সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

রাত্রীর লঞ্চে চাঁদপুরে..


জন্ম-বসত যখন দু-তিনটে শহরজুড়ে বিস্তৃত, তখন অনেক কিছুই কাকতালীয়ভাবে ঘটে, আবার তেমনি কখন কোথায় যাচ্ছি-থাকছি তাও খুব আগ থেকে বলে দিতে পারি না। গেলো রোজার ঈদে ঢাকা ছাড়ার দুদিন আগেও জানছি ঈদটা চট্টগ্রামেই করবো, কিন্ত শেষ মুহুর্তে এসে বাবা জানালেন এবার সবাই চাঁদপুরে ঈদ করবো, ব্যাস চলে গেলাম। কোরবানীর ঈদে টঙ্গীতে মামার বাসায় গেলে নানু জেদ করলেন টঙ্গীতেই ঈদ করতে, আমারও অনিচ্ছা ছিলো না, ডজন খানেক পিচ্ছি কাজিন নিয়ে ঈদটা ভালোই জমতো। কিন্তু শেষ মুহুর্তে মহানগর প্রভাতী চেপে চট্টগ্রামে ছুটলাম বাবা মায়ের সাথে ঈদ করবো বলে। টিকেট কেটেও অত্যাধিক ভীড়ে সিটে পৌছতে না পেরে দরজায় ঝুলে থাকার অভিজ্ঞতা খুব করুণ হয়েছিলো। শেষে লোকারন্য কিছু উজাড় হলে সিটে গিয়ে বসলাম, কিন্তু দেখলাম হাত-পা একেবারে কাঁপছে পাড়ার বুড়োদের মতো।
হ্যাঁ, এবার বর্তমানের কথাটাই বলি, কিছু ডকুমেন্টস সংশোধনের প্রয়োজনে চাঁদপুরে আসতে হলো। কাজিনের কথা মতো সন্ধ্যের শেষ লঞ্চটা ধরার চেষ্টা করলাম। কিন্তু ডকুমেন্টস রেডি করতে করতে লঞ্চ ধরার সময় পেরিয়ে গেলো। এবার রাত বারোটার লঞ্চই সহায়। আকাশ কিছুটা মেঘো মেঘো থাকায় লঞ্চের ছাদে বসে তারা গুনে রাত পার করার সুযোগ নেই। তাই ব্যাগে করে পোর্টেবল পিলো আর চাদর নিয়ে নিলাম। লঞ্চে উঠে ডেকে চাদর পেতে ঘুমিয়ে পড়লাম। রাত সাড়ে তিনটে নাগাদ লঞ্চ চাঁদপুর ঘাটে চলে এলো। আগেই কথা ছিলো সকাল পাঁচটা-ছয়টা পর্যন্ত লঞ্চে ঘুমিয়ে তারপর নামবো, কারন শেষ রাতে জেলা শহরের পথঘাট পথিকে জন্য অনেকটাই অনিরাপদ। কিন্তু আর ঘুম এলো না। ব্যাগ ঘুচিয়ে নেমে এলাম। প্রথমে ভেবেছিলাম জনশূন্যতায় ভুগবে পথ-ঘাট। কিন্তু না! টার্মিনালে নামতেই দেখি একের পর এক লঞ্চ ভিড়ছে ঘাটে; আর চাঁদপুর যেন চির জাগ্রত। ঘাটে নেমে প্রিয় পানীয় মাঠা পেলাম। বিক্রেতা যেন আমি আসবো বলেই পরসা সাজিয়ে বসে আছে। পাশে ডিঙ্গিতে করে দলছুট জেলেরা ইলিশ বিক্রি করছে। বিয়ে করি নি বলে ইলিশ নিয়ে শশুরবাড়ি যাওয়ার বলাই নেই, তাই কিনলাম না; কিন্তু মনে মনে একে ভবিষ্যতের আবশ্যিক কর্ম হিসেবে ভেবে রাখলাম। কোথাও কোন শহরে-স্টেশনে নামলে আমার প্রথম চাওয়া থাকে চা পান। ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করি সিগারেটে টেনে ধোঁয়া ছাড়ায় আর চায়ের পেয়ালার ধোঁয়ার লহরিতে কর্তার বিশেষ নৈপুণ্য প্রকাশ পায়। চায়ের ক্ষেত্রে নিপুণ্যটা যেহতু কর্তা স্থান-পাত্রভেদে ভিন্নতা পায়, তাই কোথাও নেমে সর্বপ্রথম চায়ের স্বাদটাই নিই। খোঁজাখুঁজির বলাই পোহাতে হয় নি, হাতের নাগালেই পেয়ে গেলাম। চায়ের তেষ্টা মিটিয়ে ঘাটের রেলিংয়ে বসে গেলাম পুব আকাশে বর্ণালির পালাবদল আর নদী হতে বয়ে আসা মৃদু সমীরণ পেতে আর আলো ফুটলেই চলে যাবো কাজিনের বাসায়...

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

বিদায় অনুষ্ঠানের স্ক্রিপ্ট (নমুনা)

জনাব মোঃ আশরাফ উদ্দিন, রেক্টর বিপিএটিসি (সরকারের সচিব) , এঁর বিদায় অনুষ্ঠান, তারিখঃ ৩০-মে-২০২৪ ইং, সময়ঃ ১১.০০ ঘটিকা। বিদায় অনুষ্ঠানের সম্ভাব্য ক্রমধারা   ১) পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত  ২) কর্মচারী ক্লাব এর সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্য ৩ ) কর্মচারী ক্লাব এর সভাপতির বক্তব্য ৪ ) জনাব রাজীব কুমার ঢালী, সহকারী পরিচালক এর বক্তব্য ৫) বিপিএটিসি স্কুল এন্ড কলেজের পক্ষ হতে মান পত্র প্রদান ৬) জনাব শামীম হোসেন, উপপরিচালক এর বক্তব্য ৭) জনাব হাসান মূর্তাজা মাসুম, পরিচালক এর বক্তব্য ৮) বিপিএটিসি স্কুল এন্ড কলেজের পক্ষ হতে মান পত্র প্রদান ৯) আঞ্চলিক লোক-প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রসমূহের পক্ষ হতে উপ-পরিচালক, আঞ্চলিক লোক-প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, রাজশাহী এর বক্তব্য ১০) লেডিস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদিকা এর বক্তব্য ১১) জনাব মোঃ আশরাফুজ্জামান, প্রকল্প পরিচালক এর বক্তব্য ১২)  জনাব মোঃ শাহীনূর রহমান, এমডিএস এর বক্তব্য ১৩) জনাব  মোঃ মনিরুল ইসলাম, এমডিএস এর বক্তব্য ১৪) জনাব মোঃ জাকির হোসেন, এমডিএস এর বক্তব্য ১৫) বিদায়ী রেক্টর মহোদয়কে ফুল এবং বিদায়ী উপহার প্রদান  ...

সুবহানাল্লাহঃ পেন্সিল_আর্ট

 

বৈপরীত্য

হয়তো তার মৃত্যুর কথা মনে পড়ে; কারণ, বারেক আলী আবার সেই স্বপ্নটা দেখে,বারবার দেখে;যে স্বপ্নে লম্বা লেজওয়ালা একপাল বুনো কুকুর বা শেয়াল ধস্তাধস্তি করে ছিঁড়ে খায় তার ঝুলে পড়া চামড়ার কোঁচকানো শরীর।সময়ের বিবর্তনে শুকিয়ে আসা চামড়াবহুল শিকার হয়তো তাদের কাছে বিস্বাদ লাগে,ফলে চিবানোর পর গিলতে না পেরে বা দাঁতে না কাটায় ক্ষোভে বিরক্তিতে থুতুর মতো ছুঁড়ে দেয় আকাশের দিকে।কয়েক হাত দূরে গিয়ে সে থ্যাবড়ানো টুকরাগুলো ধূলার সাথে পলট দিয়ে দলা পাকায়।সারল মাংশ না পেয়ে তাদের হিংস্রতা চরমে ওঠে।ভগ্ন-নিথর ও অসহায় দেহটা টানাহেঁচড়া না করে সমর্পিত করে ক্ষুধার্ত হাড্ডিসার মুখগুলোর সামনে। বারেক আলী এ স্বপ্নটা শেষ হলে প্রতিদিনের মতো ভয় পায়,বুকে থুতু ছিঁটিয়ে বিড়বিড় করে---জলপানির ওয়াক্তে দ্যাকা স্বপন ছ্যাঁচা হয়!শব্দকটা শেষ হলে কেমন হাঁপিয়ে ওঠে, দাঁতহীন চোওয়ালের ফাঁক গলে ঘোগলা গড়াতে থাকে;সিথানের নোংরা ত্যানা দিয়ে তা মুছে, এবং নিজেকে চিমটি কেটে জীবিত না মৃত পরখ করার ইচ্ছা জাগে,কিন্তু করেনা;শনের ভাঙা বেড়ার ফাঁক দিয়ে ভোরের অরুণ রাঙা সূর্যের দিকে চেয়ে থাকে নির্লিপ্তভাবে। তবে আজ সে একটি স্বপ্ন বেশি দেখে,যা দেখার পরই সিদ্ধান্...