোকর গুজরে হইলেন বড় মত্ত। যৌবন সায়াহ্নতে জীবন প্রদীপ জ্বলিলো পূর্ণ বেশে প্রিয় পুত্র ইসমাইল এলো, হইলো পথের দিশে। যথায় তথায় পুত্তুর সাথে নবী, আনন্দে অনাবিল; আকাশ জুড়ে উড়িছে যেন সুখের আবাবিল। একদা হঠাৎ রাত্রি দ্বিপ্রহর! আধো ঘুম চোখে, অদ্ভুত স্বপ্ন হানা দিলো, ঘুম ভাঙ্গিল দুঃখে। আপন সন্তান ছুরির তলে, রজ্জুতে হস্ত বাঁধা হন্তারক বেশে শিয়রে আছেন, মমতাময়ী পিতা। আনচান মনে দিন কাটিল, ফের ফিরিলো রাত স্বপ্নে মিলিলো পুরোনো দৃশ্য, পুত্র জবোহের বাত! ক্ষণিক কালে উদয় হইলো ইব্রাহিম নবীর মনে খোদায়ী বিধান ইহাই , বিসর্জন দিতে প্রিয় ধনে। কষ্ট চাপিলেন হৃদ-মাঝারে, নবী দৃপ্ত হইলেন শত, খোদায়ী ব...

নস্টালজিয়ায় চট্টেশ্বরী!

চট্টলে এলাম বছর চারেক পর। মিথ্যে বলছি না, মধ্যখানে এক ঝাঁপটা এসেছিলাম, তা মাত্র দিন দু'টির জন্যে। যে শহরে আমার বেঁড়ে উঠা, ধূলোয়-পাতায় শৈশব-কৈশরের পদচিহ্ন আঁকা; সেখানে ঝটিকা আসাকে আমি আসবার কায়দায় ফেলি না। সে যাকগে! ভিন্ন কথায় ফিরি। চট্টলে এসে দেখি আমার বহুদিনের একটি ইচ্ছে পূরণ হয়েছে। অপছন্দের সাবেক বাসাটি পরিবর্তন করে নতুন (ভাড়া) বাসায় উঠেছি আমরা, ডিসি রোড-চকবাজারে। এখান থেকে চকবাজার,চট্টেশ্বরী, প্যারেড কর্ণার, আন্দরকিল্লা, চেরাগি পাহাড় এবং জামালখান এককথায় চট্টল মহানগরীর পছন্দের সবগুলো জায়গা একবারে হাতের নাগালে। খুশির বান নেমে এলো মনে। প্রথম দু'দিন ছোট্টু নিয়ে বড্ড ঘুরে বেড়ালাম; বাতিঘর, লালদিঘি, আন্দরকিল্লা, নন্দনকানন আর চকাবাজারের অলি-গলি। মাধ্যমিকের দিনগুলোতে ফিরে গেলাম, চকবাজার ছিলো তখন আমার স্বপ্নের নগরী! সকাল-বিকাল ছক্কড় মার্কা গাড়িগুলোতে চেঁপে চলে আসতাম কোচিং আর বন্ধুদের টানে। আজকাল কেউ কোথাও নেই, তবু অলি-গলি ঘুরে পুরনো দিনগুলোকে খুঁজি কালের অরণ্যে। বেলা বিকেলে ছুট্টুকে নিয়ে হাঁটতে বেরুলাম, চট্টেশ্বরী রোডে। তিন পাহাড়ের সন্ধিক্ষণে রোড অবস্থান। পাহাড় কেটে এখানটায় শহুরে আ...

