জিবন সতত প্রবাহমান একটি নদী। এ নদীতে প্রমত্ত হয় সময়ের ঢেউ, আন্দোলিত হয় কালের ঘনঘটা, শঙ্খ বাঁজায় দুরের মেঘ আর মায়াজাল ফেলে অমাবস্যা আঁধার। শুকনো পাতার মর্মর শব্দের ধ্বনি-প্রতিধ্বনি ভেঙ্গে একদিন জলঘাটে পা ফেলেছিলাম, তাকিয়ে দেখি বন্দরের পাতাটন কাঁপে জোয়ারের ধাক্কায়, আমি প্রমোদ গুনলাম। এই ভরা নদী দুস্তর, নদীর গাত্র ভরা সর্পকুল দুর্মর; আমি কি করে ওপারে পানসী ভেড়াই!!!
নদীর নাব্যতা হাটুঁজলে মেপে আমি জল সিঞ্চনে নেমে পড়লাম। ওপরে চাঁদিনী নীল জোস্নার মায়ায় বাঁধতে চাইলো, সূর্য-তাপে হৃদয় গলাতে চাইলো, কিন্তু হার আমি মানলাম না! আঁধারে হাত ডুবিয়ে যখন কেশাগ্রটিও ঠাহর হলো না তখন জোনাক আলোকেই নিতান্ত পথের নিশান ভেবে পথ চললাম। সওদা নেই, পাথেয় নেই, পথে সঙ্গী শুধু কালের ধুলো আর দু-চার খানি খসড়া কবিতা। মনযিল কতো দুরে আমি জানি না, শুধু দেয়ার ডঙ্কা নিনাদে বুঝতে পারি এ তেপান্তর জলরাশি পাড়ি দিলেই ওপারে মিলবে জনবসতি, সভ্যতার কলকারখানা; যেখানে জন্মকুটিরে শ্রান্ত দেহ এলিয়ে ক্ষান্তি মিলবে দীঘল সফরের।
আমি জলে তরী ভাসালাম!
পর্বতসম ঢেউ আর হিংস্র যত সর্পযুগল তরী ঘিরে ধরলো,
তারা আমাকে কিছুতেই ওপার সর্গে যেতে দেবে না।
পাটায় জল আছড়ে পড়ে, তরী দুলতে থাকে কাগজের নৌকার মতোন।
আমি একটুও টললাম না!!
নৌকার দেয়ালে লিখে দিলাম,
"দূর্গম গিরি, কান্তার মরু, দুস্তর পারাবার;
লঙ্ঘিতে হবে রাত্রি নিশি যাত্রীরা হুশিয়ার"
অতঃপর জলে-ডাঙ্গায়, দুস্তরে-দুর্লঙ্ঘ্যে আমি অদম্য কাপ্তান।
ঝড় রাতে পথ চলি,
উত্তাল সাগরে পাল তুলি

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন