সেই তুমি আজ কোথাও নেই আর,
নেই জলে, নেই নীলে;
হিজলে কিংবা জলা-বিলে!
নগরে-বন্দরে, খেয়াঘাটে, গঞ্জে-বাজারে;
তোমার ছায়াটুকু কোথাও নেই ত্রস্ত নীলিমা উপকূলে।
মিলিয়ে গেছে তোমার ধ্বনি
সময় অরণ্যের গহীনে,
হারিয়ে গেছে চেনা সুর,
যুগের ত্রাহি নৈশব্দে!
কালের আবর্তন কেড়ে নিয়েছে
ফেরারী দিনের ছন্দ,
শহুরে চিল গিলে নিয়েছে
মড়া নগরীর গন্ধ।
রাত্রির প্রগাঢ়তায় খুঁজে ফিরি তোমায়,
যে আধাঁর নিকুঞ্জে করো বসবাস,
অরণ্য নীলিমায় তোমায় খুঁজি
যেথায় তোমার বেনামি বনবাস।
দেয়ালে দেয়ালে খুঁজি তোমার ছবি
নিখোঁজ ছত্রের ভীড়ে,
হারানো পায়েল খুঁজে ফিরি
পদ্মা-মেঘনার নীড়ে।
হয়তো বাতাস হয়ে মিশে গেছো নদী-জলে
তোমার মানচিত্র আজ বুড়িগঙ্গার জল,
হয়তো কবিতা হয়ে মিশে গেছো পুস্তক-পাতায়
তোমার ধ্বনি আজ মুদ্রিত নৈশব্দের ঢল।
নয়তো আকাশ হয়ে মিশে গেছো নীলে
তোমার চাহনি আজ ভেজা মেঘের পাল,
কিংবা অচেনা হয়ে মিশে গেছো ভীড়ে
তোমার পদচিহ্ন বড় দুর্বোধ্য, বেসমাল।
একদিন দেখা দিও ফের
অসময়, আবেলায়, কোন ক্ষণে;
তোমার ছবি ছেপে দিলেম
এই মুখ ঢাকা নিখোঁজ বিজ্ঞাপনে।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন