দিন ফুরানোর গল্প বলা শুরু হলো। আজ ছিলো অনার্স জীবনের শেষ মিড টার্ম। পরীক্ষাটি নিয়ে বলার মতো বিশেষ কিছু নেই, তবে গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত খুব কামনা করছিলাম পরীক্ষাটি যেন ক্যান্সেল হয়, যাতে ডাকাতিয়া\"র নৌবিহারে ও ইলিশভোজনে যেতে পারি, পরে কপালে আর ইলিশ ভোজন জুটলো না, জুটলো সাদা কাগজ। এবার বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের ১ম বর্ষে মিড ও আজকের সর্বশেষ মিডের একটা তুলনামূলক দৃশ্যপট তুলে ধরবো।
১ম বর্ষের মিড:
স্যার যা পড়িয়েছেন ছেলেরা তার প্রায় প্রত্যেকটা টপিক ২/৩ বার করে নোট করে নিয়েছে। বড় ভাইদের কাছ থেকে প্রাপ্ত নোট আর গুগুল দুনিয়া কাপিয়ে লদ্ধ করা জ্ঞান তখন খাতা উপচে পড়ছে। পরীক্ষা হলে ঢুকার আগে দেখা গেলো, একদল মেধাবী জটলা থেকে দুরে দুরে অবস্থান করছে যদি আমার নোট কেউ পেয়ে যায়! আর কিছু কিছু বিদ্ধানকে ঘিরে বেশ কিছু জটলা বেধেছে, বিদ্ধান মশাই সবাই বলছেন "হ্যাঁ, এই পয়েন্টটা আসতে পারে। এটাকে এভাবে এভাবে লিখো।" কাটায় কাটায় পরীক্ষার ঘন্টা বাজতেই সবাই লেকচার-নোট সব ফেলে কালিমা-দুরুদ পড়তে পড়তে হল রুমে ঢুকলো। তীব্র উত্তেজনাকর দেড়ঘন্টা পরীক্ষা শেষ হতে হতে সবাই ঘর্মাক্ত হয়ে যায়। বের হয়ে এবার অন্য প্রলয় শুরু হয়ে যায় কে কয় পেজ লিখেছে, কয়টি পয়েন্ট পেরেছে, লুজ কয়টা নিতে পারলো তা গননায়।
শেষ বর্ষের সর্বশেষ মিড:
প্রথমত গতরাত পর্যন্ত অনেকেই কনফিউজড, পরীক্ষাটি কি অধৌ হবে? গ্রুপেও ছোট খাট একটা রেভু্ল্যুশন চললো এই নিয়ে। কিন্তু সন্ধ্যায় টি.এ. সাইফের ফাইনাল স্ট্যাটাস আসলো স্যার পরীক্ষা নিবেন। এবার সবার টনট নড়লো। বিশেষ করে গতোবারের মিড ও ফাইনালে এই কোর্সের প্রশ্ন কি ছিলো তার বড্ড খোঁজ পড়ে গেলো। সকাল বেলায় ফাকা কলা ভবনের (পূজার ছুটিবসত) একমাত্র জীবিত প্রাজাতী হিসেবে ৮ম ব্যাচের সবাই এলো পরীক্ষা দিতে। সর্বসাধারনের মুখে তেমন কোন উত্তাপ দেখা গলো না, সর্বোচ্ছ সবাই স্লাইডগুলো শোষবারের মতো একবার নজর বুলিয়ে নিচ্ছে। ঘন্টি পড়ে গেলে "দুর এতো পইড়া কি হইবো আর" মন্তব্য করে এক্সাম হলে ঢুকার জন্য পাশে ফিরলাম। পাশ থেকে জবাব এলো " হঁ, তোমার না হয় সি.জিপি.এ. এর কিচ্ছু হবে না, কিন্তু আমাদেরটা তো কমবে।" ফিরে দেখি নোট খাতা হাতে দাড়াঁয়া মামা আদনান সেই পড়া লাগাইসে। টীকা-নোট করে খাতা পুরা কাঁপায়া দিসে। যাকগে, পরীক্ষার হলের ভেতরে ঢুকে ক\"টা টেবিল নাড়িয়ে দেখলাম, নাড়ে না এমন একটা টেবিল পেয়ে বসে পড়লাম ডানে সাইদ আর সামনে মোটা মামুনকে রেখে। পেচনে মুহিব এসে বসলে আলাপ জুড়ে দিলাম পূজার বন্ধে কোথায় যাওয়া যায় সেই গল্পে। টেবিলপ্রতি স্ক্রিপ্ট পাঠিয়ে দেয়া হলো। তখনো অনেকে হলে ঢুকছে, পাশ দিয়ে শাফি স্ক্রীপ্ট হাতে নিয়ে গান গাইতে গাইতে পিছনে গেলো "দেখাতো তুযে ইয়ার দিল মে বাঝে... "। প্রশ্নপত্র হাতে পড়লে সবার লিখা শুরু।
স্যার বেধে দেয়া ৭০ মিনিট শেষ হতে চললো। শেষ ২/৩ আগেও অনেকে আরো একটা লুজ নেয়ার চেষ্টা করলো। পরীক্ষা শেষ করে খাতা জমা দিয়ে বের হতে যাবো, এবারো শাফির কন্ঠ শোনা গেলো "পরীক্ষা খারাপ দিসি নাকি দোস্ত! স্যার চাইলে ১৩/১৪ এমনিতেই দিতে পারে।" হল থেকে বের হলাম। দু-চার এ, ওকে জিজ্ঞেস করে জানতে চাইলো কোনটা কোনটা দিয়েছে। ব্যাস আর কিছুই না। কেউ জিগ্গেস করলো না "দোস্ত, কি কি পয়েন্ট লিখেছিস অথবা কাউকে দেখলাম না দু\"একটা পয়েন্ট মিস করেছে বলে ব্যাপক হায়-হুতাশা প্রকাশ করতে। প্রশ্নটাও আবার খুলে দেখি নি, ভাজ করে পুরে দিয়েছি প্ল্যান্টের চিপায়। রুমে এসেও আর লেকচার খাতা খুলে দেখিনি, কি দিলাম, কি বাদ গেলো। মনে মনে মান্নতও করা হয়নি "আল্লাহ ভালো মার্ক পেলে দু\"রাকাত নফল নামায পড়বো।" অথচ সেই ফার্ষ্ট ইয়ারে.....টেনশনে ১/২ ঘুমই হতো না।..... দিনগুলো চলে গেলো পাষাণ প্রিয়ার মতো...
good old days. ekhn bujhtesi koto sundor ar shantite din kataitam tokhn.
উত্তরমুছুন