সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

নদী কাঁদলে

টল-টলে জলে নদী কুলু কুলু! উপরে মুখপোড়া চিল অনবরত চক্কর দিয়ে যায়, জলের অগভীর কোনে কোনো রুপোলী মাছ সূর্য-কিরণে গা চকচক করে উঠলে অমনি তাকে ছো মেরে নিয়ে খাবে বলে। দিনভর বিশাল নদীর অথৈ জলের মিছিলে ছুটে চলে অগনিত লঞ্চ-স্টীমার, বালু তোলা জাহাজ আর মাছ ধরা নৌকা। সমস্ত দিন জুড়ে জলের নিরন্তর সন্তরণে নদীর ক্লান্তি নেই; শ্রান্তি নেই অজস্র জন-যানবাহন বইবার, তবে খিদে পেলেই রাক্ষুসে গোগ্রাসে গিলে নেয় কূলবর্তী অভাগা কোন জনপদ। আর রাত্রী যখন নামে! তখন নদী তার যাপিত জীবনের সমস্ত অভিমান পুড়িয়ে কেঁদে উঠে। বড্ড করুণ তার কান্নার সুর, ঠিক সদ্য বিধবা রমনীর কান্নার মতো; যার একটানা হু হু কান্নায় গাছের পাতারাও শামিল হয় করুণ কাঁদনে। অতঃপর রাত যত গভীর হয় কান্নার অনুরণন তত তীব্রতর হয় ক্ষণে ক্ষণে।।
নদীর নাম মেঘনা। আর মেঘনার নিষুতি রাতের সেই কান্না শুনতে পাওয়া যায় কূল ছাড়িয়ে দুই মাইল দুরের ছিম ছাম ছোট বাড়িটি থেকেও। অন্তহীন কান্নার রহস্য ভেদে ভিন্ন-অভিন্ন নানা কৌতূহলী প্রশ্নের জন্ম দেয় শিশুজনের মনে। সন্ধ্যায় চাঁদোয়ার নিচে উঠানে পাতা শীতলপাটিতে শুয়ে নানুর গলা জড়িয়ে রুপকথার গল্প শুনতে শুনতে হতচ্ছাড়া একটি শিশু অবলীলায় জিজ্ঞেস করে
"নানু! ওটা কিসের আওয়াজ? কে কাঁন্দে?"
নানু ঝটপট উত্তর দেয়
"এটা মেঘনার ডাক। মেঘনায় কাঁন্দে"
শিশুটি পরবর্তী প্রশ্নে চলে যায়,
"মেঘনায় কাঁন্দে কেনো?"
নানু বানিয়ে একটা উত্তর দিয়ে দেয়। একদিন নয়, শিশুটি প্রায় দিনই জিজ্ঞেস করে একই প্রশ্ন। কারন, মেঘনার অন্তহীন নিশি-কান্নার রহস্য সে ভেদ করতে পারে না; অমন চাঁদনী রাতে য়েখানে ঝিঁঝিঁরা ডাকছে বাগানে বাগানে অার জোস্নারা হেসে-খেলে বেড়াচ্ছে উঠোনজুড়ে, তবে সে কেন কাঁদছে? কোন অপার দুঃখে! প্রশ্নের উত্তরও ভিন্ন জনের কাছে ভিন্ন রকম পায়; তাই কৌতূহল আর মেটে না।
প্রায় দুটো যুগ গত হতে চলেছে আজ। এখানে মেঘনার সেই ভাঙ্গন আর নেই এখন। শানবাঁধানো সর্পিল দীর্ঘ বেড়িবাঁধ পেতে তাকে খাঁচায় বন্দী করে দেয়া হয়েছে, নোখর কেঁটে ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে তার সেই রাক্ষুসে হিংস্রতা। তবে নিষুতি রাতে আজো মেঘনা করুন কাঁদনে কেঁদে যায়। কিন্তু – সেই কান্না কি শিশুটির মনে আজো কৌতূহলের জন্ম দেয়?– নাহ! দিন বড্ড গড়িয়েছে। শিশুটি একদিন মস্ত চিল হয়ে উড়ে গেছে অন্য শহরে। সহসাই ছেলেবেলার পুরোনো প্রশ্নটি আর জাগে না, হয়তোবা মাঝে মাঝে জাগে কিন্তু উত্তর দেয়ার জন্য সেই আর নানু বেঁচে নেই আজ!

এককালের সেই কৌতূহলী শিশুটি আজকের আমিই! আর যে বাড়িটির কথা বলছি তা আমার মাতুলালয়। সারা বঙ্গ ঘুরে পদ্মা-মেঘনা-ডাকাতিয়া নদী-সঙ্গমে মেতে উঠে চাঁদপুরের উপকন্ঠে, তারপর তিন নদীর মিশ্রিত যে জলের ধারাটি মেঘনা নাম ধারন করে হাইমচর উপজেলা ঘেষে দক্ষিন বঙ্গে গিয়ে সাগরে গিয়ে মিশেছে তার এক কূলে ছোট নীলকমল ঘাট। ঘাট পেরিয়ে আড়াই মাইল আন্দাজ হাইমচর-রায়পুর সড়কটি ধরে আগালেই আমার নানু বাড়ি। বাড়িটি পড়েছে ফরিদগঞ্জ ত্রিসীমানায়, অথচ রাস্তার ওপারটা হাইমচর। তবে একে বাড়ি নয় ছোট্ট একটি সার্বভৌম ভূ-খন্ডই বলি। কি নেই বাড়িতে! ঘাটা (গাডা) পেরিয়ে ঢুকতেই ডানে পড়বে বড় পুকুরটি আর ছোট নামাজ ঘর, বামে কাছারী আর বাড়ির কবরস্থান; তারপর সামনে এগোলে ৫-৬ টি ঘর, পেচনে ছোট আরেকটি পুকুর আর তিনটে দিক সুপারি গাছের বাগান দিয়ে ঘেরা। এই মাতুলালয়ে আমার জন্ম, সোনালি শৈশবটাও কেঁটেছে এখানেই। ষোড়শবর্ষে বিবাহের পীড়িতে বসা মায়ের প্রথম দুসন্তানের আমি ও আমার অনুজ বয়সে একেবারেই পিঠেপিঠি। সন্তান পালনে মা তখন নিদারুণ অর্বাচীন! অথচ নানু তার নয় নয়টি সন্তান মানুষ করে খালি কোলে বসে আছেন। তাই হাটি হাটি পা পা বয়সে নানু আমাকে নিজের কাছে নিয়ে এলেন। তখন বাড়ি ভর্তি লোক, মামারা সারাদিন এদিক-সেদিক ছুটোছুটি করেন সাথে কুনু নানু- দেলু নানুর ছেলেরাও আসেন, অন্য চার-পাঁচটি ঘরের জ্ঞাতি মামা আর সমবয়সী সব মামাতো ভাই-বোনেরা! সব মিলেয়ে বাড়িতে সব সময় চাঁদের হাট লেগেই থাকতো। মামারা বাড়ি ফিরতে খালি হাতে কিভাবে ফিরবে? বাড়িতে যে একমাত্র ভাগনে! নানা বড় গোছের কৃষক ছিলেন। সারাদিন কৃষিকাজ করে তিনিও বিকেলে ফিরতেন নাতির জন্য হরেক কিছু নিয়ে। ওদিকে বাড়ির সমবয়সীদের সাথে আমার দুরন্তপনার জুড়ি! পরান, কালু, সাথী, খুকি, মুন্নি- সুমনদের সাথে সারাদিন বাগানে আম-সুপারি কুড়াই, ছড়া কেটে গোল্লাছুট খেলি, পুকুরে ভেলা বানিয়ে সাঁতার কাটি, সন্ধ্যে নামলে নারিকেলের খোলস পিটিয়ে ঝিঁঝিঁ ধরি আরো কতো কি! চক-স্লেটটাও বইবার বয়স তখন; নানুর কাছে তখন শিখি দাগ টেনে অ-আ আঁকা, সিপারা পড়া। তারপর যেদিন বাঁ হাত মাথার উপর দিয়ে টেনে ডান কান স্পর্শ করতে পারলাম, সেদিন নানু নিয়ে স্কুলে ভর্তি করিয়ে দিলেন। বাড়ির সমবয়সী প্রায় সবগুলো একই ক্লাসে ছিলাম। দল বেঁধে বই কোলে স্কুলে যেতাম আর বুকপকেটে থাকতো ইকোনো কলম। বইয়ে পাতা গুনে পড়া মুখাস্তের চেয়ে বারান্দায় দড়ি-লাফ, ক্লাসে লুকোচুরি আথবা স্কুল মাঠে গোল্লাছুটে মন থাকতো বেশি। তবে সন্ধ্যা হলেই কুপি জ্বালিয়ে মিছেমিছি পড়তে বসতাম! এই ঘর ওই ঘরের সবার সাথে পাল্লা দিয়ে জোরে বর্ণমালা-নামতা পড়ে পাঠ উদ্ধার করে ঝিঁঝিঁ ধরতাম বাড়ির ছেলেরা মিলে। রাতে কিচ্ছা শোনানোর শর্তে ঘুমাতাম নানা-নানুর কাছে।
মেঘে মেঘে অনেক বেলা কেটে গেল। তখন সবেমাত্র ক্লাস থ্রীতে উঠি, বাবা তার কর্মস্থল চট্টগ্রামে পরিবার নিয়ে এলেন। আমার বন-বাদাড়ে ঘুরোঘুরি আর মিছেই স্কুলের চৌকাঠ মড়ানো পছন্দ হলো না তার, চট্টলায় এনে কড়া একটা স্কুলে ভর্তি করিয়ে দিলেন। কিন্তু এখানে এসে মহাফাঁপড়ে পড়লাম। একদিকে আমার জগৎ-টা হারালাম অন্যদিকে চাটগাঁইয়া ভাষা ও সংস্কৃতিতে মানিয়ে নিতে বেশ বেগ পোহাতে হলো। বড় ব্যাপারটা ছিলো এখানে কোন আত্মীয়-স্বজন ছিলো না ফলে আমার বিস্তৃত পৃথিবীটা হঠাৎ বড্ড সংকীর্ণ হয়ে গেলো। চট্টলায় বছরে দুই ঈদেই মাত্র বাড়ি যাওয়ার সুযোগ পেতাম, কখনোবা বছরে একবার। ফলে পুরো বছর জুড়ে একটা সুপ্ত আকুতি থাকতো কবে আসবে ঈদ! ঈদ পালনে আমি বরাবরই নানু বাড়িতে থাকার জেদ করতাম, দাদাবাড়ী সে কি কখনো চিনতাম ছোটবেলায়! মামারা সবাই তখন বাড়ি আসতেন পরিবার নিয়ে, ফলে নানুবাড়ি প্রতি ঈদেই বড়রকম উৎসবমুখর হয়ে থাকতো। বাড়ির কাছেই শতবর্ষী প্রকান্ড ঈদগাঁ। ঈদগাঁয়ের বাহিরে নামাযের পর মেলা বসতো। সেই মেলাই যেন আমার ছোটবেলার নিতাই গঞ্জ। কি না উঠতো মেলায়! কাঠের ঘোড়া, মাটির খেলনা, রঙ্গীন কাঁচের রকেট, পিস্তল, বাঘের মুখোশ, প্লাস্টিকের সাপ আরো যা যা ছেলেবেলার বায়না মেটায়।

বাড়ি চাঁদের হাটে শূন্যতা নেমে এসেছিলো একসময়, কারন সবাই তখন শহর ছুট। ফলে বাড়ি গেলে নানা-নানু বড্ড খুশি হতেন। নানা তার ক'ঘরে কয়টা নাতি আছেন তা হাতে গুনে দেখাতেন আর আল্লাহর কাছে দোয়া করতেন যেন তিনি আরো বরকত দেন। একদিন নানার আয়ুটা ফুরিয়ে এলো, ক্যান্সারে ভুগে পরাপারে পাড়ি জমালেন। তারপর সকলে একসাথে ঈদে বাড়ি আসার সংস্কৃতিটা বন্ধ হয়ে গেলো, হারিয়ে গেলো ছেলেবেলার মধুর ঈদের দিনগুলো।

নানা মারা যাওয়ার পর নানু টঙ্গীতে মামাদের বাসায় থিতু হলেন। কালক্রমে নগর-জিবনে সবার ব্যাস্ততা বেড়ে যায়, খুব চাইলেও আর একসাথে ঈদ করা হতো না। বেশ কয়েক বছর ঈদ চট্টগ্রামে করেছিলাম, সে দিনগুলোতো বাসায় ঘুমিয়েই দিন কাটাতাম অথচ চোখের পাতায় থাকতো ফেরারী দিনের ঈদস্মৃতি।

প্রায় ধরেই নিয়েছিলাম গেছে যে দিন, তা গেছে একেবারই গেছে। তবে, পিছু ফিরে তাকাবার খানিকটা সুযোগ মিললো ঢাবিতে চান্স পাওয়ায় পর। ঢাকায় চলে এলাম, উঠে গেলাম ভার্সিটির হলে । প্রথমদিকে ফি হপ্তা টঙ্গী যেতাম নানুর কাছে। নানু আমার জন্য প্রিয় খাবারগুলো রেখে দিতেন। মিস্টান্ন খুব পছন্দ করতাম বলে ফ্রিজে মিস্টান্ন রেখে দিতেন। দু তিন মাস পর পর গ্রামের বাড়িও যেতেন, ফিরতে নানা ফল-ফলাদি নিয়ে। টঙ্গীতে মামাতো ভাইবোনদের নতুন প্রজন্মে বাড়ি ভর্তি; পুরো এক ডজন পেরিয়েছে সংখ্যায়! ফলে মনে হতো কৃষ্ণচূড়ার ঢাল আবার লেলিহান হয়েছে নতুন বসন্ত পেয়ে। মেঘনার জল কেটে দু'কূল দেখতে দেখতে নদীপথ যাত্রা আমার সর্বাধিক প্রিয় ছিলো। চট্টলায় থাকতে তা শুধু স্বপ্নই ছিলো, এবার সে প্রিয় রুটের নিয়মিত যাত্রী বনে গেলাম পুরোদস্তুর।

ছোট্ট একটা জিবন থেকে যা খোয়া যায় তার অনেক কিছুই আর একেবারে ফিরে না কখনো। কিছু জীবনাচার পরিবর্তিত সময়ে বেমানান হয়ে যায় অবলীলায়। এখন চাদঁপুরে নানু বাড়িতে যাওয়া হয় বছরে কয়েকবারই, কিন্তু ঈদ করা হতো না। আজকাল বড় হয়ে গিয়েছি, নানু বাড়িতে ঈদ করা আর মানায় না। ঈদটা চট্টগ্রামে অথবা দাদু বাড়িতে পালন করা হয়। তবে গতোবারই মিলেছিলো শেষ সুযোগটা। বাড়ি গেলাম, অমনি বললাম, এবার ও বাড়িতে ঈদ করবো; বাবা জোর করলেন না। নানু বাড়িতে ঈদ করার হারানো স্মৃতি আরেকটি বার জলজ্যান্ত হলো। বেশি কেউ না এলেও বাড়ির ছেলেবেলার সাথি-সরথি আর বাড়ির নতুন প্রজন্মের সাথে চমৎকার ঈদ কাঁটালাম। স্মৃতি ভাজা পুরোনো পাতার মাতাল গন্ধে ঈদের দিন সকালেই দলবল নিয়ে চলে গিয়েছিলাম ঈদগাঁয়ে, আর নামায শেষে সেই ছোট্ট মেলায়।
এটাই ছিলো নানুর সাথে শেষ ঈদ। নিয়তি বেলা অবেলাকে খুব দ্রুতই সমাপনীতে ঠেলে দিলো আমাকে হতভাগ্য করে। প্রিয়জন পরাপারে ফেরারি হতে সময় নিলেন না, মিশে গেলেন কাল-চক্রের চলন্ত মিছিলে।মাস্টার্স শেষ হতেই নতুন জীবন বাস্তবতায় নিজেকে মানিয়ে নিতে জোর প্রচেষ্টা শুরু হলো। চাইলেই আর টঙ্গীতে নানুর কাছে ছুটে যেতে পারতাম না, অথবা নানু বাড়ি থেকে ঢাকায় ফিরলে আগিয়ে আনতে যেতে পারতাম না। পড়াশোনায় চাপ পড়ে গিয়েছিলো। নানু মাঝে মাঝে কিছুটা রাগ করতেন। কিন্তু কি-ই বা আর করার ছিলো তখন! এইতো ৪০ রিটেনের ডেটটা পিএসসি হঠাৎ করেই ঘোষনা করেছিলো মাত্র ২০ দিন সময় হাতে রেখে। তখন শেষ মুহুর্তের পড়া পড়ছি, নানু একদিন ফোন দিয়ে বললেন একটা বিয়ের নিমন্ত্রণ আছে, আমি যেন আসি, বললাম পরীক্ষা দিয়ে পরে আসবো, তিনি বললেন "আচ্ছা, আসিস"। তার মাত্র দুদিন পরে, রিটেনের তখন মাত্র ৬-৭ দিন বাকী; সন্ধ্যায় মোবাইল অকেজো করে পড়তে বসেছি, রুমমেট মারফত জরুরি তলব এলো বাসা থেকে ফোন এসেছে "নানু আর নেই"। বাকরুদ্ধ হয়ে গেলাম, প্রথমে বিশ্বাসই হতে চাইলো না, কিন্তু না চাইলেও তিনি আর নেই। হঠাৎ করেই হার্টের এ্যাটাক করলেন এবং মাত্র সাথে সাথেই মারা গেলেন। ফোন বন্ধ থাকায় খবরটাও পেলাম একঘন্টা দেরীতে, তারপর ঢাকা শহরের অভিশপ্ত জ্যাম ঠেলে যখন বাসায় পৌছলাম, দেখি ততক্ষনে নানু আমার সফেদ কাফনে অস্তাচলের যাত্রায়...। চোখ ফেটে কান্না বেরুলো, কিন্তু এ যে চিরবিদায়!!!
নানুকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হলো। অতঃপর শুইয়ে দিলাম সেই গোরস্থানে, যেখানে নানাকে আরো দশটি বছর পূর্বে সমাহিত করা হয়েছে, একবারে পাশাপাশি। যাপিত জিবনে বাবা-মায়ের পরে যে দু'জনের সবচেয়ে বেশি আদর-মমতা পেয়েছিলাম তারা আজ পাশাপাশি শুয়ে; ছায়াশীতল গোরস্থানে। পুরোনো সব দিন মিশে গেলো পথের ধূলোয় আর স্মৃতিরা ঠাই নিলো গোরস্তানের সবুজ পাতায় পাতায়। নানু আমার জিবনের সোনালি একটি অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি টেনে দিলেন, যা চিরদিন মনের আয়নায় অবিকল প্রতিরূপে থেকে যাবে আর কাঁদিয়ে ফিরবে কালে কালে।
নানু মারা যাওয়ার কিছু দিন পর খালু মারা গেলেন আর বাবাও অনেকটা অসুস্থ হয়ে পড়লেন। এখন জীবনের কান্নার সাথে নদীর কান্না একাকার হয়ে গেছে, কৌতূহলী পুরোনো প্রশ্নটা আবার মনের কোনে উঁকি দেয় ক্ষণে ক্ষণে "নদী কেন কাঁদে?" কিন্তু সেইটা দেয়ার জন্য নানুকে আর পাবো না। ফিরবে না সেই সোনাঝরা দিন, প্রিয় মানুষ আর প্রিয় নদীর কান্না। খুব ইচ্ছে হয় ফিরে যাই পুরোনো দিনের অরণ্যে, গাছের ডালে ডালে ডাক দিয়ে ফিরি " হে মেঘনা! আবার কাঁন্দো এই নিষুতিতে।"






মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

বিদায় অনুষ্ঠানের স্ক্রিপ্ট (নমুনা)