বৈপরীত্য

হয়তো তার মৃত্যুর কথা মনে পড়ে; কারণ, বারেক আলী আবার সেই স্বপ্নটা দেখে,বারবার দেখে;যে স্বপ্নে লম্বা লেজওয়ালা একপাল বুনো কুকুর বা শেয়াল ধস্তাধস্তি করে ছিঁড়ে খায় তার ঝুলে পড়া চামড়ার কোঁচকানো শরীর।সময়ের বিবর্তনে শুকিয়ে আসা চামড়াবহুল শিকার হয়তো তাদের কাছে বিস্বাদ লাগে,ফলে চিবানোর পর গিলতে না পেরে বা দাঁতে না কাটায় ক্ষোভে বিরক্তিতে থুতুর মতো ছুঁড়ে দেয় আকাশের দিকে।কয়েক হাত দূরে গিয়ে সে থ্যাবড়ানো টুকরাগুলো ধূলার সাথে পলট দিয়ে দলা পাকায়।সারল মাংশ না পেয়ে তাদের হিংস্রতা চরমে ওঠে।ভগ্ন-নিথর ও অসহায় দেহটা টানাহেঁচড়া না করে সমর্পিত করে ক্ষুধার্ত হাড্ডিসার মুখগুলোর সামনে। বারেক আলী এ স্বপ্নটা শেষ হলে প্রতিদিনের মতো ভয় পায়,বুকে থুতু ছিঁটিয়ে বিড়বিড় করে---জলপানির ওয়াক্তে দ্যাকা স্বপন ছ্যাঁচা হয়!শব্দকটা শেষ হলে কেমন হাঁপিয়ে ওঠে, দাঁতহীন চোওয়ালের ফাঁক গলে ঘোগলা গড়াতে থাকে;সিথানের নোংরা ত্যানা দিয়ে তা মুছে, এবং নিজেকে চিমটি কেটে জীবিত না মৃত পরখ করার ইচ্ছা জাগে,কিন্তু করেনা;শনের ভাঙা বেড়ার ফাঁক দিয়ে ভোরের অরুণ রাঙা সূর্যের দিকে চেয়ে থাকে নির্লিপ্তভাবে। তবে আজ সে একটি স্বপ্ন বেশি দেখে,যা দেখার পরই সিদ্ধান্...

জিবন গদ্য

বুকপকেটে জোঁনাক পুষি, ছড়ায় যেন আলো আঁধার-ভরা জিবন মেলায়; যেন খানিক থাকি ভালো। নেই কিছু নেই; উদাস কথায় জিবন ভরপুর। স্বপ্ন দেখে রাত্রি গড়ায়, হেলায় কাটে দুপুর। সন্ধ্যে নামে জোস্না চোখে, রাত্রিতে নামে তাঁরা নদীর জলে, হেয়ালী বিকেলে, দেয় না মন সাড়া। আকাশ ফু্ঁড়ে বাদল যখন ঝর্ণাধারায় নামে, আমি তখন লিখি চিঠি, মিকাইলের নামে। সাত-সামুদ্দর, তেরো নদীর হাওয়া যেন বহে, দুঃখবিলাসী জিবন যেন দমকা হাওয়া সহে। দুর পাহাড়ি ঢিবির ধারে মাঝে মাঝেই যাই, উঁচু-নিচু জন্ম বিভাটায়, বন্ধুরতার স্বাদ পাই। তপ্ত দুপুরে কাঠ গোলাপ যখন, ঝরে বৃক্ষ-পদে শুকনো পাতার মর্মর রবে ঢেউ জাগে শ্রান্ত মনন-নদে। জিবন যতোটা দিয়াছে ধরে, ততটাই ঠেলেছে আঁধারে, দ্বন্দ্ব-দারিদ্রে মন হেরেছে; মন থাকে না, মনের শহরে।

কাগজ

টিনের মরিচাধরা ভাঙা দরজা হড় হড় শব্দে খুলে গেল।ঠেলে প্রবেশ করলেন এক মহিলা।ঢুকবার সময় ভাঙা টিন লেগে শাড়ির আঁচল চিরে গেল।পৃথিবীর তপ্ত গৃষ্মে বসন্ত রোগীর মতো দগদগে গর্তেভরা চোখমুখ ঝলসে কালো হয়ে গেছে।খসখসে গলায় জিজ্ঞেস করলেন- "বাপো!" "পকুরডার মাছ কি হামি পামুনা?" কি রে আছিয়া নাকি?আঁয় বস। পাবিনা ক্যান! আছিয়া বারান্দায় মাটির উপরই উবু হয়ে বসে।হাত দুখানা সামনে হাঁটুর উপর  রাখে - তাহলে পকুরের দখল নিমু এখন। নে গিয়া। হামাক নাকি পকুরে নামবারই দিবেনা? কে বললো? তামানে কচ্চে,হামার নাকি কোনো অধিকার নাই।একটা মেটে রং কাগজের ভাঁজ খুলে সামনে বাড়িয়ে বললেন- এই তো হামার কাগজ,দেখো দিনি।হামার নামেই তো কাগজ করা আছে। কাগজটা হাতে নিয়ে লোকটা খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পর্যবেক্ষণের পর বললেন- এ কাগজের কোনো মূল্য নাই। আমার দেওয়া স্বাক্ষর টাই আছে শুধু;আর কারও স্বাক্ষর নাই।জমি তো আমার না,আমি স্বাক্ষী। কাগজের নির্দিষ্ট জাইগাগুলো নির্দেশ করে বললেন ----জমিদাতা--১-২-৩-৪ -৫ সব ফাঁকা।স্বাক্ষীর স্বাক্ষর ১ নাম্বারে আমি।বাঁকী ২-৩ ফাঁকা। মহিলাটির সাথে তার ছোট ছেলে এসেছিল,তার পরনে লুঙ্গী;গা খালি, গোঁফের দাগ দেখা...

বৃষ্টি ভেজা দিনে...

আবার নামবে যখন ঝুম বৃষ্টি হঠাৎ থেকে যাবে পথ চলা, দমকা হওয়া উড়িয়ে নেবে ছাতাটি থামবে মিছে দুপুরের কথা বলা। তখনও আমি মাঝ পথে রইবো একাকী ঠায় দাড়িয়ে, আদ্র চুলের ফাঁকে বৃষ্টিকণা- মুক্তোর দানায়, হাত এলিয়ে। ফোঁটা বৃষ্টি হয়তো আলতো পরশে তোমাকে নামাবে মেঘের কল্পনায়, তোমার হাতটি ধরে হেঁটে যাবো বৃষ্টি-ভেজা পথের আপলনায়। নীলপাড়ে শাড়ির ভেজা আঁচলে আমায় বা হাতে বেঁধে ঘুরবে শহরে, আমি হারাবো অবলীলায় ঘন বর্ষার এই বৃষ্টি-ধূসরে।। লেখা: মোহাম্মদ বাহা উদ্দিন

আকসার ডাক!

সন্ধ্যা নামিলো যাইতুন বনে, ফেলিলো আঁধার ছায় দুরে বাজিলো মেঘের মাদল, ঘন কেশ কালো কায়। উঠোন কোনে নামিছে শিশুদল, বল খেলিবার ছলে সা'দ, জামাল, আয়শা- সালাম; ও বাড়ির কতেক ছেলে। প্রদীপ জ্বেলে আমি তখন, মন দিয়েছি পাঠে পাঠে মোটেও মন বসে নি, মন পড়েছে মাঠে। বিকেল বেলায় আমরা রোজ, ঘুড়ি উড়াই মাঠে মাঠ পেরিয়ে, ঘাট পেরিয়ে; মেঘের দেশে ঠেকে। মাঝে মাঝেই প্রশ্ন করি, "ও হে ঘুড়ির পাতা! আমায় কি তুমি বইয়ে নেবে; আল-আকসা হেথা?" হেথায় ছিলো ছোট গ্রাম, যাইতুন বনের ধারে আরও ছিলো চিকন নদী, বইছে সারে সারে। সে গাঁয়ের-ই একটি ধারে, ছিলো মোদের নীড় হাজার সুখের; হাসি-কান্নার ছিলো নিত্য ভীড়। মায়ের কোলে গল্প শুনে, কেঁটেছে কতো বেলা বাবার সাথে হাঁটুরে দিনে, কিনেছি খেলনা মেলা। একদিন হঠাৎ হানাদার এলো, ফুটালো বারুদ-বোমা ট্যাংক-গুলিতে মারিলো মানুষ, পুড়ালো বসত-জমা। শান্ত সবুজ গাঁও-টি তখন নরক-আগুনে জ্বলে পুড়ে মিশিলো ধোঁয়া-ধূলোয়; ছাই হইলো তলে। বাস্তু হারিয়ে, ভিটে খুইয়ে, দেশ হারিয়ে শেষে জীর্ণ কুটিরে মিলিলো ঠাই, উদ্বাস্তুর বেশে। যুগ পেরুলো ঘূর্ণিপাকে, কাটিলো কতো কাল!  নির্ঘুম কাটিলো সহস্র রজনী, আসি নি মুক্ত সকাল। জানি না কবে...

অযাচিত বায়না

আমার যেদিন অনেক টাকা হবে, সেদিন কিছু জোঁনাক পোকা কিনবো। হলদে আলোতে মুছে যাবে জিবন-জোড় আঁধার। এ শহরের সোডিয়ামে আর মনে ধরে না।। আমার যে দিন কিছু পয়সা-কড়ি হবে, সেদিন মেঘনার চরে একটি কুঁড়ে ঘর কিনবো। সে ঘরে বর্ষা জল দেবে, শীত দেবে হিমের ছোঁয়া! এই ঢাকার বদ্ধ গরাদে আর প্রাণ টেকে না। আমি যেদিন বেশ কয়'টি টাকা হবে, সেদিন তোমার স্কেচ আঁকিয়ে মনের দেয়ালে সাঁটিয়ে দিবো। তোমার নয়নতাঁরায় আমি দেখেছি বিমুগ্ধ নীল জোৎস্না। রাত্রির বুকে জেগে থাকা চাঁদে আজকাল তৃষ্ণা মেটে না। অর্থহীন পৃথিবীতে স্বপ্নগুলো মৃত প্রজাপতি, রং-বেরং তার ডানা, অথচ প্রাণ নেই-তাই উড়ে মানা।।