সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

আকসার ডাক!

সন্ধ্যা নামিলো যাইতুন বনে, ফেলিলো আঁধার ছায়
দুরে বাজিলো মেঘের মাদল, ঘন কেশ কালো কায়।
উঠোন কোনে নামিছে শিশুদল, বল খেলিবার ছলে
সা'দ, জামাল, আয়শা- সালাম; ও বাড়ির কতেক ছেলে।
প্রদীপ জ্বেলে আমি তখন, মন দিয়েছি পাঠে
পাঠে মোটেও মন বসে নি, মন পড়েছে মাঠে।
বিকেল বেলায় আমরা রোজ, ঘুড়ি উড়াই মাঠে
মাঠ পেরিয়ে, ঘাট পেরিয়ে; মেঘের দেশে ঠেকে।
মাঝে মাঝেই প্রশ্ন করি, "ও হে ঘুড়ির পাতা!
আমায় কি তুমি বইয়ে নেবে; আল-আকসা হেথা?"
হেথায় ছিলো ছোট গ্রাম, যাইতুন বনের ধারে
আরও ছিলো চিকন নদী, বইছে সারে সারে।
সে গাঁয়ের-ই একটি ধারে, ছিলো মোদের নীড়
হাজার সুখের; হাসি-কান্নার ছিলো নিত্য ভীড়।
মায়ের কোলে গল্প শুনে, কেঁটেছে কতো বেলা
বাবার সাথে হাঁটুরে দিনে, কিনেছি খেলনা মেলা।
একদিন হঠাৎ হানাদার এলো, ফুটালো বারুদ-বোমা
ট্যাংক-গুলিতে মারিলো মানুষ, পুড়ালো বসত-জমা।
শান্ত সবুজ গাঁও-টি তখন নরক-আগুনে জ্বলে
পুড়ে মিশিলো ধোঁয়া-ধূলোয়; ছাই হইলো তলে।
বাস্তু হারিয়ে, ভিটে খুইয়ে, দেশ হারিয়ে শেষে
জীর্ণ কুটিরে মিলিলো ঠাই, উদ্বাস্তুর বেশে।
যুগ পেরুলো ঘূর্ণিপাকে, কাটিলো কতো কাল! 
নির্ঘুম কাটিলো সহস্র রজনী, আসি নি মুক্ত সকাল।
জানি না কবে, আর কতো কাল! রইবো এমন সনে 
বাবা-কাকারা সব প্রাণ দিয়েছে, দেশ স্বাধীনের পণে।
যুদ্ধ-যুদ্ধ, যুদ্ধ গড়ায়, হারে মানবতা
লক্ষ প্রাণ নিথর হয়, মেলে না স্বাধীনতা।
দুর হতে শুনি, আকসার রোঁদন; ত্রাহি ত্রাহি রবে
গুণিছে প্রমাদ, প্রলয় ব্যাথায়, সন্তান হারা দু:খে
"ফিরে এসো সন্তানেরা মোর, রিক্ত শূণ্য উদরে
মুক্ত করো আমার ভূমি স্বাধীন করো মোরে।"



লেখা: মোহাম্মদ বাহা উদ্দিন

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

বিদায় অনুষ্ঠানের স্ক্রিপ্ট (নমুনা)

জনাব মোঃ আশরাফ উদ্দিন, রেক্টর বিপিএটিসি (সরকারের সচিব) , এঁর বিদায় অনুষ্ঠান, তারিখঃ ৩০-মে-২০২৪ ইং, সময়ঃ ১১.০০ ঘটিকা। বিদায় অনুষ্ঠানের সম্ভাব্য ক্রমধারা   ১) পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত  ২) কর্মচারী ক্লাব এর সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্য ৩ ) কর্মচারী ক্লাব এর সভাপতির বক্তব্য ৪ ) জনাব রাজীব কুমার ঢালী, সহকারী পরিচালক এর বক্তব্য ৫) বিপিএটিসি স্কুল এন্ড কলেজের পক্ষ হতে মান পত্র প্রদান ৬) জনাব শামীম হোসেন, উপপরিচালক এর বক্তব্য ৭) জনাব হাসান মূর্তাজা মাসুম, পরিচালক এর বক্তব্য ৮) বিপিএটিসি স্কুল এন্ড কলেজের পক্ষ হতে মান পত্র প্রদান ৯) আঞ্চলিক লোক-প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রসমূহের পক্ষ হতে উপ-পরিচালক, আঞ্চলিক লোক-প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, রাজশাহী এর বক্তব্য ১০) লেডিস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদিকা এর বক্তব্য ১১) জনাব মোঃ আশরাফুজ্জামান, প্রকল্প পরিচালক এর বক্তব্য ১২)  জনাব মোঃ শাহীনূর রহমান, এমডিএস এর বক্তব্য ১৩) জনাব  মোঃ মনিরুল ইসলাম, এমডিএস এর বক্তব্য ১৪) জনাব মোঃ জাকির হোসেন, এমডিএস এর বক্তব্য ১৫) বিদায়ী রেক্টর মহোদয়কে ফুল এবং বিদায়ী উপহার প্রদান  ...

সুবহানাল্লাহঃ পেন্সিল_আর্ট

 

বৈপরীত্য

হয়তো তার মৃত্যুর কথা মনে পড়ে; কারণ, বারেক আলী আবার সেই স্বপ্নটা দেখে,বারবার দেখে;যে স্বপ্নে লম্বা লেজওয়ালা একপাল বুনো কুকুর বা শেয়াল ধস্তাধস্তি করে ছিঁড়ে খায় তার ঝুলে পড়া চামড়ার কোঁচকানো শরীর।সময়ের বিবর্তনে শুকিয়ে আসা চামড়াবহুল শিকার হয়তো তাদের কাছে বিস্বাদ লাগে,ফলে চিবানোর পর গিলতে না পেরে বা দাঁতে না কাটায় ক্ষোভে বিরক্তিতে থুতুর মতো ছুঁড়ে দেয় আকাশের দিকে।কয়েক হাত দূরে গিয়ে সে থ্যাবড়ানো টুকরাগুলো ধূলার সাথে পলট দিয়ে দলা পাকায়।সারল মাংশ না পেয়ে তাদের হিংস্রতা চরমে ওঠে।ভগ্ন-নিথর ও অসহায় দেহটা টানাহেঁচড়া না করে সমর্পিত করে ক্ষুধার্ত হাড্ডিসার মুখগুলোর সামনে। বারেক আলী এ স্বপ্নটা শেষ হলে প্রতিদিনের মতো ভয় পায়,বুকে থুতু ছিঁটিয়ে বিড়বিড় করে---জলপানির ওয়াক্তে দ্যাকা স্বপন ছ্যাঁচা হয়!শব্দকটা শেষ হলে কেমন হাঁপিয়ে ওঠে, দাঁতহীন চোওয়ালের ফাঁক গলে ঘোগলা গড়াতে থাকে;সিথানের নোংরা ত্যানা দিয়ে তা মুছে, এবং নিজেকে চিমটি কেটে জীবিত না মৃত পরখ করার ইচ্ছা জাগে,কিন্তু করেনা;শনের ভাঙা বেড়ার ফাঁক দিয়ে ভোরের অরুণ রাঙা সূর্যের দিকে চেয়ে থাকে নির্লিপ্তভাবে। তবে আজ সে একটি স্বপ্ন বেশি দেখে,যা দেখার পরই সিদ্ধান্...