সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

জীবনের অণুগল্প


 সন্ধ্যেয় যখন খিদে পেল তখন ম্যানি ব্যাগ থাতড়ে দেখি আছে মাত্র পাঁচ টাকার একটি নোট। আবাক হলাম, সত্যিই কি আর টাকা নেই পকেটে। ম্যানিব্যাগের চিপাগুলো সব খুঁজলাম। না, ম্যানিব্যাগ আমাকে হতাশ করে নি, কারন, এক চিপায় পাঁচ টাকার একটা আধুলি খুজে পেলাম। যাক, অবশেষে আজ রাত আর কাল সকালের জন্য এই দশ টাকাকেই বাজেট হিসেবে ঘোষনা করলাম। কিন্তু দশ টাকায় এমন কি পাওয়া যাবে যে দু'বেলা চালিয়ে যাওয়া যায়? ন, এমন তো কিছুই মিলবে না। তাহলে উপায়? মনে পড়ল, পুরোনো ব্যাংকটাতে কিছু টাকা সঞ্চিত থাকতে পারে। শূণ্য বডিস্প্রের টিনের কৌটা দিয়ে বানানো ব্যাংকটা কেটে মাত্র চারটি টাকা পেলাম। ভাগ্য আমাকে সত্যি হতাশ করলো। যাক, সর্বমোট চৌদ্দ টাকা নিয়ে হলের দোকানে গেলাম এই টাকায় হয়ত মুড়ি ২৫০ গ্রাম পাওয়া যেতে পারে এই আশায়। কিন্তু দিকানীও হতাশ করলো। জানালো সে খোলা মুড়ি বিক্রি করে না। ছোট পাউ রুটির প্যাকেটটার দিকে নজর গেলো। জানালো দাম ১২ টাকা। যাক, এবার জ্বিবে জল এলো। দাম চুকাতে পকেটে হাত দিলাম। গুণে টাকা দিতে গিয়ে চক্ষু চড়াক গাছ হয়ে গেলো। যে আধুলিটাকে পাঁচ টাকা মনে হয়েছিলো সেটি আসলে ২টাকার আধূলি। কি অদ্ভুত আমার ভাগ্য! যাক, দোকানিকে এগারো টাকা দাম চুকিয়ে এক টাকা পরে দেব বলে বকেয়া রেখে এলাম।


রুমে আসলাম। পাউরুটির প্যকেটা খুলে অর্ধেকটা পেটে চালান দিলাম, বাকিটা মুড়ে সকালের জন্য রেখে দিলাম আর ফেসবুকটা অন করলাম গুরুত্বপূর্ণ কোনো নোটিফিকেশন এসেছে কিনা দেখার জন্য।


নোটিফিকেশনগুলো শো করে এবার টাইমলাইনে স্ক্রল ডাউন করলাম। প্রথমেই চোখে পড়ল দুই বৎসর আগের কিছু ছবি, ফেসবুক মেমরী হিসেবে দেখাচ্ছে। ছবিগুলো এক ফ্রেন্ডের বার্থডে পালনের। সে বার খুব ঘটা করেই তার বার্থ ডে পালন করেছিলা। আজও তার বার্থ ডে গিয়েছে। শুনলাম সে খুব বড় করেই এবার বার্থ ডে পালন করেছে। আমাকে অবশ্য ইনভাইট করার প্রয়োজন মনে করে নি। যাকগে তাতে কি আসে যায়?, আমি আমার দায়িত্ব পালন করে দিয়েছি। সকালে তার সাথে মাস কয়েক আগে তোলা একটি সহাস্য ছবি তাকে ট্যাগ করে জন্মদিনের শুভ অভিনন্দন জানিয়ে দিয়েছি। এবার আরো স্ক্রল ডাউন করলাম। একটা ছবি দেখ প্রচন্ড বিদ্রুপাত্মক হাসি পেল। বিধাতার বিধি সত্যিই অদ্ভুত ! ছবিটিতে ছিলো আমার এক ফেসবুক ফ্রেন্ড কে.এফ.সি.তে গিয়ে বন্ধুদের সাথে পিজ্জা খেয়ে চেক ইন দিচ্ছে "


felling happy with my friends..."


মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

বিদায় অনুষ্ঠানের স্ক্রিপ্ট (নমুনা)

জনাব মোঃ আশরাফ উদ্দিন, রেক্টর বিপিএটিসি (সরকারের সচিব) , এঁর বিদায় অনুষ্ঠান, তারিখঃ ৩০-মে-২০২৪ ইং, সময়ঃ ১১.০০ ঘটিকা। বিদায় অনুষ্ঠানের সম্ভাব্য ক্রমধারা   ১) পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত  ২) কর্মচারী ক্লাব এর সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্য ৩ ) কর্মচারী ক্লাব এর সভাপতির বক্তব্য ৪ ) জনাব রাজীব কুমার ঢালী, সহকারী পরিচালক এর বক্তব্য ৫) বিপিএটিসি স্কুল এন্ড কলেজের পক্ষ হতে মান পত্র প্রদান ৬) জনাব শামীম হোসেন, উপপরিচালক এর বক্তব্য ৭) জনাব হাসান মূর্তাজা মাসুম, পরিচালক এর বক্তব্য ৮) বিপিএটিসি স্কুল এন্ড কলেজের পক্ষ হতে মান পত্র প্রদান ৯) আঞ্চলিক লোক-প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রসমূহের পক্ষ হতে উপ-পরিচালক, আঞ্চলিক লোক-প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, রাজশাহী এর বক্তব্য ১০) লেডিস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদিকা এর বক্তব্য ১১) জনাব মোঃ আশরাফুজ্জামান, প্রকল্প পরিচালক এর বক্তব্য ১২)  জনাব মোঃ শাহীনূর রহমান, এমডিএস এর বক্তব্য ১৩) জনাব  মোঃ মনিরুল ইসলাম, এমডিএস এর বক্তব্য ১৪) জনাব মোঃ জাকির হোসেন, এমডিএস এর বক্তব্য ১৫) বিদায়ী রেক্টর মহোদয়কে ফুল এবং বিদায়ী উপহার প্রদান  ...

সুবহানাল্লাহঃ পেন্সিল_আর্ট

 

বৈপরীত্য

হয়তো তার মৃত্যুর কথা মনে পড়ে; কারণ, বারেক আলী আবার সেই স্বপ্নটা দেখে,বারবার দেখে;যে স্বপ্নে লম্বা লেজওয়ালা একপাল বুনো কুকুর বা শেয়াল ধস্তাধস্তি করে ছিঁড়ে খায় তার ঝুলে পড়া চামড়ার কোঁচকানো শরীর।সময়ের বিবর্তনে শুকিয়ে আসা চামড়াবহুল শিকার হয়তো তাদের কাছে বিস্বাদ লাগে,ফলে চিবানোর পর গিলতে না পেরে বা দাঁতে না কাটায় ক্ষোভে বিরক্তিতে থুতুর মতো ছুঁড়ে দেয় আকাশের দিকে।কয়েক হাত দূরে গিয়ে সে থ্যাবড়ানো টুকরাগুলো ধূলার সাথে পলট দিয়ে দলা পাকায়।সারল মাংশ না পেয়ে তাদের হিংস্রতা চরমে ওঠে।ভগ্ন-নিথর ও অসহায় দেহটা টানাহেঁচড়া না করে সমর্পিত করে ক্ষুধার্ত হাড্ডিসার মুখগুলোর সামনে। বারেক আলী এ স্বপ্নটা শেষ হলে প্রতিদিনের মতো ভয় পায়,বুকে থুতু ছিঁটিয়ে বিড়বিড় করে---জলপানির ওয়াক্তে দ্যাকা স্বপন ছ্যাঁচা হয়!শব্দকটা শেষ হলে কেমন হাঁপিয়ে ওঠে, দাঁতহীন চোওয়ালের ফাঁক গলে ঘোগলা গড়াতে থাকে;সিথানের নোংরা ত্যানা দিয়ে তা মুছে, এবং নিজেকে চিমটি কেটে জীবিত না মৃত পরখ করার ইচ্ছা জাগে,কিন্তু করেনা;শনের ভাঙা বেড়ার ফাঁক দিয়ে ভোরের অরুণ রাঙা সূর্যের দিকে চেয়ে থাকে নির্লিপ্তভাবে। তবে আজ সে একটি স্বপ্ন বেশি দেখে,যা দেখার পরই সিদ্ধান্...