কাটিলো জিবন খোদার সনে, বার্ধক্য এলো হেন
সন্তানের মুখে "বাবা" ডাকের সৌভাগ্য হয়নি এখনো।
কষ্ট চেপে খোদায় দ্বারে অশ্রু ঝরে অঝোরে
"সন্তান যদি দিতে খোদা, এই জিবন উষরে!
আমার পরে যে ধরিবে হাল, নবুয়তের জিম্মাহ
নৎচে আবার পথ হারাবে একেশ্বরবাদী এই উম্মাহ"
খোদার দ্বারে মিনতি করেন ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ
সারা-হাজেরার করুন রোদনে টলিলেন রহিম-আল্লাহ।
বৃদ্ধ বয়সে হাজেরার কোলে এলো রাজপুত্র!
ইব্রাহিম নবী শোকর গুজরে হইলেন বড় মত্ত।
যৌবন সায়াহ্নতে জীবন প্রদীপ জ্বলিলো পূর্ণ বেশে
প্রিয় পুত্র ইসমাইল এলো, হইলো পথের দিশে।
যথায় তথায় পুত্তুর সাথে নবী, আনন্দে অনাবিল;
আকাশ জুড়ে উড়িছে যেন সুখের আবাবিল।
একদা হঠাৎ রাত্রি দ্বিপ্রহর! আধো ঘুম চোখে,
অদ্ভুত স্বপ্ন হানা দিলো, ঘুম ভাঙ্গিল দুঃখে।
আপন সন্তান ছুরির তলে, রজ্জুতে হস্ত বাঁধা
হন্তারক বেশে শিয়রে আছেন, মমতাময়ী পিতা।
আনচান মনে দিন কাটিল, ফের ফিরিলো রাত
স্বপ্নে মিলিলো পুরোনো দৃশ্য, পুত্র জবোহের বাত!
ক্ষণিক কালে উদয় হইলো ইব্রাহিম নবীর মনে
খোদায়ী বিধান ইহাই, বিসর্জন দিতে প্রিয় ধনে।
কষ্ট চাপিলেন হৃদ-মাঝারে, নবী দৃপ্ত হইলেন শত,
খোদায়ী বিধান পালন করিবো, প্রিয় হোক পুত্র যত!
একদা প্রাতে, হাজেরাকে বলিলেন: "সাজিয়ে দাও পুত্রে মোর
মেলাই যাইবো, খেলনা কিনিতে, দেখিবো ঘোর-দৌড়।"
আতর-সুরমা মাখিয়া ইসমাইল, নতুন লেবাস পড়ে
উচ্ছল মনে বাহির হইলো বাবার হস্ত ধরে।
উষ্ট্র চলিছে ধূ ধূ মরুতে, গন্তব্য নেই জানা
পিতা-পুত্র কেহই না জানিল, অন্যের বাসনা।
পিতা হঠাৎ থামিলেন হেন, কহিলেন "পুত্র হে!
স্বপনে দেখিয়াছি, তোমায় বিসর্জন দিয়াছি খোদার রাহে।"
ইসমাঈল কহিলেন; "হে মোর পিতা মান্যবর!
চালাও কৃপাণ খোদার নামে, পেয়ো না ভয়-ঢর।"
চক্ষু মুদিলেন ইব্রাহিম! চলিলো ছুরি শাঁখের
ফিনকি দিয়া রক্ত বহিলো, অন্তর কাঁপিলো আঁখের।
হায় মোর পুত্ররে হারায়েছি আজি, এ কেমন পিতৃ হই!
সন্তানের রক্তে রঞ্জিত হস্ত! পাষাণ হৃদয়ে রই।
পৃথিবী জোড়া গ্লানি আজি, ঠেকিয়াছে পদতলে
গন্ড দু'খানি ভিজিয়া উঠিলো, দুই নয়নের জলে।
হঠাৎ পাশে ইসমাইলের হাসি ভাসিয়া আসিলো কানে
চক্ষু মেলিয়া জড়াইয়া ধরিলেন মহা আনন্দের বানে।
করতলে দেখেন জান্নাতি উষ্ট্র, রক্তে প্রবাহমান
জিব্রাইল শুধাইলেন, "রাখিয়াছো তুমি নবুয়তের মহান মান।"
স্বপ্ন তোমার সত্যি হইয়াছে, খোদা তা'লার রাহে,
খোদা তোমায় নাম দিয়াছেন "খলিলুল্লাহ" দোস্ত হে।
সেই হতে অদ্য মুসলিম উম্মাহ জিলহজ্জ মাসটি এলে
কুরবানি দেয় উকৃষ্ট পশু, দান করে বিরলে।
মনের পশু কুরবানি হোক, আত্ম জাগুক হেন!
হিংসা-বিদ্বেষ মুছিয়া গিয়া ধনী-গরিব সুখ বাটে যেন।
লেখা: মোহাম্মদ বাহা উদ্দিন।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন