সন্ধ্যা নামিলো যাইতুন বনে, ফেলিলো আঁধার ছায়
দুরে বাজিলো মেঘের মাদল, ঘন কেশ কালো কায়।
উঠোন কোনে নামিছে শিশুদল, বল খেলিবার ছলে
সা'দ, জামাল, আয়শা- সালাম; ও বাড়ির কতেক ছেলে।
প্রদীপ জ্বেলে আমি তখন, মন দিয়েছি পাঠে
পাঠে মোটেও মন বসে নি, মন পড়েছে মাঠে।
বিকেল বেলায় আমরা রোজ, ঘুড়ি উড়াই মাঠে
মাঠ পেরিয়ে, ঘাট পেরিয়ে; মেঘের দেশে ঠেকে।
মাঝে মাঝেই প্রশ্ন করি, "ও হে ঘুড়ির পাতা!
আমায় কি তুমি বইয়ে নেবে; আল-আকসা হেথা?"
হেথায় ছিলো ছোট গ্রাম, যাইতুন বনের ধারে
আরও ছিলো চিকন নদী, বইছে সারে সারে।
সে গাঁয়ের-ই একটি ধারে, ছিলো মোদের নীড়
হাজার সুখের; হাসি-কান্নার ছিলো নিত্য ভীড়।
মায়ের কোলে গল্প শুনে, কেঁটেছে কতো বেলা
বাবার সাথে হাঁটুরে দিনে, কিনেছি খেলনা মেলা।
একদিন হঠাৎ হানাদার এলো, ফুটালো বারুদ-বোমা
ট্যাংক-গুলিতে মারিলো মানুষ, পুড়ালো বসত-জমা।
শান্ত সবুজ গাঁও-টি তখন নরক-আগুনে জ্বলে
পুড়ে মিশিলো ধোঁয়া-ধূলোয়; ছাই হইলো তলে।
বাস্তু হারিয়ে, ভিটে খুইয়ে, দেশ হারিয়ে শেষে
জীর্ণ কুটিরে মিলিলো ঠাই, উদ্বাস্তুর বেশে।
যুগ পেরুলো ঘূর্ণিপাকে, কাটিলো কতো কাল!
নির্ঘুম কাটিলো সহস্র রজনী, আসি নি মুক্ত সকাল।
জানি না কবে, আর কতো কাল! রইবো এমন সনে
বাবা-কাকারা সব প্রাণ দিয়েছে, দেশ স্বাধীনের পণে।
যুদ্ধ-যুদ্ধ, যুদ্ধ গড়ায়, হারে মানবতা
লক্ষ প্রাণ নিথর হয়, মেলে না স্বাধীনতা।
দুর হতে শুনি, আকসার রোঁদন; ত্রাহি ত্রাহি রবে
গুণিছে প্রমাদ, প্রলয় ব্যাথায়, সন্তান হারা দু:খে
"ফিরে এসো সন্তানেরা মোর, রিক্ত শূণ্য উদরে
মুক্ত করো আমার ভূমি স্বাধীন করো মোরে।"
লেখা: মোহাম্মদ বাহা উদ্দিন

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন