সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পূণ্যভূমি আল-আকসা


পূণ্যে তোমার ধন্য ভূমি, হে মসজিদ আকসা!
তোমার চৌহদ্দিতে রেখেছেন খোদা, অপার বারাকা।
কালে কালে এসেছেন অসংখ্য নবী, রহমতের আম্বিয়া
এসেছেন মুসা, এয়াকুব-ইউসুফ; ইসহাক-আল ইয়াসা।
আরো এলেন নবী মোহাম্মদ, মহান মিরাজ রাতে;
বোরাক চড়ে গেলেন রসুল; আরশে মুয়াল্লাতে।

যুগে যুগে তবু ক্ষত-বিক্ষত তুমি; হায়েনার হিংস্র থাবায়
বাস্তুচ্যুত তোমার ভূমিপুত্ররা; উচ্ছেদিত হয়েছে অবলীলায়।
রক্তে ভেসেছে কোমল মৃত্তিকা; বয়েছে অশ্রুর-ফোরাত
আবাল বণিতার করুন রোদনে; নির্ঘুম জেগেছে হেরাত।
ভূ-মধ্য সাগর লোহিত হয়েছে, জনম জনম ভরে
মানবতা বারি বার পৃষ্ঠ হয়েছে, শত যুদ্ধের পদতলে।

শতাব্দী পাল্টায়; তবু বদলায় না তোমার রক্তে ভেজা ক্ষণ
দুখিনী মা হয়ে কেমন সহো? সন্তানদের নির্মম বি-ক্ষণ!
হানাদাররা আসে সম্রাজ্যাবাদী ছলে; কিংবা ক্রসেড ছায়ায়,
কখনো আসে মানবতার বুলি মুখে, খঞ্জর অস্তিনে-জামায়।
তোমার আব্রু রক্ষায় জন্মেছে বীর; প্রত্যাহিক যামানায়,
মুসা রুখেছে জল্লাদ ফেরাউন; সালাহ্দ্বীন-রা ক্রুসেডার তাড়ায়।

বিংশ শতাব্দী অস্ত গিয়াছে, নতুন কাঁদন সুরে।
জায়েনবাদীরা হেনেছে আঘাত; তোমার পবিত্র দুয়ারে।
নিপুণ ছলনায় করছে দখল, মুক্ত স্বাধীন ভূমি
বাস্তু হারিয়েছে সন্তান তোমার; আঝোরে কেঁদেছ তুমি।
লক্ষ লক্ষ আবাল-বণিতা, ভিটে হারিয়ে দেশে;
ঠাই নিয়াছে ভিন দেশেতে, দু:খী শরনার্থী বেশে।

কেউ তবুও আকড়ে রয়েছে, মৃত-জীর্ণ উপত্যাকা;
পশ্চিম তীর-গাজায় উড়িয়েছে, শেষ স্বাধীন পতাকা।
জয়েনবাদীরা মেতেছে তথায়, নগ্ন মরন লীলায়
মৃত্যু-ধ্বংশের প্রলয় তুলেছে; নির্মম গণহত্যায়।
নারী-শিশুর করুন মরণের, দামামা বাজে রোজ
বিশ্ব অথচ নিরব দর্শক; পায় না সমাপ্তির খোঁজ।

আর কি আসিবে? নুর-সালাহ্দ্বীন! ত্রস্ত জামানায়?
রুখিতে হিংস্র জায়েনবাদী; নব্য ক্রসেডার হায়েনায়!
কবে আসিবে মাহদী-মসীহ? কোরান-বাইবেল সারে
মুক্ত হইবে আকসা ভূমি! কেতন উড়িবে দ্বারে দ্বারে।
জানি না কবে থামিবে হায়, ধ্বংশ-প্রলয় খেলা;
থামিবে মৃত্যু! রক্তের হলি! বিধ্বংসী যুদ্ধের মেলা।
কবে আসিবে সুদিন হেথায়? আকসা জাগিবে ফের
আসিবে কি আলো? আর কতো দুর? বহু দুর--ঢ়ের!!








মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

বিদায় অনুষ্ঠানের স্ক্রিপ্ট (নমুনা)

জনাব মোঃ আশরাফ উদ্দিন, রেক্টর বিপিএটিসি (সরকারের সচিব) , এঁর বিদায় অনুষ্ঠান, তারিখঃ ৩০-মে-২০২৪ ইং, সময়ঃ ১১.০০ ঘটিকা। বিদায় অনুষ্ঠানের সম্ভাব্য ক্রমধারা   ১) পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত  ২) কর্মচারী ক্লাব এর সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্য ৩ ) কর্মচারী ক্লাব এর সভাপতির বক্তব্য ৪ ) জনাব রাজীব কুমার ঢালী, সহকারী পরিচালক এর বক্তব্য ৫) বিপিএটিসি স্কুল এন্ড কলেজের পক্ষ হতে মান পত্র প্রদান ৬) জনাব শামীম হোসেন, উপপরিচালক এর বক্তব্য ৭) জনাব হাসান মূর্তাজা মাসুম, পরিচালক এর বক্তব্য ৮) বিপিএটিসি স্কুল এন্ড কলেজের পক্ষ হতে মান পত্র প্রদান ৯) আঞ্চলিক লোক-প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রসমূহের পক্ষ হতে উপ-পরিচালক, আঞ্চলিক লোক-প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, রাজশাহী এর বক্তব্য ১০) লেডিস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদিকা এর বক্তব্য ১১) জনাব মোঃ আশরাফুজ্জামান, প্রকল্প পরিচালক এর বক্তব্য ১২)  জনাব মোঃ শাহীনূর রহমান, এমডিএস এর বক্তব্য ১৩) জনাব  মোঃ মনিরুল ইসলাম, এমডিএস এর বক্তব্য ১৪) জনাব মোঃ জাকির হোসেন, এমডিএস এর বক্তব্য ১৫) বিদায়ী রেক্টর মহোদয়কে ফুল এবং বিদায়ী উপহার প্রদান  ...

সুবহানাল্লাহঃ পেন্সিল_আর্ট

 

বৈপরীত্য

হয়তো তার মৃত্যুর কথা মনে পড়ে; কারণ, বারেক আলী আবার সেই স্বপ্নটা দেখে,বারবার দেখে;যে স্বপ্নে লম্বা লেজওয়ালা একপাল বুনো কুকুর বা শেয়াল ধস্তাধস্তি করে ছিঁড়ে খায় তার ঝুলে পড়া চামড়ার কোঁচকানো শরীর।সময়ের বিবর্তনে শুকিয়ে আসা চামড়াবহুল শিকার হয়তো তাদের কাছে বিস্বাদ লাগে,ফলে চিবানোর পর গিলতে না পেরে বা দাঁতে না কাটায় ক্ষোভে বিরক্তিতে থুতুর মতো ছুঁড়ে দেয় আকাশের দিকে।কয়েক হাত দূরে গিয়ে সে থ্যাবড়ানো টুকরাগুলো ধূলার সাথে পলট দিয়ে দলা পাকায়।সারল মাংশ না পেয়ে তাদের হিংস্রতা চরমে ওঠে।ভগ্ন-নিথর ও অসহায় দেহটা টানাহেঁচড়া না করে সমর্পিত করে ক্ষুধার্ত হাড্ডিসার মুখগুলোর সামনে। বারেক আলী এ স্বপ্নটা শেষ হলে প্রতিদিনের মতো ভয় পায়,বুকে থুতু ছিঁটিয়ে বিড়বিড় করে---জলপানির ওয়াক্তে দ্যাকা স্বপন ছ্যাঁচা হয়!শব্দকটা শেষ হলে কেমন হাঁপিয়ে ওঠে, দাঁতহীন চোওয়ালের ফাঁক গলে ঘোগলা গড়াতে থাকে;সিথানের নোংরা ত্যানা দিয়ে তা মুছে, এবং নিজেকে চিমটি কেটে জীবিত না মৃত পরখ করার ইচ্ছা জাগে,কিন্তু করেনা;শনের ভাঙা বেড়ার ফাঁক দিয়ে ভোরের অরুণ রাঙা সূর্যের দিকে চেয়ে থাকে নির্লিপ্তভাবে। তবে আজ সে একটি স্বপ্ন বেশি দেখে,যা দেখার পরই সিদ্ধান্...