সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

ধর্ষণ ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি

ক্যাম্পাসে হাটতে ঘুরতে যে দেওয়াললিখনটি খুব দৃষ্টি কাড়ে তা হলো "hang the rapist" সমাজে ধর্ষণ অপরাধটি যেমন নৃশংস এবং মহামরী আকার ধারন করেছে তাতে ধর্ষকদের শাস্তি একমাত্র ফাসি বা মৃত্যুদন্ডই হওয়া উচিত। কিন্তু সর্বদা মনে এই প্রশ্নটিও জাগে ক'টা ধর্ষককে ধরে শুধু ফাসিতে ঝুলিয়ে দিলেই কি ধর্ষণ নামক পিচাশটা লেজ গুটিয়ে সমাজ থেকে পালাবে? অর্থাৎ হঠাৎ মহামারীরুপে ছড়িয়ে পড়া ধর্ষণের রাশ দ্রুত টেনে ধরতে এবং ধর্ষণকে সমাজ থেকে পুরোপুরি কার্যকরীভাবে নিশ্চিহ্ন করতে আমাদের কি আরো pros-cons measures নেয়া উচিত নয়? তাছাড়া বিলম্বিত বিচারের যে সংস্কৃতি বাংলাদেশে শেকড় গেড়ে বসেছে, তাতে কি ধর্ষণ আসলেই দুর করা সম্ভব?
#বাংলাদেশের আইনে ধর্ষণ সঙ্গায়ন:
সাধারণভাবে ধর্ষণ বলতে আমরা বুঝি জোরপূর্বক কোন নারীর সাথে যৌন সহবাস করা। কিন্তু আমাদের এই ধারণা পুরোপুরিভাবে ‘ধর্ষণ’কে সংজ্ঞায়িত করে না। বাংলাদেশী দন্ডবিধির ১৮৬০ (১৮৬০ সালের আইন XLV) ধারা ৩৭৫  অনুসারে- একজন পুরুষকে ‘ধর্ষণকারী’ হিসেবে গণ্য করা হবে যদি নিচের যেকোনো একটি পরিস্থিতিতে তিনি যৌন সম্পর্কে যান-
প্রথমত, মেয়ের ইচ্ছার বিরুদ্ধে
দ্বিতীয়ত, মেয়ের অনুমতি ছাড়া
তৃতীয়ত, সম্মতির সাথে, কিন্তু মৃত্যুভয়ে বা আঘাত দেওয়ার কারণে সম্মতি নিয়ে
চতুর্থত,সম্মতিতে, যখন মেয়েটিকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ছেলেটি সম্মতি আদায় করে ছেলেটি জানে ভবিষ্যতে সে মেয়েটিকে স্ত্রী রূপে গ্রহণ করবে না
পঞ্চমত, তার সম্মতি বা সম্মতি ছাড়া, যখন ভিক্টিমের বয়স চৌদ্দ বছরের নিচে হয়।
#বাংলাদেশে ধর্ষন চিত্র:
ধর্ষণ কতোটা মহামারী রুপ ধারন করেছে তা আমরা প্রতিদিন পত্রিকার পাতা উল্টালেই উপলব্দি করতে পারি। এছাড়াও বিভিন্ন সংস্থার প্রতিবেদন ধর্ষন জ্যামিতিক হারে বৃদ্ধির স্বরুপ বর্ণনা করে।
আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) এর তথ্য মতে গত সাড়ে ৫ বছরে দেশে ৫ হাজার ২৪৮টি ধর্ষণ ও গণধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে।
শিশুরাও ধর্ষকদের ঘৃণ্য জিজ্ঞাংসা হতে বেঁচে নেই। বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরামের দেয়া পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গত সাড়ে ৫ বছরে ১৭১৬ শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে ২০১২ সালে ৮৬, ২০১৩ সালে ১৭০, ২০১৪ সালে ১৯৯ জন শিশু ধর্ষিত হয়েছে। অতীতে সব রেকর্ড ছাড়িয়ে ২০১৫ সালে ৫২১ জন শিশু এই নৃশংসতার শিকার হয়েছে। গত বছর ধর্ষণের শিকার হয়েছে ৪৪৬ জন শিশু। (প্রতিবেদন,২০১৬) অত:পর, ২০১৭ সালে ধর্ষণের শিকার হয়েছে ৫৯৩ শিশু। ২০১৬ সালে এ সংখ্যা ছিলো ৪৪৬ জন। সে হিসেবে আগের বছরের তুলনার গত বছর শিশু ধর্ষণের সংখ্যা বেড়েছে ১৪৭টি
#বিদ্যামান আইনে ধর্ষনের শাস্তি:
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ আইন ২০০৩ এর ৯ ধারায় ধর্ষণের শাস্তি সম্পর্কে বলা হয়েছে:
ধারা ৯(১): কোন পুরুষ কোন নারী বা শিশুকে ধর্ষণ করলে তিনি যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করবেন। এবং এর অতিরিক্ত অর্থদণ্ডও তাকে দেয়া যেতে পারে।
ধারা ৯(২): ধর্ষণের ফলে বা ধর্ষণের পড়ে অন্য কোন কাজের ফলে ধর্ষিত নারী বা শিশুর মৃত্যু ঘটলে ধর্ষণকারী মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করবেন। এছাড়াও তাকে এক লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা হবে।
ধারা ৯(৩): একাধিক ব্যক্তি দলবদ্ধভাবে কোন নারী বা শিশুকে ধর্ষণ করলে এবং ধর্ষণের কারণে উক্ত নারী বা শিশুর মৃত্যু ঘটলে তাহলে ধর্ষকরা প্রত্যেকেই মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হবেন। এছাড়াও তাদেরকে অন্যূন এক লাখ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা হবে।
ধারা ৯(৪): যদি কোন ব্যক্তি কোন নারী বা শিশুকে
(ক) ধর্ষণ করে মৃত্যু ঘটানোর বা আহত করার চেষ্টা করেন তাহলে উক্ত ব্যক্তি যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং এর অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবেন।
(খ) যদি ধর্ষণের চেষ্টা করেন তাহলে উক্ত ব্যক্তি অনধিক দশ বছর কিন্তু অন্যূন পাঁচ বছর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন এবং এর অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবেন।
ধারা ৯(৫): পুলিশ হেফাজতে থাকাকালীন কোন নারী ধর্ষিত হলে, যাদের হেফাজতে থাকাকালীন উক্ত ধর্ষণ সংঘটিত হয়েছে, সে ব্যক্তি বা ব্যক্তিগণ উক্ত নারীর হেফাজতের জন্য সরাসরি দায়ী হবেন। এবং তাদের প্রত্যেকে অনধিক দশ বছর কিন্তু অন্যূন পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন। এবং এর অতিরিক্ত অন্যূন দশ হাজার টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
#নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল:
নারী ও শিশু নির্যাতন-সংক্রান্ত সব অপরাধের বিচারকাজ পরিচালনার জন্য সরকার প্রত্যেক জেলা সদরে একটি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল নামক বিশেষ আদালত গঠন করেছে। ধর্ষণের বিচারও এই ট্রাইব্যুনালে হবে।
আমরা সবসময় যা দেখি, মামলা শেষ হতে অনেক দিন সময় নেয়। কিন্তু এই আইনে স্পষ্ট বলা হয়েছে, ‘মামলা প্রাপ্তির তারিখ হতে ১৮০ দিনের মধ্যে বিচার প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে।’ [নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ধারা ২০(৩)]
#ধর্ষণের শাস্তি ও বিলম্বিত বিচার:
বাংলাদেশে প্রচলিত বিলম্বিত বিচার প্রক্রিয়া সব সময় ধর্ষণের ক্রমবৃদ্ধিশীল প্রকৃিয়াকে সহায়তা করেছে। আলোচিত ধর্ষনের ঘটনাগুলোর বিচার প্রক্রিয়া লক্ষ্য করলে দেখা যায়, প্রতিটি ধর্ষণের পুর্নাঙ্গ বিচার এবং শাস্তি কার্যক্রম শেষ হতে যে পরিমান সময় লেগেছে তাতে মানুষ বেমালুম ভুলেই গিয়েছে সোই ধর্ষণের কথা। এতে ধর্ষনের দৃষ্টান্তযোগ্য শাস্তি হচ্ছে না, ফলে ধর্ষকরাও প্ররোচনা পেয়ে যাচ্ছে। নিন্মে আলোচিত কিছু ধর্ষন ও বিচার প্রক্রিয়ার সময়কাল উল্লেখ করা হলো।
১. বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বাধিক আলোচিত ধর্ষণের ঘটনাটি হলো, ১৯৯৫ সালের ২৪ আগস্ট ইয়াসমিন ধর্ষণ ও খুনের ঘটনা। কিছু নৈতিকতাবিবর্জিত পুলিশ সদস্য অসহায় কিশোরীটিকে থানায় ধরে নিয়ে ধর্ষণ করে হত্যা করে। জনতা শাস্তির দাবীতে তুমুল আন্দোলন গড়ে তোলে, পুলিশ গুলি চালালে ৭ জন নিহত হয়, ক্ষমতার মসনদ কেপেঁ উঠে কিন্তু বিচার প্রক্রিয়া শেষ হতে এক যুগ সময় নেয়। ২০০৭ সালের ৩১ আগস্ট ৩ পুলিশ সদস্যেকে মত্যুদ- দেয়া হয়। কিন্তু ততদিনে মানুষ ভুলে যায় ইয়াসমিন কে ছিলো, আর ধর্ষকরা আড়াল থেকে অট্টহাসিতে ফেটে পড়ে।
২.১৯৯৮ সালের ২৩ এপ্রিল রাতে ট্রান্সকম গ্রুপের চেয়ারম্যান লতিফুর রহমানের মেয়ে শাজনীন তাসনিম রহমান গুলশানে নিজ বাড়িতে  ধর্ষণের প্রচেষ্টায় খুন হন। দেশ জুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি হয়, তবু বিচার প্রক্রিয়ার শ্লোথরথ এসে ফাসির কাষ্ঠে থামে ৩০-১১-২০১৭ ইংতে।
৩.২০১৬ সালের ২০শে মার্চ সোহাগী জাহান তনুর ধর্ষন পরবর্তী মৃতদেহ কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টের ভিতরে পাওয়া যায়। প্রতিবাদে দেশ কাপেঁ কিন্তু কাজীর গোয়ালের গরুটা আর পাওয়া যায় না।
৪.২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট বগুড়া থেকে কর্মস্থল ময়মনসিংহ যাওয়ার পথে রুপা গণধর্ষণের শিকার হন। রুপা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮। বাংলদেশের ইতিহাসে এটিই কোন ধর্ষন মামলায় সর্বাধিক দ্রুততম সময়ে রায় দেয়া হয়, কিন্তু তা কার্যকরে না জানি কতোটা বছর কেটে যায়, আর ততোদিনে জনগন রুপায় কথা ভুলে যাবে হয়তো।
#ধর্ষনের অন্তরালের কথা ও প্রতিকার:
অনকেই ধর্ষনের জন্য নারীদের উগ্র পোষাকে দায়ী করেন। কিন্তু বাস্তবতায় তা কখনোই ধাপে টেকে না। লক্ষ্য করলে দেখতে পাবেন শিশু ধর্ষনের হারটা কতো বেশি, এছাড়াও বৃদ্ধ-বিধবা এরাও নরপশুদের হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছে না, সুতরাং নারীর পোষাক ধর্ষনের একমাত্র কারন হতে পারে না। সামগ্রিক অবস্থা বিবেচনায় যেসব কারনগুলো ধর্ষনের প্ররোচক বলে চিহ্নিত করা যায় তা হলো সমাজে নৈতিকতাশূন্য বিকৃত যৌনচারকামীর সংখ্যা বৃদ্ধি, দৃষ্টান্তযোগ্য শাস্তির অভাব এবং বিলম্বিত বিচারের প্রবনতা।
 সমাজে নৈতিকতার চার্চ সত্যিকার্থেই কমে গেছে। শিক্ষা ব্যবস্থা মাত্রাতিরিক্তভাবে বস্তুবাদী করে তোলায় নৈতিকতার ব্যপারটা বারবারই চাপা পড়ে যায়। এছাড়াও দেশে পর্ণাসক্তির হার অপ্রতিরোধ্য হারে বেড়েই চলেছে। Alexa এর র্যাকিং অনুযায়ী দেশের সর্বাধিক ভিজিটেড সাইটগুলোর মধ্যে স্থান গেড়ে নিচ্ছে পর্ন সাইটগুলো। similarweb এর র্যাকিং অনুসারে top ten site তেই ঢুকে পড়েছে অখাদ্য একটি পর্ন সাইট। এছাড়াও ফেসবুকে যৌনচারী গ্রুপ, পেজ ইত্যাদির ফলোয়ার বেড়ে গেছে আশংকাজনক হারে। আজকাল তো কোন সিনেমা চলেই না বেড সীন, হট আইটেম সং ইত্যাদী ছাড়া। এসব বিকৃত ব্যাপারগুলো উঠতি এবং পরিনত বয়সের তরুনদের মধ্যে যৌনচারের সুপ্ত আকাংখা প্রবল করে তুলছে। ফলে তারা নিরিহ শিকার রুপে বেচেঁ নিচ্ছে অসহায় শিশু ও নারীদের। এ সমস্যা সমধানে সরকারের উচিত পর্ণসাইট ও ফেসবুকের অশ্লীল সব গ্রুপ এবং পেজ বন্ধ করা এবং শিক্ষা ব্যবস্থায় নৈতিকতা এবং নারীর প্রতি শ্রদ্ধাবোধ তৈরী করা। কারন, আইন দিয়ে মানুষের কেবল ব্যাহিক আচরনগুলো নিয়ন্ত্রন করা যায় কিন্তু অভন্তরটা নিয়ন্ত্রণ করতে হলে নৈতিতকার চর্চা এবং সেই পথে পা মড়াবার আগেই পথটাকেই চিরতরে বন্ধ করে দিতে হয়।
অনেকদেশেই ধর্ষণ এবং হত্যাকান্ডের দন্ড দৃষ্টান্তমূলক এবং লোকসম্মুখেই দেয়ার বিধান আছে, অথচ আমরা তাদেরকে মধ্যযুগীয় বলে চালিয়ে দিই। কিন্তু এসব রোধে দৃষ্টান্তযোগ্য শাস্তির কোন বিকল্প নেই। নরপশুদের লোকসম্মুখে এমন শাস্তিই দেয়া উচিত যা দেখে হাজার জন ভয় পায়, আর সাহস না করে সেই পথ মড়ানোর।
"justice delayed is justice denied" দেশের বিদ্যামান বিচার ব্যবস্থায় সব কয়টি আলোচিত ধর্ষনকান্ডের বিচার এতোটাই বিলম্বিত হয়েছে যে, ততদিনে জনগন ভুলেই গিয়েছে ঘটনাগুলো। এতে করে ধর্ষকরা যেমন উৎসাহিত হচ্ছে তেমনিভাবে ভিকটিমরাও নিরাশ হয়ে যাচ্ছে ন্যায়বিচার থেকে। সুতরাং এসবের বিচার প্রক্রিয়া হওয়া উচিত অতিদ্রুত, ব্যাপারটা লোকচর্চিত থাকতেই। পরিশেষে একটা কথা না বললেই হয় না, তা হলো আসুন দৃষ্টিভঙ্গী বদলাই, যেমাজ সানি লিয়ন এবং নায়েলা নাইমদের মেডেল এবং সেলিব্রটি করে সমাজের উচু দরজায় স্হান করে দেয়, রাতজেগে জিবনের একতৃতীয়াংশই পর্ন দেখে কাটিয়ে দেয় সেই সমাজে ধর্ষন বাড়বেই। এছাড়া অন্যায়ের প্রতিরোধে তরুনদেরকেই অগ্রগামী হতে হবে, যেখানে ইয়াসমিন ধর্ষন ও হত্যাকান্ডের প্রতিবাদের পুরোদেশ অচল হয়ে গিয়েছিলো, অন্যায়ের প্রতিবাদী হতে গিয়ে ৭ জন প্রান বিসর্জন দিয়েছিলো, আজ আমরা নির্বিকার হয়ে পড়ে থাকি, যা ঘটার ঘটে যাক এতে আমার কিছু আসে যায় না। সর্বোপরি বলবো-

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

বিদায় অনুষ্ঠানের স্ক্রিপ্ট (নমুনা)

জনাব মোঃ আশরাফ উদ্দিন, রেক্টর বিপিএটিসি (সরকারের সচিব) , এঁর বিদায় অনুষ্ঠান, তারিখঃ ৩০-মে-২০২৪ ইং, সময়ঃ ১১.০০ ঘটিকা। বিদায় অনুষ্ঠানের সম্ভাব্য ক্রমধারা   ১) পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত  ২) কর্মচারী ক্লাব এর সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্য ৩ ) কর্মচারী ক্লাব এর সভাপতির বক্তব্য ৪ ) জনাব রাজীব কুমার ঢালী, সহকারী পরিচালক এর বক্তব্য ৫) বিপিএটিসি স্কুল এন্ড কলেজের পক্ষ হতে মান পত্র প্রদান ৬) জনাব শামীম হোসেন, উপপরিচালক এর বক্তব্য ৭) জনাব হাসান মূর্তাজা মাসুম, পরিচালক এর বক্তব্য ৮) বিপিএটিসি স্কুল এন্ড কলেজের পক্ষ হতে মান পত্র প্রদান ৯) আঞ্চলিক লোক-প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রসমূহের পক্ষ হতে উপ-পরিচালক, আঞ্চলিক লোক-প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, রাজশাহী এর বক্তব্য ১০) লেডিস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদিকা এর বক্তব্য ১১) জনাব মোঃ আশরাফুজ্জামান, প্রকল্প পরিচালক এর বক্তব্য ১২)  জনাব মোঃ শাহীনূর রহমান, এমডিএস এর বক্তব্য ১৩) জনাব  মোঃ মনিরুল ইসলাম, এমডিএস এর বক্তব্য ১৪) জনাব মোঃ জাকির হোসেন, এমডিএস এর বক্তব্য ১৫) বিদায়ী রেক্টর মহোদয়কে ফুল এবং বিদায়ী উপহার প্রদান  ...

সুবহানাল্লাহঃ পেন্সিল_আর্ট

 

বৈপরীত্য

হয়তো তার মৃত্যুর কথা মনে পড়ে; কারণ, বারেক আলী আবার সেই স্বপ্নটা দেখে,বারবার দেখে;যে স্বপ্নে লম্বা লেজওয়ালা একপাল বুনো কুকুর বা শেয়াল ধস্তাধস্তি করে ছিঁড়ে খায় তার ঝুলে পড়া চামড়ার কোঁচকানো শরীর।সময়ের বিবর্তনে শুকিয়ে আসা চামড়াবহুল শিকার হয়তো তাদের কাছে বিস্বাদ লাগে,ফলে চিবানোর পর গিলতে না পেরে বা দাঁতে না কাটায় ক্ষোভে বিরক্তিতে থুতুর মতো ছুঁড়ে দেয় আকাশের দিকে।কয়েক হাত দূরে গিয়ে সে থ্যাবড়ানো টুকরাগুলো ধূলার সাথে পলট দিয়ে দলা পাকায়।সারল মাংশ না পেয়ে তাদের হিংস্রতা চরমে ওঠে।ভগ্ন-নিথর ও অসহায় দেহটা টানাহেঁচড়া না করে সমর্পিত করে ক্ষুধার্ত হাড্ডিসার মুখগুলোর সামনে। বারেক আলী এ স্বপ্নটা শেষ হলে প্রতিদিনের মতো ভয় পায়,বুকে থুতু ছিঁটিয়ে বিড়বিড় করে---জলপানির ওয়াক্তে দ্যাকা স্বপন ছ্যাঁচা হয়!শব্দকটা শেষ হলে কেমন হাঁপিয়ে ওঠে, দাঁতহীন চোওয়ালের ফাঁক গলে ঘোগলা গড়াতে থাকে;সিথানের নোংরা ত্যানা দিয়ে তা মুছে, এবং নিজেকে চিমটি কেটে জীবিত না মৃত পরখ করার ইচ্ছা জাগে,কিন্তু করেনা;শনের ভাঙা বেড়ার ফাঁক দিয়ে ভোরের অরুণ রাঙা সূর্যের দিকে চেয়ে থাকে নির্লিপ্তভাবে। তবে আজ সে একটি স্বপ্ন বেশি দেখে,যা দেখার পরই সিদ্ধান্...