সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

নগরে হালের দিন


ল্যাপিতে জমে থাকে টিভি শো-
কোরিয়ান ড্রামা আর মুভি দেদারসে,
এলোপাথাড়ি পড়ে থাকে উপন্যাস ছ'কয়টা
ইংলিশ নোভেল আর বঙ্কিম-জন কিটসে।
রাতের চাঁদনীরা কেড়ে নেয় ঘুম
তাই ঘুম ভাঙ্গে দুপরের তপ্ত পরশে;
ঠিক বারোটায়!!
কখনো ঘুম ভাঙ্গে কারো ফোনকলে
"আসিস কোথায়? ক্লাস তো শুরু!"
"বলিস কি!! প্রক্সিটা দিয়ে দিস;
আসি কি করে, এখনো তো ঘুমাচ্ছি গুরু!"
মেসের বুয়া নেই গত দুই দিন
নাতনির নাকি পেটে পীড়ে,
কয় হালি নাতনী পুষে কে জানে?
কে রাখে খবর এতো ব্যস্ততার ভীড়ে।
রাস্তার মোড়ে বাবুল মামার স্টল
কেক-চায়ের ব্রেকফাস্টটা এখানেই মেলে
তবে ঠিক দুপুরে!!

সন্ধ্যে ঘামালে টিউশন!
"বাবু! হোমওয়ার্কটা করছো?
জোরসে পড়ো, যেন আন্টি না পায় ঠাহরে.
দাও! কয়টি সিন-আনসিন দেই দাগিয়ে.."
দরজা ঠেলে আন্টির প্রবেশ
আসে চায়ের ট্রেটা হাতে বাগিয়ে
"কেমন পড়ছে আমার বাবুটা?
এবার প্লাস পাবে তো! সকলেকে তাগিয়ে?"
"কি যে বলেন না! আলবৎ পাবে
তবে মাইনেটা দিয়েন একটু বাড়িয়ে;"
" চা-টা হেব্বি হয়েছে
যেন মা-ই দিয়েছেন বানিয়ে।"
রাস্তায় বেরুতেই মায়ের ফোন বাজে
"কি রে! কিছু খেয়েছিস খোকা, বিকেলে?"
"বিকেলের খবর সন্ধ্যে নাও!!
কেনো এতো হেলা করছো আজকাল সকলে?
দুপুরেও খাই নি কিছু;
টাকা কয়টি পাঠিয়ে দিও কাল সকালে।"
রুমে ফিরতেই দম বন্ধ হয়ে আসে
অক্সিজেন নেই এক রত্তি ভেতরে,
বুয়া আসে নি, রান্নাটাও হয়নি;
বাসী খাবারটাই চালান দিই উদরে।
ল্যাপিটা খুলে বসি
টিভি সিরিজের ইপিসড কয়টা বাকি রয়ে গেছে;
এবার দেখবো জমিয়ে।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

বিদায় অনুষ্ঠানের স্ক্রিপ্ট (নমুনা)

জনাব মোঃ আশরাফ উদ্দিন, রেক্টর বিপিএটিসি (সরকারের সচিব) , এঁর বিদায় অনুষ্ঠান, তারিখঃ ৩০-মে-২০২৪ ইং, সময়ঃ ১১.০০ ঘটিকা। বিদায় অনুষ্ঠানের সম্ভাব্য ক্রমধারা   ১) পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত  ২) কর্মচারী ক্লাব এর সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্য ৩ ) কর্মচারী ক্লাব এর সভাপতির বক্তব্য ৪ ) জনাব রাজীব কুমার ঢালী, সহকারী পরিচালক এর বক্তব্য ৫) বিপিএটিসি স্কুল এন্ড কলেজের পক্ষ হতে মান পত্র প্রদান ৬) জনাব শামীম হোসেন, উপপরিচালক এর বক্তব্য ৭) জনাব হাসান মূর্তাজা মাসুম, পরিচালক এর বক্তব্য ৮) বিপিএটিসি স্কুল এন্ড কলেজের পক্ষ হতে মান পত্র প্রদান ৯) আঞ্চলিক লোক-প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রসমূহের পক্ষ হতে উপ-পরিচালক, আঞ্চলিক লোক-প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, রাজশাহী এর বক্তব্য ১০) লেডিস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদিকা এর বক্তব্য ১১) জনাব মোঃ আশরাফুজ্জামান, প্রকল্প পরিচালক এর বক্তব্য ১২)  জনাব মোঃ শাহীনূর রহমান, এমডিএস এর বক্তব্য ১৩) জনাব  মোঃ মনিরুল ইসলাম, এমডিএস এর বক্তব্য ১৪) জনাব মোঃ জাকির হোসেন, এমডিএস এর বক্তব্য ১৫) বিদায়ী রেক্টর মহোদয়কে ফুল এবং বিদায়ী উপহার প্রদান  ...

সুবহানাল্লাহঃ পেন্সিল_আর্ট

 

বৈপরীত্য

হয়তো তার মৃত্যুর কথা মনে পড়ে; কারণ, বারেক আলী আবার সেই স্বপ্নটা দেখে,বারবার দেখে;যে স্বপ্নে লম্বা লেজওয়ালা একপাল বুনো কুকুর বা শেয়াল ধস্তাধস্তি করে ছিঁড়ে খায় তার ঝুলে পড়া চামড়ার কোঁচকানো শরীর।সময়ের বিবর্তনে শুকিয়ে আসা চামড়াবহুল শিকার হয়তো তাদের কাছে বিস্বাদ লাগে,ফলে চিবানোর পর গিলতে না পেরে বা দাঁতে না কাটায় ক্ষোভে বিরক্তিতে থুতুর মতো ছুঁড়ে দেয় আকাশের দিকে।কয়েক হাত দূরে গিয়ে সে থ্যাবড়ানো টুকরাগুলো ধূলার সাথে পলট দিয়ে দলা পাকায়।সারল মাংশ না পেয়ে তাদের হিংস্রতা চরমে ওঠে।ভগ্ন-নিথর ও অসহায় দেহটা টানাহেঁচড়া না করে সমর্পিত করে ক্ষুধার্ত হাড্ডিসার মুখগুলোর সামনে। বারেক আলী এ স্বপ্নটা শেষ হলে প্রতিদিনের মতো ভয় পায়,বুকে থুতু ছিঁটিয়ে বিড়বিড় করে---জলপানির ওয়াক্তে দ্যাকা স্বপন ছ্যাঁচা হয়!শব্দকটা শেষ হলে কেমন হাঁপিয়ে ওঠে, দাঁতহীন চোওয়ালের ফাঁক গলে ঘোগলা গড়াতে থাকে;সিথানের নোংরা ত্যানা দিয়ে তা মুছে, এবং নিজেকে চিমটি কেটে জীবিত না মৃত পরখ করার ইচ্ছা জাগে,কিন্তু করেনা;শনের ভাঙা বেড়ার ফাঁক দিয়ে ভোরের অরুণ রাঙা সূর্যের দিকে চেয়ে থাকে নির্লিপ্তভাবে। তবে আজ সে একটি স্বপ্ন বেশি দেখে,যা দেখার পরই সিদ্ধান্...