রাতের প্রথম প্রহর পেরিয়েছে, দ্বিপ্রহরও বলছে যাই যাই! আকাশে চাঁদ হয়তো জোছনার হলি খেলেছে, মাস ও দিন-ক্ষণ অনুযায়ী তাই হওয়ার কথা। খোলা বারান্দায় পা মেলে বসে আছি, বারান্দার কার্নারে জোগানো ক্যাকটাসগুলো পায়ে সুড়সুড়ি দিচ্ছে। বিকেল-সন্ধ্যাজুড়ে বড্ড এক ঘুম দিয়েছি তাই ঘুম আসছে না; চাঁদের জোছনা উপভোগ করার সৌভাগ্যও মিলছে না। কারন,আমার বারান্দাটা পূর্বমুখী। তবে দেখা মিলছে নগরীর প্রতিটি জানালা থেকে ঠিকরে বের হওয়া ইল্যাকট্রিকাল সভ্যতার কৃত্রিম জোছনার; যতুদুর দৃষ্টি চলছে, প্রায় প্রতিটি বিল্ডিং-ফ্ল্যাট এর জানালায় এখনো বাতি জ্বলছে, কোন কোনটা ধ্রুব সাদা, কোনটায় হালকা নীল, কোনটা হলকা সবুজের আভা, সৌখিন কারো জানায় আবার রঙ্গিন বাতি গোলাপি আলোও ছড়াচ্ছে। নিষুতি আজ রাতের বেলায় সেসবকে চাঁদের রঙ্গিন বিকল্প বলেই মনে হচ্ছে, আহা অমন নিষুতিতেও সভ্যতার কি আজব রঙ!
গতোকাল সন্ধ্যেটা খুব মনে পড়ছে। কেমন ছিলো সন্ধ্যেটা! বুড়িগঙ্গার পাড়ে একটি মেলার দেখা পেয়েছিলাম। কোন প্লান-প্রোগ্রাম ছাড়াই হুট করেই নগরীর পথে পথে হাটতে যাওয়া, তারপর যেতে যেতে বুড়িগঙ্গা অতঃপর সৌভাগ্যক্রমে মেলার দেখা। চেংড়া ছেলেদের নৌকা-ট্রলারের পাটাতনে দল বেঁধে উদ্যম নৃত্য আর নদীর কূল চেপে মেলার দর্শনার্থীরা! কতো রকম আমদে হেসেছে তারা! বাঙ্গালী নর-নারী, আবাল-বণিতা কতো রঙ্গে সাজতে পারে এসব উৎসবে। ফেরার পথে একতালা স্টীমারের ছাদে নদীর ঝির ঝির বাতাস আর অপসৃয়মান মেলার মিউজিক-বাদ্য। সব চাপিয়ে কিছু প্রশ্নের উত্তর চেয়েছিলাম রাত্রি-ত্রিযমার কাছে। উত্তর মেলেনি, মেলেছে শুধু মৌনতা! কাল-অধিকাল বেড়ে চলছে, সময় পেরিয়ে দুঃসময়ের মুখোমুখি এ কালের যাত্রা, আর কতো কাল তুমি মৌন রইবে? তোমাকে নীল বসনে দেখতে চাওয়া কি আমার অপরাধ! তোমার মৌনতা আমার অভিমানকে প্রলুব্ধ করলো। আমি অভিমানী হয়ে রইলেম। তবে মনে রেখো তোমার ছায়ায় মিশে গেছে আমার ছায়া, জিবন প্রবাহে একই জলের ধারা বইছে। তা মিছে বলে উড়িয়ে দেয়ার কিছু নেই। মৌনতার শেকল যেদিন ছিড়বে, সেদিন না হয় আমি আবার গাংচিল হয়ে দেখা দিবো বুড়িগঙ্গার তীরে....
#গদ্যছন্দ
#অবিনাশী_দিনকাল

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন