সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

হারানো সুর


জিবন সতত বহমান স্রোতস্বিনী! প্রবাহমান এই স্রোতস্বিনী জলেই একদিন ছেড়াপালে বাইয়ে এইঘাটে এসে ভেড়া; জীর্ণ সফরে পাথেয় ছিলো শুধু এক মুঠো স্বপ্ন। এরপর অন্য এক জিবন শুরু;  ক্যাম্পাস জিবন! আগের বইয়ের খাজে ভাজ করা সাদাকালো রুটিনমাফিক দিনের একমুখী গল্পের পাতাগুলো হঠাৎ রঙ্গিন হয়ে উঠে নানান রঙের ছোয়ায়। সুখ-দুঃখ, আশা-হতাশা, প্রেম-বিরহ! এখানে জিবনের গল্পটা বেশ মেতে উঠে রঙ্গের হোলিউৎসবে। সপ্তমুহনী জলের মিলিত ধারা; এখানে কেউ আর নিজের পুরোনো খোলাসে ধরে রাখতে পারে না, ছেলেবেলা থেকে একান্ত নিঃশ্চুপ ছেলেটিও এখানে তার নিশ্চুপতার নেকাবকে খুলে ফেলতে বাধ্য হয়; সারাবেলা সে টিএসসি-কলা ভবনে আড্ডায় তুখোড় গল্পকার হয়ে উঠে। বেসুরো গলা ভেবে যে কোনদিন গান ধরে নি, সেও রাতজাগা ক্যাম্পাসের গানে সবার সাথে গলা মেলায়; বেসুরো তার স্বরটি অন্য পাঁচটি সুরেলা স্বরে অন্তর্লীন হয়ে সুরেলা ঠাহর হয়। একান্ত পুরুষবাদী অথবা নারীবিবর্জিত সমাজে বেড়ে উঠা ছেলেটি কোন মেয়ের দিকে ফিরেও তাকাবে না শপথ নিলেও মনে অজান্তেই সে একদিন কাউকে প্রিয়া ভেবে বসে। চলমান রাজনীতিকে কাঠের চশমায় দেখলেও ছেলেটি শ্লোগানে-মিছিলে রাজপথকেই একদিন আপন করে নেয়। জিবনের প্রান্তরে এসে যখন জিবন প্রবাহ হঠাৎ অন্য গতিধারায় বইতে শুরু করে তখন সেখানে উপাবর্তন দেখা দেয়। পুরোনো নিজের সাথে নতুন নিজেকে খাপ খাইয়ে নিতে গিয়ে চরম অস্থিরতায় ভুগে, সাথে যোগ দেয় শহুরে-নব শহুরে দ্বন্দ্ব, মধ্যবিত্তের স্বাদ আর সাধ্যের জটিল সমীকরণ, পাওয়া না পাওয়ার হিসাবে বেজায় ফারাক এবং হাজারো আলেয়ার হাতছানি থেকে নিজের আলোটাকে খু্ঁজে বের করার প্রমত্ততা। সব মিলিয়ে সে হয়ে পড়ে বাইরে নিদারুণ শান্ত অথচ ভেতরে তুমুল অশান্ত। তবে এই অস্থির সময়ে তাকে সঙ্গ দেয় বেশ কিছু উচ্ছল প্রাণ! যারাও তার মতো একই পথের পথিক! দ্বান্দ্বিক জিবনে অসমান্তরাল তরঙ্গ কেটে বেড়ায় বন্দরের খোঁজে। এখানে সবার জিবনের গল্পগুলো হয়তো কিছুটা ভিন্নতর, তবে লক্ষ্য অর্জনের যাত্রাপথ পরস্পর সমান্তরাল। ফলে মিতালী গড়ে উঠে;  দিনমানে,সন্ধ্যা-সায়াহুতে তারাই হয়ে উঠে প্রিয়মুখ-চেনা স্বর।

দ্বান্দিক বহুতরঙ্গের ক্যাম্পাস জিবনটা একটা সময় শেষ হয়ে আসে। তবে এর সাথেই শুরু হয়ে যায় কর্মসংস্থানের চিন্তা এবং সেই কেন্দ্রীক প্রস্তুতি । ফলে মগ্নতার ধুসর চাদরে আচ্ছাদিত থাকতে কোন একদিন টের পায় অন্য এক জিবন শুরু হতে চলেছে। ক্লাস নেই, বন্ধুরা নেই, চায়ের গল্পে  সারথীরাও নেই। তখন রোজ ঘন সন্ধ্যায় অতীতের তীর হয়ে বয়ে আসা বাতাস দোলা দেয় হৃদয়ে, মনে পড়ে হারানো সুর। খুব মনে পড়ে বন্ধু সকলকে, আবছায়া গোধূলিতে তারা আসে স্মৃতির কুয়াশা নিয়ে। ক্যাম্পাসের দিনগুলো হয়তো এখানেই শেষ; তবে শেষ নয় বন্ধুত্বের গল্প।পরের কথা হবে চলতি পথে হঠাৎ দেখা হয়ে গেলে...অথবা অনেকদিন পরে... যখন চেহারার মানচিত্রটাই বদলে যাবে।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

