জ্বরটা মরুসাইমুমের মতো হটাত ঝড়বেগে এলো, কিছুক্ষণ আমাকে ঘোরের মধ্যে রেখে আবার ছেড়ে চলে গেলো। প্রথমদিনটায় ৭-৮ বার মাথায় পানি ঢালার পরও যখন বডিটেম্পারেচার কোনভাবেই ১০২-১০৩ ডিগ্রীর এর নিচে নামছিলো না, তখন ভেবে নিয়েছিলাম যে, আয়ুবাবুজী এবার আমাকে আলবিদা জানাতে সমস্ত আয়োজন পাকাপোক্ত করেই এসেছে। তবে, আজ সন্ধ্যা থেকে খানিকটা সুস্থবোধ করছি। সপ্তম সেমিস্টারের কাফিনে সর্বশেষ পেরেকটি কালকে ঠুকে দেয়ার পালা। ক্লাস কো-অরডিনেটর মহোদয়ের ভাইভা ও এস্যাইনমেন্ট সাবমিশনের ডেডলাইন সংবলিত মহামূল্যবান পোস্টখানি চোখের সামনে ট্র্যাফিক সিগন্যালের লাল বাতি জ্বালিয়ে দিলো। হুম, আজ রাতের মধ্যেই এস্যাইনমেন্ট সম্পূর্ণ করতে হবে, সুতরাং রাতজাগা পাখিদের বেসুরো কর্কশ গানের মজলিশে আমাকেই আজ নির্বাক শ্রোতা বনে থাকতে হবে। কোন উপায়ন্তর নেই!!! কিন্তু এস্যাইনমেন্ট এর নাম ঝপতে ঝপতেই ঘুম চলে এলো। পৌনে এক ঘণ্টার মাথায় শরীফ আমার হাল-হাকীকত দেখতে আসায় অলক্ষুণে ঘুমটা কেটে গেলো। বুঝলাম কফি না খেলে চলবে না। হলের দোকান থেকে কফি নিয়ে বারান্দায় এসে দাঁড়ালাম। দৃষ্টি সামনে প্রসারিত হলো। সামনে হলের মেঘনা ও যমুনা ব্লকের সুবিন্যাস্ত পরিসর, প্রতিটি রুমেই একই সাথে একই আঙ্গিকে কতকগুলো লাইট-ফ্যান জ্বলছে আর ঘুরছে। উপরে সুবিশাল আকাশের নীল সামিয়ানা যমুনা ব্লকের ছাদে নেমে গেছে। নিচে হেলিপ্যাড আকৃতির মাঠটি চতুরদিক থেকে হালকা শুভ্র আলোর আভা পেয়ে সর্গোদ্যানে পরিণত হয়েছে, সেখানে ফুটেছে অসংখ্য নাম না জানা হলদে ফুল, জ্যামিতিক চতুর্ভুজ আকৃতিতে সাজানো খাঁজ কাঁটা সবুজ লতানো গাছগুলোর সারি। এপাশটাতে আছে প্লেয়ার-ভিউয়ারশুন্য নিষ্প্রভ ব্যাটমিন্টন খেলার কোর্টটি, ক’দিন আগেও একঝাঁক তরুণের সোরোগলে মেতে থাকত কোর্টটি। চাঁদটাকে দেখতে পাইনি, হয়ত হলের পেছনের দিকটায় লুকিয়েছে। কফির উষ্ণতা প্লাস্টিকের কাফ ছাড়িয়ে হাতের তালু স্পর্শ করলো। তাকিয়ে দেখি কফির ধোঁয়ার ব্যাপ্তি ক্রমশ ক্ষীণ হয়ে আসছে, উপরের ফেনার আবরণটিও অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে। এবার কফির পেয়ালায় চুমুক বসালাম। নিঃশেষ হয়ে গেলো কফি, কাফটা বীনে ফেলে দিয়ে সামনে বিল দিতে এগুলাম। মাঠ পেরিয়ে যাওয়ার আগে পরিত্যাক্ত কাফটির দিকে তাকালাম, মনে হলো সে আমায় ডাকছে মহনীয় ভঙ্গীতে “দেবে কি আরেকটিবার চুমুক এঁকে, এই প্রিয়ার গালে??” নিরুত্তর হয়েই সামনে চললাম। কারন, এস্যাইনমেন্ট করতে হবে......