জনাব মোঃ আশরাফ উদ্দিন, রেক্টর বিপিএটিসি (সরকারের সচিব) , এঁর বিদায় অনুষ্ঠান, তারিখঃ ৩০-মে-২০২৪ ইং, সময়ঃ ১১.০০ ঘটিকা। বিদায় অনুষ্ঠানের সম্ভাব্য ক্রমধারা   ১) পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত  ২) কর্মচারী ক্লাব এর সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্য ৩ ) কর্মচারী ক্লাব এর সভাপতির বক্তব্য ৪ ) জনাব রাজীব কুমার ঢালী, সহকারী পরিচালক এর বক্তব্য ৫) বিপিএটিসি স্কুল এন্ড কলেজের পক্ষ হতে মান পত্র প্রদান ৬) জনাব শামীম হোসেন, উপপরিচালক এর বক্তব্য ৭) জনাব হাসান মূর্তাজা মাসুম, পরিচালক এর বক্তব্য ৮) বিপিএটিসি স্কুল এন্ড কলেজের পক্ষ হতে মান পত্র প্রদান ৯) আঞ্চলিক লোক-প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রসমূহের পক্ষ হতে উপ-পরিচালক, আঞ্চলিক লোক-প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, রাজশাহী এর বক্তব্য ১০) লেডিস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদিকা এর বক্তব্য ১১) জনাব মোঃ আশরাফুজ্জামান, প্রকল্প পরিচালক এর বক্তব্য ১২)  জনাব মোঃ শাহীনূর রহমান, এমডিএস এর বক্তব্য ১৩) জনাব  মোঃ মনিরুল ইসলাম, এমডিএস এর বক্তব্য ১৪) জনাব মোঃ জাকির হোসেন, এমডিএস এর বক্তব্য ১৫) বিদায়ী রেক্টর মহোদয়কে ফুল এবং বিদায়ী উপহার প্রদান  ...

সুবহানাল্লাহঃ পেন্সিল_আর্ট

 

বৈপরীত্য

হয়তো তার মৃত্যুর কথা মনে পড়ে; কারণ, বারেক আলী আবার সেই স্বপ্নটা দেখে,বারবার দেখে;যে স্বপ্নে লম্বা লেজওয়ালা একপাল বুনো কুকুর বা শেয়াল ধস্তাধস্তি করে ছিঁড়ে খায় তার ঝুলে পড়া চামড়ার কোঁচকানো শরীর।সময়ের বিবর্তনে শুকিয়ে আসা চামড়াবহুল শিকার হয়তো তাদের কাছে বিস্বাদ লাগে,ফলে চিবানোর পর গিলতে না পেরে বা দাঁতে না কাটায় ক্ষোভে বিরক্তিতে থুতুর মতো ছুঁড়ে দেয় আকাশের দিকে।কয়েক হাত দূরে গিয়ে সে থ্যাবড়ানো টুকরাগুলো ধূলার সাথে পলট দিয়ে দলা পাকায়।সারল মাংশ না পেয়ে তাদের হিংস্রতা চরমে ওঠে।ভগ্ন-নিথর ও অসহায় দেহটা টানাহেঁচড়া না করে সমর্পিত করে ক্ষুধার্ত হাড্ডিসার মুখগুলোর সামনে। বারেক আলী এ স্বপ্নটা শেষ হলে প্রতিদিনের মতো ভয় পায়,বুকে থুতু ছিঁটিয়ে বিড়বিড় করে---জলপানির ওয়াক্তে দ্যাকা স্বপন ছ্যাঁচা হয়!শব্দকটা শেষ হলে কেমন হাঁপিয়ে ওঠে, দাঁতহীন চোওয়ালের ফাঁক গলে ঘোগলা গড়াতে থাকে;সিথানের নোংরা ত্যানা দিয়ে তা মুছে, এবং নিজেকে চিমটি কেটে জীবিত না মৃত পরখ করার ইচ্ছা জাগে,কিন্তু করেনা;শনের ভাঙা বেড়ার ফাঁক দিয়ে ভোরের অরুণ রাঙা সূর্যের দিকে চেয়ে থাকে নির্লিপ্তভাবে। তবে আজ সে একটি স্বপ্ন বেশি দেখে,যা দেখার পরই সিদ্ধান্...