বিদায় অনুষ্ঠানের স্ক্রিপ্ট (নমুনা)

জনাব মোঃ আশরাফ উদ্দিন, রেক্টর বিপিএটিসি (সরকারের সচিব) , এঁর বিদায় অনুষ্ঠান, তারিখঃ ৩০-মে-২০২৪ ইং, সময়ঃ ১১.০০ ঘটিকা। বিদায় অনুষ্ঠানের সম্ভাব্য ক্রমধারা   ১) পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত  ২) কর্মচারী ক্লাব এর সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্য ৩ ) কর্মচারী ক্লাব এর সভাপতির বক্তব্য ৪ ) জনাব রাজীব কুমার ঢালী, সহকারী পরিচালক এর বক্তব্য ৫) বিপিএটিসি স্কুল এন্ড কলেজের পক্ষ হতে মান পত্র প্রদান ৬) জনাব শামীম হোসেন, উপপরিচালক এর বক্তব্য ৭) জনাব হাসান মূর্তাজা মাসুম, পরিচালক এর বক্তব্য ৮) বিপিএটিসি স্কুল এন্ড কলেজের পক্ষ হতে মান পত্র প্রদান ৯) আঞ্চলিক লোক-প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রসমূহের পক্ষ হতে উপ-পরিচালক, আঞ্চলিক লোক-প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, রাজশাহী এর বক্তব্য ১০) লেডিস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদিকা এর বক্তব্য ১১) জনাব মোঃ আশরাফুজ্জামান, প্রকল্প পরিচালক এর বক্তব্য ১২)  জনাব মোঃ শাহীনূর রহমান, এমডিএস এর বক্তব্য ১৩) জনাব  মোঃ মনিরুল ইসলাম, এমডিএস এর বক্তব্য ১৪) জনাব মোঃ জাকির হোসেন, এমডিএস এর বক্তব্য ১৫) বিদায়ী রেক্টর মহোদয়কে ফুল এবং বিদায়ী উপহার প্রদান  ...

সুবহানাল্লাহঃ পেন্সিল_আর্ট

 

বৈপরীত্য

হয়তো তার মৃত্যুর কথা মনে পড়ে; কারণ, বারেক আলী আবার সেই স্বপ্নটা দেখে,বারবার দেখে;যে স্বপ্নে লম্বা লেজওয়ালা একপাল বুনো কুকুর বা শেয়াল ধস্তাধস্তি করে ছিঁড়ে খায় তার ঝুলে পড়া চামড়ার কোঁচকানো শরীর।সময়ের বিবর্তনে শুকিয়ে আসা চামড়াবহুল শিকার হয়তো তাদের কাছে বিস্বাদ লাগে,ফলে চিবানোর পর গিলতে না পেরে বা দাঁতে না কাটায় ক্ষোভে বিরক্তিতে থুতুর মতো ছুঁড়ে দেয় আকাশের দিকে।কয়েক হাত দূরে গিয়ে সে থ্যাবড়ানো টুকরাগুলো ধূলার সাথে পলট দিয়ে দলা পাকায়।সারল মাংশ না পেয়ে তাদের হিংস্রতা চরমে ওঠে।ভগ্ন-নিথর ও অসহায় দেহটা টানাহেঁচড়া না করে সমর্পিত করে ক্ষুধার্ত হাড্ডিসার মুখগুলোর সামনে। বারেক আলী এ স্বপ্নটা শেষ হলে প্রতিদিনের মতো ভয় পায়,বুকে থুতু ছিঁটিয়ে বিড়বিড় করে---জলপানির ওয়াক্তে দ্যাকা স্বপন ছ্যাঁচা হয়!শব্দকটা শেষ হলে কেমন হাঁপিয়ে ওঠে, দাঁতহীন চোওয়ালের ফাঁক গলে ঘোগলা গড়াতে থাকে;সিথানের নোংরা ত্যানা দিয়ে তা মুছে, এবং নিজেকে চিমটি কেটে জীবিত না মৃত পরখ করার ইচ্ছা জাগে,কিন্তু করেনা;শনের ভাঙা বেড়ার ফাঁক দিয়ে ভোরের অরুণ রাঙা সূর্যের দিকে চেয়ে থাকে নির্লিপ্তভাবে। তবে আজ সে একটি স্বপ্ন বেশি দেখে,যা দেখার পরই সিদ্ধান্...