জ্বরটা মরুসাইমুমের মতো হটাত ঝড়বেগে এলো, কিছুক্ষণ আমাকে ঘোরের মধ্যে রেখে আবার ছেড়ে চলে গেলো। প্রথমদিনটায় ৭-৮ বার মাথায় পানি ঢালার পরও যখন বডিটেম্পারেচার কোনভাবেই ১০২-১০৩ ডিগ্রীর এর নিচে নামছিলো না, তখন ভেবে নিয়েছিলাম যে, আয়ুবাবুজী এবার আমাকে আলবিদা জানাতে সমস্ত আয়োজন পাকাপোক্ত করেই এসেছে। তবে, আজ সন্ধ্যা থেকে খানিকটা সুস্থবোধ করছি। সপ্তম সেমিস্টারের কাফিনে সর্বশেষ পেরেকটি কালকে ঠুকে দেয়ার পালা। ক্লাস কো-অরডিনেটর মহোদয়ের ভাইভা ও এস্যাইনমেন্ট সাবমিশনের ডেডলাইন সংবলিত মহামূল্যবান পোস্টখানি চোখের সামনে ট্র্যাফিক সিগন্যালের লাল বাতি জ্বালিয়ে দিলো। হুম, আজ রাতের মধ্যেই এস্যাইনমেন্ট সম্পূর্ণ করতে হবে, সুতরাং রাতজাগা পাখিদের বেসুরো কর্কশ গানের মজলিশে আমাকেই আজ নির্বাক শ্রোতা বনে থাকতে হবে। কোন উপায়ন্তর নেই!!! কিন্তু এস্যাইনমেন্ট এর নাম ঝপতে ঝপতেই ঘুম চলে এলো। পৌনে এক ঘণ্টার মাথায় শরীফ আমার হাল-হাকীকত দেখতে আসায় অলক্ষুণে ঘুমটা কেটে গেলো। বুঝলাম কফি না খেলে চলবে না। হলের দোকান থেকে কফি নিয়ে বারান্দায় এসে দাঁড়ালাম। দৃষ্টি সামনে প্রসারিত হলো। সামনে হলের মেঘনা ও যমুনা ব্লকের সুবিন্যাস্ত পরিসর, প্রতিটি রুমেই একই সাথে একই আঙ্গিকে কতকগুলো লাইট-ফ্যান জ্বলছে আর ঘুরছে। উপরে সুবিশাল আকাশের নীল সামিয়ানা যমুনা ব্লকের ছাদে নেমে গেছে। নিচে হেলিপ্যাড আকৃতির মাঠটি চতুরদিক থেকে হালকা শুভ্র আলোর আভা পেয়ে সর্গোদ্যানে পরিণত হয়েছে, সেখানে ফুটেছে অসংখ্য নাম না জানা হলদে ফুল, জ্যামিতিক চতুর্ভুজ আকৃতিতে সাজানো খাঁজ কাঁটা সবুজ লতানো গাছগুলোর সারি। এপাশটাতে আছে প্লেয়ার-ভিউয়ারশুন্য নিষ্প্রভ ব্যাটমিন্টন খেলার কোর্টটি, ক’দিন আগেও একঝাঁক তরুণের সোরোগলে মেতে থাকত কোর্টটি। চাঁদটাকে দেখতে পাইনি, হয়ত হলের পেছনের দিকটায় লুকিয়েছে। কফির উষ্ণতা প্লাস্টিকের কাফ ছাড়িয়ে হাতের তালু স্পর্শ করলো। তাকিয়ে দেখি কফির ধোঁয়ার ব্যাপ্তি ক্রমশ ক্ষীণ হয়ে আসছে, উপরের ফেনার আবরণটিও অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে। এবার কফির পেয়ালায় চুমুক বসালাম। নিঃশেষ হয়ে গেলো কফি, কাফটা বীনে ফেলে দিয়ে সামনে বিল দিতে এগুলাম। মাঠ পেরিয়ে যাওয়ার আগে পরিত্যাক্ত কাফটির দিকে তাকালাম, মনে হলো সে আমায় ডাকছে মহনীয় ভঙ্গীতে “দেবে কি আরেকটিবার চুমুক এঁকে, এই প্রিয়ার গালে??” নিরুত্তর হয়েই সামনে চললাম। কারন, এস্যাইনমেন্ট করতে হবে......

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন