মামাদের সবক'টাই বিদেশ থাকতো। ছোটবেলায় যখন নানু বাড়ি ছিলাম, তখন মোবাইল ফোন খুব একটা সহজলভ্য হয়ে উঠে নি, আজকের মতো ইমো-ভাইভারে কানেক্ট করলেই অপর প্রান্ত থেকে ফেস ভেসে উঠতো না। ফলে ডাকই যোগাযোগের একমাত্র ব্যবস্থা। হপ্তাআন্তে সাইকেল চালিয়ে চিঠিভর্তী ঝোলা নিয়ে খাকি পোষাকের রানার বাড়ি আসতো, নতুন চিঠি হাতে তুলে দিতো আর আনন্দে সবার মন ভরে যেতো। কখনো রানার আসায় গ্যাপ দিলে ছোট মামারা পোষ্ট অফিসে খোঁজ নিতে যেতেন। অবশ্য ছোট মামার নিত্য কাজই ছিলো মাদ্রাসায় যাওয়ার পথে চিঠি পোষ্ট করা বা নতুন চিঠির খোঁজ নেয়া। হালকা আকাশি খামের সেই চিঠি উড়ে আসতো দুর-পরবাস থেকে, তাতে সাঁটানো থাকতো নানান সুন্দর ডাকটিকেট, তা নিয়ে কাড়াকাড়ি পড়ে যেতো। জমানো ডাকটিকেট নিয়েই একসময় রচনা লিখতাম "my hobby"। মাঝে মাঝে হলদে খামের চিঠিও আসতো বর্গাকার সাইজের। হলদে খাম এলেই বুঝতাম, বাবা দিয়েছে। বড় হতে হতে আমরা পড়ে যাই সেলফোন আর নেটিজেন প্রজন্মে, সুতরাং চিঠি লেখার সুযোগ খুব কমই মিলেছে। মনে পড়ে প্রথম (এবং সম্ভবত একমাত্র) চিঠিটি লিখেছিলাম নানুর কাছেই। স্কুলে তখন চিঠি লেখা শিখাচ্ছিলো, বাবা হলদে খাম এনে দিয়ে বলেছিলেন "তোর নানুর কাছে লিখ, পোষ্ট করে দিবো"। সেই চিঠি কখনো প্রাপকের কাছে অদৌ পৌছেছিলো কিনা জানি না, কারন ফেরতি জবাব আর পাই নি কখনো।
গেলোবার ছোট মামতো বোন হসপিটালে জন্ম নেয়ার আধঘন্টার মধ্যেই ইমোতে বাবা-কাকা সবার সাথে লাইভে গেলো.. এই সময়ে সেই হলদে আর আকাশি খামের চিঠির কথা কেবল কল্পনাতেই আনা যায়। যুগ-প্রগতির সাথে তাল মেলাতে না পারায় তা হার মেনে নিয়েছে, মুখ লুকিয়েছে কালের অতলে। গতকাল ছোট মামীর বাড়ি যেতে পাশে পড়লো সেই ডাকঘরটি। নেই আগের মতো কর্মব্যস্ততা, ভেতরে নেই পোষ্টমষ্টারে হাক-ডাক, ডাকবক্স বন্ধ, সম্ভবত কোন হলদে খামই আর উড়ে আসে নি গত এক দশক ধরে। পোষ্টঅফিসটাও জরাজীর্ণ, তালাবন্ধ হয়ে পড়ে আসে ক্ষয়িষ্নু কালের সাক্ষী হিসেবে।
গেলোবার ছোট মামতো বোন হসপিটালে জন্ম নেয়ার আধঘন্টার মধ্যেই ইমোতে বাবা-কাকা সবার সাথে লাইভে গেলো.. এই সময়ে সেই হলদে আর আকাশি খামের চিঠির কথা কেবল কল্পনাতেই আনা যায়। যুগ-প্রগতির সাথে তাল মেলাতে না পারায় তা হার মেনে নিয়েছে, মুখ লুকিয়েছে কালের অতলে। গতকাল ছোট মামীর বাড়ি যেতে পাশে পড়লো সেই ডাকঘরটি। নেই আগের মতো কর্মব্যস্ততা, ভেতরে নেই পোষ্টমষ্টারে হাক-ডাক, ডাকবক্স বন্ধ, সম্ভবত কোন হলদে খামই আর উড়ে আসে নি গত এক দশক ধরে। পোষ্টঅফিসটাও জরাজীর্ণ, তালাবন্ধ হয়ে পড়ে আসে ক্ষয়িষ্নু কালের সাক্ষী হিসেবে।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন